Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কী ঘটেছিল ইডেনে?

ইসলামী ছাত্রীসংস্থা এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের মতো ‘সরকারবিরোধী’ ছাত্র সংগঠনের কিছু কর্মী সহিংসতায় অংশ নিয়ে ক্যাম্পাসে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২২, ০২:৩৫ পিএম

সম্প্রতি ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি সহিংসতা দেশজুড়ে আলোচনা তৈরি করেছে। কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজন নেত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন সংগঠনটির অন্য একটি অংশ।

গত ২২ সেপ্টেম্বর শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ তোলেন।

তিনি রিভা ও রাজিয়ার বিরুদ্ধে হলে সিট বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, ছাত্রী নির্যাতন, হোস্টেল ও ক্যান্টিনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াসহ বেশকিছু অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন।

সাক্ষাৎকার দেওয়ার দুই দিন পর ২৪ সেপ্টেম্বর জান্নাতুল ও রাজিয়ার মধ্যে এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর একপর্যায়ে জান্নাতুলকে কলেজের ছাত্রাবাস থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২৫ সেপ্টেম্বর কলেজে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে ১২ জন শিক্ষার্থী আহত হন।

সংঘর্ষে ইসলামী ছাত্রীসংস্থা এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের মতো “সরকারবিরোধী” ছাত্র সংগঠনের কিছু কর্মী অংশ নিয়ে ক্যাম্পাসে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, শাখা ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরও কিছু সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দল এতে ইন্ধন জুগিয়েছে। ফলে ঘটনার বিস্তার হয়েছে।

ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র ঢাকা ট্রিবিউনকে জানায়, ইডেন কলেজ ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শাখার সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা ও সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানার সঙ্গে অন্য একটি গ্রুপের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও ঘটনা তদন্তের জন্য গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য তিলোত্তমা শিকদার বলেন, “বঙ্গবন্ধু ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার ছবি-পোস্টার-ব্যানার যারা মাড়িয়েছে তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।”

তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমরা ইডেন কলেজ ক্যাম্পাসে টানা তিন দিন পর্যবেক্ষণের পর বিষয়টি তদন্ত করেছি। আমরা দেখতে পেয়েছি যে ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপের মধ্যে মারামারি ছাড়াও, ছাত্রলীগ এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য আরও কিছু রাজনৈতিক সংগঠনের এতে প্ররোচনা ছিল।”

ইডেন ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত

দ্বন্দ্বের জেরে গত ২৫ সেপ্টেম্বর ইডেন কলেজ কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। একই সঙ্গে বিধি লঙ্ঘনের দায়ে ১৬ সদস্যকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের সই করা বিজ্ঞপ্তি এসব তথ্য জানানো হয়।

ইডেনের চলমান ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই বেশ কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী ফেসবুক পোস্ট অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। সেসব পোস্টে অভিযোগ করা হয়, তাদের ইডেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেত্রীরা লাঞ্ছিত করেছে।

তবে এসব অভিযোগকে অস্বীকার করে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, ফেসবুকে এমন প্রচারণা ছড়িয়েছে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার নেত্রী শাকেরা আরজু এবং তার অনুসারীরা।

মামলা

বহিষ্কারের পর জান্নাতুল ফেরদৌসকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদকসহ আট শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতি চেয়ে ঢাকার আদালতে আবেদন করা হয়।

আটজন হলেন ছাত্রলীগের সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভা, সাধারণ সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা, নুজহাত ফারিয়া রোকসানা, আয়েশা ইসলাম মিম, নূরজাহান, রিতু আক্তার, আনিকা তাবাসসুম স্বর্ণা ও কামরুন নাহার জ্যোতি।

জান্নাতুলের আইনজীবী নুর-ই-আলম জানান, বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করার পর ঢাকার একটি আদালত এ বিষয়ে পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

ইডেন কলেজ ক্যাম্পাস বন্ধ

সংঘর্ষের পর ১ অক্টোবর থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত দশ দিনের জন্য ইডেন কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

কলেজের অধ্যক্ষ সুপ্রিয়া ভট্টাচার্য রবিবার (২ অক্টোবর) ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ছাত্রলীগের সংঘর্ষের সঙ্গে এর কোনো সংযোগ নেই।”

ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ওঠা ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে আসন বাণিজ্য, চাঁদাবাজি এবং নির্যাতনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, “আমরা এই ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য কোনো অভিযোগ পাইনি। কিছু লোক এই নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য এসব বিষয় উত্থাপন করছে।”

About

Popular Links