Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জামালপুরে বিএনপির ৩ শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: নাছিমুল ইসলাম মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ১১:১৪ এএম

জামালপুরে সদর ও মেলান্দহ উপজেলায় বিএনপি ও ধানের শীষ প্রতিকের ৩০৫ জন নেতাকর্মী ও সমর্থকের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা দায়ের হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ ডিসেম্বর) রাতে জামালপুর সদর ও মেলান্দহ থানায় এসব মামলা দায়ের করা হয়। 

মামলার বিবরণে জানা যায়, জামালপুর-৫ (সদর) আসনে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থক ও দলীয় নেতাকর্মীদের নামে ৩টি মামলা দায়ের হয়েছে। ৩ মামলায় ৭২ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং ১১০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে। সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নে রশিদপুরে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী কেন্দ্র ভাংচুর, নেতাকর্মীদের মারধর ও ক্ষতি সাধনের অভিযোগে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফর রহমান বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিএনপির নির্বাচনী কেন্দ্র কমিটির আহবায়ক ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সুলতান আহম্মেদসহ ২৯ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাত ২৫/৩০ কে আসামী করা হয়। 

সদরের ঘোড়াধাপ ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী কেন্দ্র ভাংচুর ও নেতাকর্মীদের মারধরের অভিযোগে ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক রাসেল আহমেদ বাদী হয়ে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারন সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক ফজলে রাব্বী বাবুসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ৪০/৫০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।

তুলশীর চর ইউনিয়নে নৌকা প্রতিকের কেন্দ্র ভাংচুরের অভিযোগে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক জহুরুল ইসলাম লিটন বাদী হয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক মুছা সালামসহ ২৩ জনকে নাম উল্লেখ করে এবং ২০/৩০ কে অজ্ঞাত আসামী করে মামলা দায়ের করেন।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: নাছিমুল ইসলাম মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ প্রসঙ্গে জামালপুর-৫ (সদর) আসনে ঐক্যজোট প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, "নির্বাচনের আগ মুর্হুতে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্বাচনের মাঠ থেকে বিএনপিকে সরানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে। বিএনপির নির্বাচনী প্রচার ক্যাম্প ভাংচুর ও কর্মী সমর্থকদের মারধর করে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করছে। সদর উপজেলার পৌর এলাকা ও প্রত্যেক ইউনিয়নে নির্বাচনে দায়িত্বরত নেতাকর্মীদের ধরপাকড় ও বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশীর নামে পুলিশি হয়রানী করছে।" 

তিনি এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নির্বাচনের সুষ্ঠ পরিবেশ বজায় রাখতে মিথ্যা মামলা ও পুলিশি হয়রানী বন্ধের দাবি জানান।

এদিকে, মেলান্দহের আদ্রা গ্রামে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী কেন্দ্র ভাংচুর, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হুমকি প্রদান ও ক্ষতি সাধনের অভিযোগে গুজামানিকা গ্রামের আদ্রা ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ফজলুল করিম বাদী হয়ে জেলা বিএনপি নেতা জাকির হোসেনসহ ৫৫ জনের নাম উল্লেখ এবং আরো অজ্ঞাত ২০-২৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। 

এছাড়া নয়ানগর গ্রামে একই অভিযোগে উপজেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ন সম্পাদক কামরুল হাসান বাদী হয়ে মেলান্দহ পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি হযরত আলীসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং  ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে মামলা দায়ের করেন।

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গাজী সাখাওয়াত হোসেন মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলা প্রসঙ্গে মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম রফিকুল ইসলাম রহিম বলেন, "মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের হয়রানী করা হচ্ছে। আতংক সৃষ্টি করে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই এসব কর্মকাণ্ড করা হচ্ছে।"



About

Popular Links