Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শেখ হাসিনা: বিএনপি আমলে ছিল ১০টা হুন্ডা, ২০টা গুন্ডা, নির্বাচন ঠাণ্ডা

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ভোট চুরি করা লাগে না। কাজের মধ্য দিয়ে, জনগণের আস্থা-বিশ্বাস অর্জনের মধ্য দিয়ে জনগণের আওয়ামী লীগ ভোট পায়

আপডেট : ২২ জুন ২০২৩, ০১:৪৭ পিএম

দলের প্রার্থীকে মেয়র নির্বাচিত করায় রাজশাহী ও সিলেটবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছেন, “বরিশালেও আমরা জয়লাভ করেছি এবং কক্সবাজারের মেয়র ইলেকশনসহ বিভিন্ন ইলেকশনে এবং এই নির্বাচন নিয়ে কারো কোনো কথা বলা বা অভিযোগ করতে পারবে না। আজকে যারাই নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলে তাদের বলব, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচন যাতে স্বচ্ছ হয়, নির্বাচনে মানুষ যাতে ভোট দিতে পারে সেভাবে আমরা যে ব্যবস্থা করতে পারি, সেটা কিন্তু আমরা প্রমাণ করেছি।”

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, “বিএনপির আমলে নির্বাচন মানে কী ছিল? প্রত্যেকটা উপনির্বাচন মানে ছিল সেই ১০টা হুন্ডা, ২০টা গুন্ডা, নির্বাচন ঠান্ডা।”

বৃহস্পতিবার (২২ জুন) সকালে গণভবনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা শুরুর আগে তিনি এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, “আওয়ামী লীগের ভোট চুরি করা লাগে না। কাজের মধ্য দিয়ে, জনগণের আস্থা-বিশ্বাস অর্জনের মধ্য দিয়ে জনগণের আওয়ামী লীগ ভোট পায়।”

শেখ হাসিনা বলেন, “এ দেশে বিএনপিই ভোট চুরির রীতি শুরু করে। বিএনপি প্রতিষ্ঠা হয়েছিল একটি মিলিটারি ডিক্টেটরের পকেট থেকে ক্যান্টনমেন্টে বসে। ক্ষমতায় বসে থেকে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে, জনগণের ভোট কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমেই কিন্তু জিয়াউর রহমান তার অবৈধ ক্ষমতা বৈধ করার প্রয়াস পায়।”

তিনি আরও বলেন, “জিয়ার মৃত্যুর পরে ১৯৮১ সালে একটি নির্বাচন হলো, সেই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন জাস্টিস সাত্তার। সেখানেও ব্যাপকভাবে ভোট কারচুপি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর ওপর অকথ্য অত্যাচার-নির্যাতন। এমনকি ঘর-বাড়ি পোড়ানো থেকে শুরু করে এহেন কাজ নাই তারা না করেছে। এভাবে করে যখন ক্ষমতায় এলো কিন্তু সে ক্ষমতা বেশি দিন টেকাতে পারেনি।”

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, “মানুষের ভোটের অধিকার সুনিশ্চিত করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। আওয়ামী লীগ যখনই সরকারে এসেছে, তখনই এবং বিরোধী দলে থেকে সংগ্রাম করেছে। বিএনপি একটি দল! কী দল? জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে এই দলটি সৃষ্টি করে। ঠিক একইসঙ্গে যাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল—সেই যুদ্ধাপরাধী; যাদের বিচার জাতির পিতা শুরুও করেছিলেন। যাদের সাজা হয়েছিল এবং অনেকে কারাবন্দি ছিল। অনেকে পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে পাকিস্তানে চলে গিয়েছিল বা বিদেশে চলে গিয়েছিল। বাংলাদেশকে যারা স্বীকারই করেনি। তাদেরকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিল জিয়াউর রহমান।”

তিনি বলেন, “আমরা কখনো মানবাধিকার লঙ্ঘন না, সুরক্ষা করেছি।”

শেখ হাসিনা বলেন, “সেই সন্ত্রাসী সংগঠন আজকে আন্দোলন করে, আজকে তারা আমাদের ভোট চোরও বলে। আওয়ামী লীগের ভোট চুরি করা লাগে না। আওয়ামী লীগ জনগণের ভোট পায় আওয়ামী লীগের কাজের মধ্য দিয়ে, জনগণের আস্থা-বিশ্বাস অর্জনের মধ্য দিয়ে। আওয়ামী লীগকে যতবার হারানো হয়েছে ততবার একটা চক্রান্ত করেই হারানো হয়েছে। বরং জনগণের ভোট ডাকাতি করে নিয়ে আওয়ামী লীগকে ভোট পেতে দেয়নি বা সিট পেতে দেয়নি বা আওয়ামী লীগকে হারানোর চেষ্টা করা হয়েছে।”

“যখনই এ দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তখনই কিন্তু আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে। তার প্রমাণ ২০০৮ সালের নির্বাচনে; এটাও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন ছিল। আর সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারে বিএনপির সবচেয়ে আপনজনই ছিল।”

গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রসঙ্গে টেনে শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। আমরা মানবাধিকারে বিশ্বাস করি। আজকে যদি মানবাধিকারে বিশ্বাস না করতাম তাহলে ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আমরা এভাবে আশ্রয় দিতাম না। অনেক দেশই দেয়নি। যখন আশ্রয় দিয়েছি, কয়টা দেশ এসেছে? সারা বাংলাদেশ থেকে আমাদের নেতাকর্মীরা, সাধারণ মানুষ খাবার-দাবার নিয়ে এসেছে।”

About

Popular Links