Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘তারা আমাদের শত্রু,’ ছয় মার্কিন কংগ্রেসম্যান প্রসঙ্গে শাহরিয়ার

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের চিঠিতে আমরা বিচলিত নই

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৩, ০৭:৫০ পিএম

সাধারণ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা মিশনে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়ে ছয় মার্কিন কংগ্রেসম্যানের দেওয়া চিঠির বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

তিনি বলেন, “এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী ১০ বছর ধরে কাজ করছে। যেখানে ১৬৯ জন জীবন দিয়েছেন। এই অর্জনকে যারা খাটো করে দেখছেন, ব্যর্থ করার চেষ্টা চালাচ্ছেন, তারা বাংলাদেশের বন্ধু নন, শত্রু। তারা কংগ্রেসম্যান, নাগরিক, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী যে-ই হোন, তারা শত্রু। তাদের যারা টাকা দিয়ে প্রভাবিত করেছেন, তারাও যে বাংলাদেশের শত্রু, এটা চেনার সময় এসেছে। এটা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেওয়ার কোনো কারণ নেই। এগুলো অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের বিষয়।

রবিবার (২৫ জুন) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন সুগন্ধায় ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ডিক্যাব) উদ্যোগে আয়োজিত “ডিক্যাব টক'–এ এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

গত ২৫ মে বাংলাদেশের সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যাতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করতে না পারেন, সে জন্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে চিঠি দেন স্কট পেরি, ব্যারি মুর, ওয়ারেন ডেভিডসন, বব গুড, টিম বারচেট এবং কিথ সেলফ নামের ছয়জন কংগ্রেস সদস্য।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচও একই ধরনের বিবৃতি দিয়েছে। ওই চিঠির পর বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

বিরোধী দল বিএনপি ও তার মিত্র জামায়াত হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বিবৃতি তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজে শেয়ার করে একই আবেদন জানায়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এ ধরনের চিঠিতে আমরা বিচলিত নই। তবে আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ১০০% প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে একই ধরনের চিঠি আসতে দেখবেন।”

তিনি অভিযোগ করেন, “বিএনপির লোকজন টাকা নিয়ে চিঠির ড্রাফট নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ইউরোপ–আমেরিকার বিভিন্ন রাজনীতিবিদদের কাছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের চিঠি কোনো রাষ্ট্রের অবস্থান না। যাঁরা চিঠি দিয়েছে, তাঁরা বাংলাদেশকে ভালোভাবে জানে কি না, সে ব্যাপারে সংশয় রয়েছে।”

বিএনপিকে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে এ ধরনের ষড়যন্ত্র রাষ্ট্রদ্রোহিতা। জনগণ নির্বাচনে এর যোগ্য জবাব দেবে।”

তিনি বলেন, “যে দল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেনি, সে দল সর্বদা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে।”

তিনি বলেন, “যেহেতু সেই সময়ে একজন সামরিক স্বৈরশাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।”

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তিনি তা করবেন।”

বিএনপি সেটা বানচালের চেষ্টা করবে বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী পরে আরও বলেন, “আমাদের দেশে একটি জনপ্রিয় প্রবাদ আছে- নাক কাটা, মুখ খোঁচানো। ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে আসেনি, কারণ তাদের প্রধান মিত্র জামায়াত নির্বাচনে অংশ নেয়নি।”

“আপনি যদি গত ১০ বছর দেখেন, আন্তর্জাতিকভাবে সরকারের কর্মকাণ্ডের অপ্রতিরোধ্য গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। আমাদের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিকভাবে উন্নত হয়েছে। গত ১০ বছরে যে উন্নয়ন হয়েছে তার সুফলভোগী বাংলাদেশের সব মানুষ। এমনকি যারা আমাদের বিরোধিতা করে তারাও সুবিধাভোগী,” তিনি বলেছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার বিভিন্ন সংস্থার এই ধরনের চিঠি বা বিবৃতিতে প্রতিক্রিয়া জানাবে না।”

“এর (প্রতিক্রিয়া) কোনো কারণ নেই। এগুলো অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ। আমাদের দলের নেতারা আমার বিরুদ্ধে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে যে কোনো চিঠি লিখতে পারেন। এটা প্রধানমন্ত্রীর উপর নির্ভর করে তিনি সেটা বিবেচনা করবেন কি না। আমরা দেখেছি যে যখন স্টেট ডিপার্টমেন্ট তাদের দৈনিক ব্রিফিংয়ে বলেছিল যে তারা এই ধরনের চিঠির সাথে পরিচিত নয়। চিঠিটি সরাসরি হোয়াইট হাউসে পাঠানো হয়েছে। সুতরাং, এ সম্পর্কে আমাদের কিছু বলার নেই,” তিনি বলেছিলেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সম্পর্কে তিনি বলেন, “অজানা কারণে যুদ্ধাপরাধের বিচারের পর থেকে তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল।”

“প্রাথমিকভাবে আমরা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলাম এবং তাদের সাথে বসেছিলাম এবং নিয়ম তৈরি করেছিলাম যে তারা একটি প্রতিবেদন প্রকাশের আগে আমাদের রক্ষা করার সুযোগ দেবে। কিন্তু তারা তা করেনি। সুতরাং, আমরা অনেক আগেই একটি নীতি গ্রহণ করেছি যে আমরা তাদের সাথে জড়িত থাকব না,” তিনি বলেছিলেন।

ডিক্যাবের সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি রেজাউল করিম লোটাস।

About

Popular Links