Monday, June 17, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আত্মপ্রকাশের অপেক্ষায় আওয়ামী লীগপন্থী দুই ইসলামি জোট

এমএ আউয়াল বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামপন্থী ও সমমনা দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। সরকারের দায়িত্ব সবাইকে নিয়ে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করা

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৯:১৮ এএম

আগামী এক মাসের মধ্যে আওয়ামী লীগপন্থী অন্তত দুটি ইসলামিক জোট গঠনের প্রস্তুতি চলছে। এরমধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য ও ইসলামি গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এমএ আউয়াল নেতৃত্বধীন একটি ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) চেয়ারম্যান শাহসুফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী মাইজভান্ডারীর নেতৃত্বাধীন আরেকটি জোট গঠন করা হবে।

উভয় জোটের নাম, ঘোষণাপত্রসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম চলছে। জোট দুটির শীর্ষ নেতারা এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান।

উভয় জোটে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মূলত এ বছরের মে মাসে সংসদ সদস্য এম এ আউয়াল, মাওলানা বাহাদুর শাহ, মিছবাহুর রহমান চৌধুরী, সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ আল হাসানীর নেতৃত্বে একটি সমন্বিত জোট গঠনের সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত ছিল। পরে নেতৃত্ব নির্ধারণ ও অন্যান্য আরও কিছু বিষয়কে কেন্দ্র করে এই জোটটি আলোর মুখ দেখেনি।

এ বিষয়ে উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত মিছবাহুর রহমান চৌধুরী চেয়ারম্যান হওয়ার পাশাপাশি জোটের মুখপাত্র বা সমন্বয়কের পদ চেয়েছিলেন। এ বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি বাহাদুর শাহ। পাশাপাশি জোট গঠনের শুরু থেকেই প্রক্রিয়ায় অগ্রণী ভূমিকা রাখা ইসলামি গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এম এ আউয়ালকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে রাখার কথা থাকলেও রহস্যজনক কারণে তাকে কো-চেয়ারম্যান করার প্রস্তাব আসার পর তিনিও সরে পড়েন প্রক্রিয়া থেকে।

ইসলামি গণতান্ত্রিক পার্টির একাধিক নেতা জানান, গত মে মাসের পর থেকে দলের চেয়ার‌ম্যান এম এ আউয়াল অন্তত ১৫টি দলের সঙ্গে জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেন। ইতোমধ্যে “ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ” এর পক্ষ থেকেও আন্তরিকতা দেখানো হচ্ছে তার সম্ভাব্য জোট নিয়ে। এরইমধ্যে এম এ আউয়াল জোট গঠন নিয়ে আওয়ামী লীগ ঘেঁষা ইসলামি ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন।

ইসলামি গণতান্ত্রিক পার্টির মহাসচিব অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম খান এই প্রতিবেদককে বলেন, “আমাদের জোট গঠনের প্রক্রিয়া প্রায় শেষের দিকে। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা ঘোষণা করবো।”

সূত্রের দাবি, বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) সদ্য নিবন্ধিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম) মহাসচিব মেজর অব. হানিফের সঙ্গেও এম এ আউয়ালের বৈঠক হয়েছে। তবে বিএনএম জোটে থাকবে কিনা, তা নিয়ে কেউ কিছু জানাতে পারেনি।

এম এ আউয়ালের নেতৃত্বাধীন প্রকাশিতব্য নতুন জোটে ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির সঙ্গে নেজামে ইসলাম পার্টি (মাওলানা হারিছুল হক), বাংলাদেশ তরিকত ফ্রন্ট (মুফতি মেহেদি হাসান বুলবুল), গণ-আজাদী লীগ (একাংশ), গণ-অধিকার পার্টিসহ আরও কয়েকটি দল ও সংগঠন রয়েছে।

নতুন জোটের বিষয়ে এমএ আউয়াল বলেন, “আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামপন্থি ও সমমনা দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। সরকারের দায়িত্ব সবাইকে নিয়ে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করা। বিরোধী দলেরও দায়িত্ব নির্বাচনে অংশ নেওয়া। আমরা চেষ্টা করছি শিগগিরই আমাদের জোটের ঘোষণা দেওয়ার জন্য।”

আউয়াল বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে বিদেশিদের হস্তক্ষেপ দেখা যাচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের আহ্বান করা মানে দেশের জনগণকে ছোট করা। এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।’

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামপন্থিদের আরও একটি জোট আসছে খুব শিগগিরই। সদ্য নিবন্ধিত বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির নেতৃত্বে এই জোটে অন্তত ৬টি দল থাকবে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন। এগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোট (মিছবাহুর রহমান চৌধুরী), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (সৈয়দ সাইফুদ্দিন মাইজভান্ডারী), কৃষক শ্রমিক জনতা পার্টি (ফারহানাজ হক), আশেকানে আওলিয়া পরিষদ (আলম নুরী সুরেশ্বরী), জনদল (মাহবুবুর রহমান)। এই জোটে আরও একাধিক দল থাকতে পারে।

নতুন জোট গঠনের অগ্রগতি নিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা আশা করছি খুব দ্রুততার সঙ্গে আমাদের জোটের ঘোষণা আসবে। আমরা ৮-১০টি দলের মধ্য দিয়ে বাছাই করে ৬টি দল চূড়ান্ত করেছি। আমাদের জোটের চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ আল হাসানী। আমি নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করবো।’

এই জোটে থাকার কথা ছিল ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির। কিন্তু মিছবাহুর রহমানের সঙ্গে দ্বন্দ্বে সরে যান এম এ আউয়াল। এ বিষয়ে মিছবাহুর রহমান চৌধুরী বৃহস্পতিবার এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি ওনার বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি না।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এম এ আউয়াল বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত অব্যাহত আছে। এই অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিকে এগিয়ে নেওয়া আসল কাজ। এখানে কে কোন জোট বা দল করবে, তা মুখ্য নয়।’

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগেও আওয়ামী লীগ সমর্থিত একটি জোট করেছিলেন এম এ আউয়াল। সেই জোটের চেয়ারম্যান ছিলেন মিছবাহুর রহমান চৌধুরী। কো-চেয়ারম্যান ছিলেন এম এ আউয়াল। বর্তমানে সেই জোট বিলুপ্ত। ওই জোটের ১১টি দলের সমন্বয়ে পরে ইসলামিক গণতান্ত্রিক পার্টি গঠন করেন এম এ আউয়াল।

About

Popular Links