Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নির্বাচনের আগে দেশে ফিরছেন না জোবায়দা রহমান

লন্ডনে বসবাসরত ডা. জোবায়দার একাধিক স্বজন ও পারিবারিকভাবে যোগাযোগ রয়েছে এমন সূত্র জানায়, ‘আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়া তো দূরের কথা, শিগগিরই দেশে ফেরারও কোনও সম্ভাবনা নেই জোবায়দা রহমানের।’

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৩:৪৩ পিএম

কারাগারে বন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বা তার ছেলে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তারেক রহমান আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে তারেকের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশ নেবেন এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। সিলেট ও বগুড়ার দুটি আসন থেকে তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন- বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ রকম সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। তবে তার ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, ‘দেশের পরিস্থিতির নাটকীয় কোনও পরিবর্তন না ঘটলে আগামী নির্বাচনের আগে তিনি দেশে ফিরছেন না- এটা নিশ্চিত।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জোবায়দা রহমান বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন; এমন আলোচনা দলের ভেতরে-বাইরে দীর্ঘদিনের। দলের নীতিনির্ধারকদের একটি অংশও খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের অবর্তমানে ডা. জোবায়দাকে দেশে ফেরাতে আগ্রহী। তারা চান, দুই শীর্ষ নেতার অবর্তমানে জিয়া পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে ডা. জোবায়দা দলের দুঃসময়ে সক্রিয় হবেন। পরিচ্ছন্ন ইমেজের জোবায়দা বিএনপিতে সক্রিয় হলে দল লাভবান হবে, এমন আশা দলীয় নেতাকর্মীদের।

তবে লন্ডনে বসবাসরত ডা. জোবায়দার একাধিক স্বজন ও পারিবারিকভাবে যোগাযোগ রয়েছে এমন সূত্র জানায়, ‘আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়া তো দূরের কথা, শিগগিরই দেশে ফেরারও কোনও সম্ভাবনা নেই জোবায়দা রহমানের।’

সূত্রগুলো জানায়, ডা. জোবায়দা দেশে ফিরে সরাসরি নির্বাচনে অংশ না নিলেও দলীয় প্রচারে থাকলে দল লাভবান হতো। নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হতেন। কিন্তু দলের হাইকমান্ড ডা. জোবায়দাকে রাজনীতিতে সক্রিয় করার চেয়ে তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান বা তার প্রয়াত ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর বড় মেয়ে জাহিয়া রহমানকে দেশের রাজনীতির সঙ্গে আস্তে আস্তে পরিচয় করিয়ে দিতে আগ্রহী।

আরাফাত রহমান কোকোর দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমান বর্তমানে লন্ডনে লেখাপড়া করছেন। মায়ের সঙ্গে লন্ডনে বসবাস করলেও ছুটিতে নিয়মিতই দেশে আসছেন তারা। দেশে অবস্থানকালে কারাবন্দি দাদি খালেদা জিয়াকে দেখতে কারাগারে নিয়মিত যাচ্ছেন তারা। এসব কারণে তারেক রহমানকে ছাড়া সহসা একা দেশে ফেরার কোনও সম্ভাবনা নেই জোবায়দা রহমানের।

প্রসঙ্গত, ডা. জোবায়দা সাবেক মন্ত্রী মরহুম রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের মেয়ে। তার বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমায়। জোবায়দা রহমানের সঙ্গে লন্ডনে পারিবারিকভাবে সম্পৃক্ত একটি সূত্র জানায়, জোবাইদার বাবা মাহবুব আলী খান জাগদলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে ক্ষমতা দখলের পর বিএনপি প্রতিষ্ঠার আগে জিয়াউর রহমান জাগদল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরে ওই দল বাতিল করে বিএনপি নামে নতুন দল গঠন করেন তিনি।

১৯৮২ সালে দেশে সামরিক আইন জারির মধ্যেই মাহবুব আলী খান উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত হন এবং যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ছিলেন। ১৯৮২ সালের ১০ জুলাই থেকে ১৯৮৪ সালের ১ জুন পর্যন্ত তিনি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সরকারের কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

তারেক-জোবাইদা দস্পতি লন্ডন প্রবাসী হওয়ার পর দলের নেতাকর্মীরা লন্ডনে মাহবুব আলী খান স্মৃতি সংসদ গঠন করেছেন। এ সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে স্ত্রীকে নিয়ে নিয়মিত অংশ নেন তারেক রহমান। লন্ডনে স্বামীর সঙ্গে বিয়ে, মিলাদ মাহফিল ও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়সহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও নিয়মিত অংশ নিয়ে থাকেন ডা. জোবায়দা।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করা ডা. জোবাইদা ১৯৯৫ সালে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দেন। এক-এগারোর সময়ে ডা. জোবায়দা জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে এমডি (কার্ডিওলজি) কোর্সের তৃতীয় পর্বে অধ্যয়নরত অবস্থায় অসুস্থ স্বামীর উন্নত চিকিৎসার জন্য ছুটি নিয়ে যুক্তরাজ্যে আসেন।

যুক্তরাজ্যে আসার পর জোবায়দা ইমপেরিয়াল কলেজ অব লন্ডন থেকে চার বছরের মাস্টার্স অব কার্ডিওলজিতে শতকরা ৮৩ ভাগ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান লাভ করেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), কমনওয়েলথভুক্ত দেশ, নাইজেরিয়া, চীনসহ মোট ৫৫টি দেশের ছাত্রছাত্রীরা এই কোর্সে অংশ নিয়েছিলেন। গত ১০ বছরে ডা. জোবায়দা একবারও দেশে ফেরেননি।



সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

About

Popular Links