Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জাতীয় সংসদ নির্বাচন : খুলনায় গোপন প্রচারণায় বিভিন্ন দলের মনোনয়ন প্রার্থীরা

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মাঝে চাপা কোন্দল রয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোটেও দ্বন্দ্ব রয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্বন্দ্ব সংঘাত প্রকাশ্য রূপ নিয়ে সংঘর্ষের আশঙ্কা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৪:০৩ পিএম

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী ও বিএনপি-জামায়াত জোটে একাধিক প্রার্থী সক্রিয় রয়েছেন। এ দুটি জোটের ৬ জন প্রার্থী নিভৃতে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। 

তবে, সকলেই দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে চান। এদের প্রচারণা প্রকাশ্য রূপ পাওয়ার সাথে ডুমুরিয়া ও ফুলতলায় রাজনৈতিক ময়দান উত্তপ্ত হয়ে উঠতে শুরু করেছে। 

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মাঝে চাপা কোন্দল রয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোটেও দ্বন্দ্ব রয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্বন্দ্ব সংঘাত প্রকাশ্য রূপ নিয়ে সংঘর্ষের আশঙ্কা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। 

সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি এবং খুলনা জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ- সভাপতি ড. এম মাহাবুব উল ইসলাম, জামায়াত ইসলামী নেতা সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার, খুলনা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. গাজী আব্দুল হক, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নেতা ড. মামুন রহমান, ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি খান আলী মুনসুর।

উল্লেখ্য, খুলনা-৫ আসনে সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সালাউদ্দিন ইউসুফ’র মৃত্যুর পর উপ-নির্বাচনে অংশ নিয়ে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। ২০০৮ সালের ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এমপি নির্বাচিত হন এবং ২০১৩ সালের ১০ম জাতীয় নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন। 

বর্তমানে তিনি মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিভিন্ন কারণে তিনি ইমেজ সংকটে ভুগছেন বলে দলীয় তৃণমূল থেকে দাবি করা হচ্ছে। এ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠ পর্যায়ে জোরালো প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন খুলনা জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ- সভাপতি ড. এম মাহাবুব উল ইসলাম। ইতোমধ্যে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন। তিনি প্রচার প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন বলে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা মনে করেন।

মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী ও ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ’র সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি মনোনয়ন প্রাপ্তির ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি জানান, জনগণ তাকে একাধিক বার নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন পেলে এলাকার উন্নয়ন কর্মকান্ড এবং মানুষের ভালবাসায় আবারও তিনি নির্বাচিত হবেন এবং প্রতিশ্রুতির বাকী কাজ সুসম্পন্ন করতে সক্ষম হবেন। 

খুলনা জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ- সভাপতি ড. এম মাহাবুব উল ইসলাম বলেন, মানুষের পাশে থাকার জন্যই এলাকায় বিভিন্ন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত থাকছেন। এলাকাবাসীর যে কোন সমস্যায় পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। আসন্ন নির্বাচনে দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। দলীয় সমর্থন পেলে নির্বাচনে তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। 

জানা গেছে, ২০০১ সালের নির্বাচনে জামায়াত নেতা গোলাম পরোয়ার বর্তমান এমপি মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারও তিনি জোটের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। 

কিন্তু এ আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। বিএনপি এবার কোনভাবেই জামায়াতকে ছাড় দিতে চায় না। তবে, শেষ পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে আসলে মিয়া গোলাম পরোয়ারই মনোনয়ন পেতে পারেন বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

খুলনা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. গাজী আব্দুল হক বলেন, অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে সৃষ্টি করতে হবে। যাতে মানুষ আস্থা ফিরে পায়। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে-নির্বাচন কমিশনকে জনগণের এমন আস্থা ফেরাতে হবে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ি দেশে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হলে মনোনয়ন চাইবেন খুলনা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. গাজী আব্দুল হক, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নেতা ড. মামুন রহমান, ডুমুরিয়া ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি খান আলী মুনসুর বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে বিএনপির নির্বাচনে যাওয়ার সম্ভাবনা এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। তবে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার জন্য সব রকম প্রস্তুতি তৃণমূলে রয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে দাবি বাস্তবায়ন হলে বিএনপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবে। সে ক্ষেত্রে তিনি দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন। দলীয় মনোনয়ন নিয়েই ভোটারদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হবেন বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

About

Popular Links