Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

হেফাজত থেকে পদত্যাগ করছেন না মাওলানা আউয়াল

যদিও মাওলানা আব্দুল আউয়ালের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২১, ১১:০৪ এএম

হেফাজতের পদ ছাড়ার ঘোষণা প্রত্যাহার করেছেন হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল আউয়াল।

বুধবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যায় ডিআইটিতে অবস্থিত রেলওয়ে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে প্রায় আড়াই ঘণ্টা আলোচনা শেষে হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক আল্লামা মামুনুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরী কমিটির সভাপতি জোনায়েদ আল হাবীব, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব নাসির উদ্দিন মনির, সহকারী যুগ্ম মহাসচিব ফজলুল করীম কাশেমীসহ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহাগর হেফাজতে ইসলামের নেতারা।

এর আগে বিকেলে হেফাজতের কেন্দ্রীয় আমীর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জ নগরীর ডিআইটি জামে মসজিদে মাওলানা আব্দুল আউয়ালের সাথে দেখা করে দীর্ঘ আলোচনা করেন একটি প্রতিনিধি দল। 

এ সময় তিনি নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কথা উল্লেখ করে আগামীতে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর হেফাজতে ইসলাম এক সাথে কাজ করবে বলে জানান। যদিও মাওলানা আব্দুল আউয়ালের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি।

মামুনুল হক সাংবাদিকদের জানান, হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় আমীর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর পক্ষ থেকে চারজনের একটি প্রতিনিধি দল নারায়ণগঞ্জে এসেছি, কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল আউয়ার সাহেবের সাথে দেখা করতে।

আমাদের কথা আমীরে হেফাজতের (বাবুনগরী) কথা ও ব্যক্তিগত অনুরোধের প্রেক্ষিতে আব্দুল আউয়াল সাহেব যে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন সে ঘোষণা প্রত্যাহার করেছেন। আমাদের সাথে হুজুর যেভাবে কাজ করেছেন সেভাবে কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও নারায়ণগঞ্জের সভাপতি হিসেবে আগামী দিনে তার দায়িত্ব পালন করবেন। এখানে যে ভুল বোঝাবুঝি, মান-অভিমানের বিষয় ছিলো সেগুলো সমাধান হয়ে গেছে। সামনের দিনে ঐক্যবদ্ধভাবে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর এবং কেন্দ্রীয় সকল কার্যক্রম পরিচালনা হবে।

এ সময় সাংবাদকিদের এক প্রশ্নের জবাবে দলটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেন, হরতালে সারাদেশে সহিংসতার দায় হেফাজতে ইসলাম নেবে না। হরতাল কর্মসূচিতে সারাদেশে হেফাজতে ইসলামের শান্তিপূর্ণ অবস্থান ছিল। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেভাবে উৎখাত করার চেষ্টা করেছে তা অগণতান্ত্রিক আচরণ। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আগেও বলেছি এখনও বলবো, তারা যেন গায়ের জোরে বা বন্দুকের নলের জোরে জনগণের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়।

এ সময় হরতালে সারাদেশে সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর  সড়ক অবরোধ, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও দায়িত্বরত সাংবাদিকদের মারধরের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মামুনুল হক বলেন, সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনা বা সহিংসতার কোনো ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের কেউ সম্পৃক্ত থাকতে পারে না। কারণ হেফাজতে ইসলাম আগাগোড়াই সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। সাংবাদিকদের তারা মূল্যায়ন করে ও সাংবাদিকদের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখার ব্যাপারে হেফাজতে ইসলাম সবসময় আন্তরিক।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হেফাজত ইসলামের কর্মীরা কোনো সহিংসতায় জড়ায়নি বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আক্রমণ চালিয়েছে বলে দাবি করে কেন্দ্রীয় এ নেতা বলেন, কোথাও হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে কোনো ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও আক্রমণাত্মক ঘটনা ঘটেনি। বরং আমাদের রাজপথের অবস্থানকে প্রত্যাহার ও উৎখাত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হেফাজতে ইসলামের দায়িত্বশীল কর্মীদের উপর আক্রমণ চালিয়েছে।  

এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঘটে যাওয়া সহিংসতা প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কিছু ঘটনা ঘটেছে যা স্থানীয়দের ক্ষোভের কারণে হয়েছে।  কারণ তাদের স্বজনরা আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন। কিন্তু শহীদদের জানাজা পড়া ও সুন্দরভাবে দাফন করার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বাধা প্রতিবন্ধকতাসহ নানা টালবাহানা করা হয়েছে। যার কারণে সেখানে কিছু ক্ষোভ সঞ্চারিত হয়েছে এবং বাধার প্রেক্ষিতে স্থানীয় সংঘাত থাকতে পারে। তার জন্য হেফাজত ইসলাম এ দায় নেবে না।

প্রসঙ্গত, রবিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশে আসাকে কেন্দ্র করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হতাহতের ঘটনার প্রতিবাদে  হেফাজত ইসলামের দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতালকে কেন্দ্র করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ি ভাঙচুর, দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। হরতালে  মারধরের শিকার হয় প্রায় ১০-১২ জন্য সাংবাদিক। এছাড়া দফায় দফায় পুলিশ,সাংবাদিক,চিকিৎসক, পথচারীসহ প্রায় ২৫-৩০ জন আহত হয়। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয় ৩ জন।

এ ঘটনায় প্রায় ১৮ টি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়। এছাড়া ২টি ট্রাকের গ্লাস ভাঙচুর ও চ্যানেল নিউজ ২৪ এর গাড়িসহ শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৪০০০ রাউন্ড গুলি (রাবার, সিসা, চাইনিজ রাইফেল) ও  প্রায় এক থেকে দেড়শটি কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।  

এ হরতালকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনা, সরকারি কাজে বাধা, ভাঙচুরের অভিযোগে গত ২৮ ও ২৯ মার্চ রূপগঞ্জ,সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় পুলিশ ও র‌্যাবে বাদী হয়ে সাতটি মামলায় বিএনপি-জামাতের নেতা-কর্মীসহ ১৬৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৩৬৬১ অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

এদিকে হরতালের সহিংসতা ও দলে নেতাকর্মীদের প্রতি ক্ষুদ্ধ হয়ে সোমবার (২৯ মার্চ) রাতে পবিত্র শবে বরাতের বয়ানে হেফাজতে ইসলাম নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি মাওলানা আবদুল আউয়াল সংগঠন থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।


About

Popular Links