Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সব বিভাগীয় শহরে ১১ মার্চ মানববন্ধন করবে গণতন্ত্র মঞ্চ

জোনায়েদ সাকি বলেন, এই সরকার জনগণের জীবনকে আরও দুর্দশার মধ্যে ঠেলে দিয়ে তাদের জীবনের নাভিশ্বাস তুলে কীভাবে টাকা কামিয়ে নেওয়া যায় আর বিদেশে পাচার করা যায় তার ব্যবস্থা করছে

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৩, ০৪:৩৮ পিএম

সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী ১১ মার্চ সব বিভাগীয় শহরে মানবন্ধন করবে গণতন্ত্র মঞ্চ।

শ‌নিবার (৪ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণতন্ত্র মঞ্চের বিক্ষোভ সমাবেশ ও পদযাত্রা কর্মসূচি থেকে ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু এই ঘোষণা দেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “আমরা যেমন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে পারি, তেমনি দুর্বার আন্দোলনও সৃষ্টি করতে পারি। আমাদের আন্দোলন দমিয়ে রাখতে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলা করছে সরকার।”

তি‌নি ব‌লেন, “এই সরকারের পতন ঘটানোর জন্য আন্দোলন করতে হবে, এর কোনো বিকল্প নাই। আমরা এই সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে যাবো না। তাদের সংলাপের টোপে আমরা পড়বো না। আমরা ইতোমধ্যেই বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করছি। অচিরেই বিএনপির সঙ্গে গণতন্ত্র মঞ্চ সরকার পতনের একদফা কর্মসূচি দিয়ে রাজপথে থাকবে।”

বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে কর্মসূচিতে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “আমাদের কর্মসূচির দিনে আওয়ামী লীগ শান্তি সমাবেশের নাম করে তারা দেশে একটা অশান্তি সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করছে। এই শান্তি সমাবেশ কার্যত একটা ‘নার্ভাস সমাবেশে' পর্যবসিত হয়েছে। কখন কী হয়? শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে ওরা ভয় পাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের গণতন্ত্র মঞ্চের দলগুলোর ওপর হামলা করছে। আওয়ামী লীগ প্রমাণ করছে তারা গণতান্ত্রিক ধারার রাজনৈতিক দল থেকে এখন পুরোপুরি একটা সন্ত্রাসী রাজনৈতিক দলে তারা পর্যবসিত হয়েছে। সন্ত্রাস না করে আওয়ামী লীগের পক্ষে অবৈধ ক্ষমতায় আজকে টিকে থাকা সম্ভব না।সেজন্য তারা প্রতিনিয়ত বিরোধীদলের ওপর হামলা করছে, মামলা করছে, গ্রেপ্তার করছে।”

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, “যখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে…, কীভাবে মানুষকে স্বস্তি দেওয়া যায় তার কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বরং এই দ্রব্যমূল্য যারা বাড়াচ্ছে কীভাবে আরও সিন্ডিকেট করে দ্রব্যমূল্য বাড়ানো যায়, আরও টাকা হাতিয়ে নেওয়া যায়, হাজার হাজার টাকা লুট করা যায়, আর সেখান থেকে কীভাবে ভাগ বসানো যায় সেটাতে ব্যস্ত এই মন্ত্রী-আমলাসহ সরকারের সমস্ত লোকেরা।”

তিনি আরও বলেন, “এভাবে তারা জনগণকে জীবনকে আরও দুর্দশার মধ্যে ঠেলে দিয়ে তাদের জীবনের নাভিশ্বাস তুলে কীভাবে টাকা কামিয়ে নেওয়া যায় আর বিদেশে পাচার করা যায় তার ব্যবস্থা করছে। কারণ এদের কোনো চিন্তা নাই। এরা মনে করছে দ্রব্যমূল্য যতই বাড়ুক আমাদের হাতে দুইটা অস্ত্র আছে সেই অস্ত্র দিয়ে আমরা ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখব।”

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম বলেন, “আপনারা জানেন বাংলাদেশ একটি ভয়াবহ পরিস্থিতি দিকে যাচ্ছে। যাদের জনগণ নিয়ে ভাবার কথা তারা জনগণের টাকা লুটপাট করে বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দিচ্ছে। এখন যেকোনো সমস্যার মূলে এই অবৈধ সরকার। আমরা গণতন্ত্র মঞ্চ ১৪ দফার ডাক দিয়েছি তা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে।”

ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে পদযাত্রা কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডির) সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান প্রমুখ।

About

Popular Links