Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে আওয়ামী লীগের যত প্রস্তাব

আওয়ামী লীগ তাদের প্রস্তাবে বলেছে, ‘নির্বাচনে পেশি শক্তির ব্যবহার বন্ধ এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুসহ সব স্তরের ভোটাররা যাতে সঠিকভাবে তাদের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে’

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২২, ১২:০৭ এএম

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে চলমান সংলাপের ১৭তম দিনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশন আইন, নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করা এবং নির্বাচনের প্রযুক্তি ব্যবহারের উপর গুরুত্বারোপ করে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব দিয়েছে।

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতির আহবানে চলমান সংলাপের শেষ দিনে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে বসেন।

বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, “আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সংলাপে যোগ দেয়। সংলাপের কয়েক ঘণ্টা আগে মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠকে ইসি গঠনের বিষয়ে একটি খসড়া আইন অনুমোদন দেওয়া হয়।”

প্রেস সচিব জানান, আওয়ামী লীগ তাদের প্রস্তাবে বলেছে, সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতি যে প্রক্রিয়া উপযুক্ত মনে করবেন সে মোতাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য কমিশনার নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছে। আরেক প্রস্তাবে বলা হয়, প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তার ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে শুধু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ দেওয়া।

প্রতিটি নির্বাচন অবাধ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু করতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোরও প্রস্তাব করে প্রতিনিধি দল।

নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে একটি স্বাধীন ও কার্যকর ইসি অপরিহার্য। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা যেন নিরপেক্ষ হয় তা নিশ্চিত করা লাগবে। প্রত্যেক ভোটারের নামের সঙ্গে ছবি যুক্ত করে ভোটার তালিকা নির্ভুল করা এবং ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভোটগ্রহণে ইভিএমের অধিক ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।

নির্বাচনে পেশি শক্তির ব্যবহার বন্ধ এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুসহ সব স্তরের ভোটাররা যাতে সঠিকভাবে তাদের অধিকার প্রয়োগ করতে পারে তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায় দলটি। প্রতিনিধি দল নির্বাচনের আগে ও পরে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে।

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ায় রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানান, তার দল ও সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করতে এবং জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।

প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে জানান, সোমবার মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠকে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠন সংক্রান্ত একটি আইনের খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আইন প্রণয়নের অন্যান্য প্রক্রিয়া শিগগিরই সম্পন্ন হবে বলেও জানান তিনি।

ইসি গঠনের বিষয়ে মতামত দেওয়ায় আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, “সংবিধান অনুযায়ী দ্রুত ইসি গঠন করতে হবে। ইতোমধ্যে ২৫টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন গঠনের পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

মন্ত্রিসভার বৈঠকে নির্বাচন কমিশন গঠন সংক্রান্ত খসড়া আইন অনুমোদন দেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি। শিগগিরই সংসদে আইনটি পাস হবে এবং আইনে জনমতের প্রতিফলন ঘটবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।

প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন-আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ড. মুহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব. ) মুহাম্মদ ফারুক খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে ইসি গঠনের বিষয়ে সংলাপের মধ্য দিয়ে গত বছরের ২০ ডিসেম্বর শুরু হওয়া সংলাপের ইতি টেনেছেন রাষ্ট্রপতি।

বঙ্গভবনের প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, সংলাপে ৩২টি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এতে ২৫টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। তবে বিএনপিসহ সাতটি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি।

About

Popular Links