Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিএনপির গণমিছিল: রাজধানীতে সতর্ক অবস্থানে আওয়ামী লীগ

রাজধানীতে কয়েকটি স্পটে বিভক্ত করে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা সেখানে অবস্থান করবেন। অবস্থান করবেন সহযোগী সংগঠনের নেতারাও

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:২২ এএম

ঢাকায় যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি “গণমিছিলের” মধ্য দিয়ে ঐক্যের যাত্রাকে দৃঢ় করতে চায় বিএনপিসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন দল ও জোট। 

শুক্রবার (৩০ ডিসেম্বর) বিএনপি নয়াপল্টনে, ১২-দলীয় জোট বিজয়নগরে, গণতন্ত্র মঞ্চ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এবং এলডিপি পূর্ব পান্থপথ থেকে মিছিল বের করবে। পৃথক মিছিল বের করবে জামায়াতে ইসলামীও। রাজধানী জুড়ে বাদ জুমা গণমিছিলে ডাক দিয়েছে বিএনপি।

তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর “গণমিছিলের” ডাকে সতর্ক অবস্থানে থাকবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। সকাল থেকেই রাজধানী দখলের পরিকল্পনা করেছে আওয়ামী লীগ। কেন্দ্রীয় নেতাদের বিভিন্ন এলাকার দায়িত্বও বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেওয়া, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকার গঠন করাসহ ১০ দফা দাবিতে ২৪ ডিসেম্বর এই গণমিছিল কর্মসূচি দেয় বিএনপি। কিন্তু একই তারিখে আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল পড়ায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিএনপির এই গণমিছিলের তারিখ পরির্বতনে আহ্বান জানান। ওবায়দুল কাদেরের আহ্বানে কর্মসূচির তারিখ পরিবর্তন করে ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করে বিএনপি।

সতর্ক অবস্থানে আওয়ামী লীগ

রাজধানীতে কয়েকটি স্পটে বিভক্ত করে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা সেখানে অবস্থান করবেন। অবস্থান করবেন সহযোগী সংগঠনের নেতারাও।  রাজধানী ছাড়াও সারা দেশে ব্যাপক শোডাউন করবে দলটি। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও রাজধানীর একটি স্পটে উপস্থিত থাকবেন।

আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, বায়তুল মোকাররমসহ মসজিদগুলোর আশপাশেও সতর্ক পাহারা থাকবে। পাশাপাশি রাজধানীর ৯টি গুরুত্বপূর্ণ স্পটে বড় জনসমাগমের প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। গণমিছিলের নামে বিএনপি কোনো সহিংসতা করার অপচেষ্টা করলে তার প্রতিরোধ গড়ে তুলবে ক্ষমতাসীন দলটি।

বিএনপির গণমিছিল প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, “বিএনপি গণমিছিলের নামে সহিংসতা করবে। আমরা কি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ললিপপ খাবো? ১০ ডিসেম্বরের মতো আমরা সারাদেশে সতর্ক পাহারায় থাকবো। ওইদিন যেমন ছিলাম, একই অবস্থানে থাকবো।” 

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের জরুরি বর্ধিত সভায় দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, “বিএনপি ষড়যন্ত্রে সিদ্ধহস্ত। কাজেই আমাদের সজাগ থাকতে হবে। অতন্দ্র প্রহরীর মতো সজাগ থাকতে হবে। কোনো অবস্থায়ই যেন ষড়যন্ত্রকারীরা সফল না হয়। কর্মসূচির নামে অশান্তিকর, অপ্রীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারে, সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। আমাদের নেতাকর্মীরা বসে থাকবে না, তারা দাঁতভাঙা জবাব দেবে।”

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতাদের সঙ্গে বর্ধিত সভা করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ওই সভায় তিনি নেতাদের নগরের প্রতিটি থানা-ওয়ার্ডে ৩০ ডিসেম্বর মাঠে সতর্ক পাহারায় থাকার দিকনির্দেশনা দেন।

আওয়ামী লীগ সূত্রের খবরে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন জানায়, রাজধানীর উত্তরায় স্পটে সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক  সম্পাদক মো. সিদ্দিকুর রহমান, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা অবস্থান করবেন।

মহাখালী স্পটে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মো. শাহজাহান খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ওয়াসিকা আয়শা খান।

শ্যামলী স্পটে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লেফটেনেন্ট কর্নেল (অব) মুহাম্মদ ফারুক খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সম্পাদক ড. শাম্মী আহম্মেদ, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা। এ স্পটের দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও থাকবেন বলে জানা গেছে।

ফার্মগেটের স্পটে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহাম্মদ হোসেন ও এসএম কামাল হোসেন, প্রচার সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ,  দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া এবং তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ।

মিরপুর গাবতলীতে সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম এবং সদ্য বিদায়ী কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল আওয়াল শামীম।

মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুস সবুর।

রামপুরা, বাড্ডা ইউলুপ চত্বরে শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক বেগম সামসুন্নাহার, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক জাহানারা বেগম, পরিবেশ ও বন বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন।

বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাসান মাহমুদ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

যাত্রাবাড়ীতে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মণি, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী অবস্থান করবেন।

এছাড়া বিভিন্ন সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন রাজধানীতে কড়া পাহারায় থাকবে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় পাহারায় থাকবে। প্রতিটি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ইউনিট নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করবে।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগসহ বিভিন্ন সংগঠন বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে সকাল থেকে বড় জমায়েত করবে। মৎস্যজীবী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ ও কৃষক লীগের আলাদা আলাদা কর্মসূচি রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা।

About

Popular Links