Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

খুন হওয়া যশোরের বিএনপি নেতা আবু বক্করের দাফন সম্পন্ন

২১ নভেম্বর সন্ধ্যায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ বুড়িগঙ্গা নদী থেকে অজ্ঞাত হিসেবে তার লাশ উদ্ধার করে

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:০১ পিএম

ঢাকায় খুন হওয়া যশোর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও মজিদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু বক্কর আবুর নামাজে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। 

এ নেতার মরদেহ আসার খবর শুনে শুক্রবার তার বাড়িতে জড়ো হন কেশবপুরের বিভিন্ন এলাকার মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা। 

পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়দের ধারণা, মনোনয়ন ক্রয় বা রাজনৈতিক কারণেই তিনি অপহরণ ও হত্যার শিকার হয়েছেন। তবে বিএনপি নেতারা বলছেন, তিনি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার।

শুক্রবার বেলা সাড়ে বারোটার দিকে আবু বক্কর আবুর লাশ ঢাকা থেকে কেশবপুরে তার নিজ বাড়ি বাগদাহ গ্রামে আনা হয়। বিকেলে উপজেলার পাবলিক ময়দানে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন। এরপর গ্রামের বাড়িতে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নিহতের ভাই আবুল কাশেম ও বোন আঞ্জুমানারা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, তার ভাই যদি সাধারণ কৃষক হতেন, তাহলে এভাবে খুন হতেন না। অপহরণকারীরা দুই দফায় আমাদের কাছ থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়েছে। ভাইকে ছেড়ে দেবে বললেও তারা তাকে খুন করলো।

তারা বলেন, শুধুমাত্র রাজনীতি করার কারণেই আমাদের ভাইকে খুন করা হয়েছে; তা নিজদল হোক বা অন্য কোনও দলের লোক হোক। 

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, আবু ভাই খুবই সজ্জন মানুষ ছিলেন। জনপ্রিয় ছিলেন বিধায় ২০-২২ বছর ধরে তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী যে তাকে হতেই হবে- এমন মানসিকতার মানুষ তিনি ছিলেন না। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, মনোনয়ন তিনি চাইতেই পারেন। 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আবু ভাই অপহৃত হওয়ার পর তার ভাইয়ের ছেলে থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। তিনি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের সর্বশেষ শিকার। 

তিনি তদন্তের মাধ্যমে এ হত্যকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী হওয়ার জন্য বিএনপির মনোনয়ন ফরম কিনতে গত সপ্তাহে আবু বক্কর আবু ঢাকা যান। ক্রয় করেন মনোনয়ন ফরমও। ১৯ নভেম্বর সাক্ষাৎকারের আগেরদিন ১৮ নভেম্বর রাতে ঢাকার বিজয়নগর এলাকার একটি হোটেলের সামনে থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর ২১ নভেম্বর সন্ধ্যায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ বুড়িগঙ্গা নদী থেকে অজ্ঞাত হিসেবে তার লাশ উদ্ধার করে। ২২ নভেম্বর রাতে পুলিশের দেওয়া ফেসবুকে পোস্ট দেখে পরিবারের সদস্য ও দলীয় নেতাকর্মীরা আবু বক্করের লাশ শনাক্ত করেন। 



About

Popular Links