Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিএনপির জন্য আমরা সুইসাইড করব নাকি, প্রশ্ন কাদেরের

কাদের বলেন, ভারত আর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হওয়ার অর্থ এই নয় যে, তারা আমাদের ইলেকশনে ইন্টারফেয়ার করবে। আমাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে। আমাদের ক্ষমতায় বসাতে পারে দেশের জনগণ, অন্য কোনো দেশ নয়

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৩, ০১:৪৮ পিএম

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন বলেন, “আওয়ামী লীগ নির্বাচনে হেরে গেলে তখনই বিএনপির চোখে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য। এখন আমরা সুইসাইড করব নাকি বিএনপির জন্য? তারা তো যেকোনো মূল্যে নির্বাচনে জিততে চায়। এই গ্যারান্টি তাদের কে দেবে? নির্বাচন কমিশন দেবে যে, নির্বাচনে তোমরাই জিতবে। এই গ্যারান্টি না দিলে তারা তো আসবে বলে মনে হয় না।”

বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ও “আওয়ামী লীগের সঙ্গে তলে তলে আপসের” প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, “নিরাপত্তা উপদেষ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের। তার সঙ্গে কথাগুলো এক সপ্তাহ পরে এসেছে। সেখানে এই কথাগুলো হয়েছে। জানাজানি হওয়ার আগে তো তলে তলে। জানাজানি হলো পরে, তাহলে ভেতরে ভেতরে সম্পর্কটা আমাদের ঠিকই আছে।”

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কনসার্ন চীন। আপনি বলছেন ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক আছে। সে ক্ষেত্রে কি চীনের সঙ্গে আপনারা দূরত্ব বজায় রাখছেন বা রাখবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের সঙ্গে দূরত্ব তো নেই। আমাদের অবকাঠামোগত উন্নয়নে চীনের ভূমিকা আছে। সেটাকে তো আমরা বাইপাস করতে পারব না। তাদের সাহায্য আমরা নিচ্ছি। আমরা কারো সঙ্গে শত্রুতা চাই না। সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব; এটাই আমাদের নীতি।”

“আর ফখরুল সাহেবরা যে অর্থে বলেন, সে অর্থে আমরা চিন্তা করিনি। এখানে ভারত আর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হওয়ার অর্থ এই নয় যে, তারা আমাদের ইলেকশনে এসে ইন্টারফেয়ার করবে। আমাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে। এমন উদ্ভট কল্পনা আমরা করি না। আমাদের ক্ষমতায় বসাতে পারে আমাদের দেশের জনগণ, অন্য কোনো দেশ নয়।”

বিএনপি পরিষ্কারভাবে বলেছে নির্বাচন হতে দেবে না। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন নির্বাচন আদৌ হবে কিনা- এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে কাদের বলেন, “নির্বাচন সময় মতো হবে, সংবিধান অনুযায়ী। কারো স্বার্থে বশীভূত হয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া আসবে না।”

বিএনপির কথাবার্তার ফাঁপানো বেলুন চুপসে যাবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “জনগণ ছাড়া তো কিছু হয় না। আন্দোলন করবেন, পাবলিক লাগবে। পাবলিক অংশগ্রহণ করেছে আন্দোলনে এমন কিছু দেখাতে পারেননি। নেতাকর্মীদের নিয়ে কিছু কর্মসূচি পালন করেছেন। এ দিয়ে বাংলাদেশে সরকারের ক্ষমতাচ্যুতি সম্ভব না।”

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আমরা প্রস্তুত আছি, অশান্তি করলে অশান্তির জবাব আছে। তারা প্রস্তুত আমরাও প্রস্তুত। তারা নির্বাচনে বাধা দিতে প্রস্তুত, আমরা নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে করতে প্রস্তুত।”

প্রসঙ্গত, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবির বিভক্ত ও বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। আওয়ামী লীগ সংবিধান অনুযায়ী, শেখা হাসিনা সরকারের অধীনে নির্বাচনে অনড়। অন্যদিকে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো বলছে, আওয়ামী লীগের কাটাছেঁড়া করা সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হতে পারে না। নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে। যুক্তি হিসেবে তারা ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে আনছে। এই দুই নির্বাচন ছিল বিতর্কিত নির্বাচন।

এছাড়া বাংলাদেশের নির্বাচনে পরাশক্তিগুলোর দ্বান্দ্বিক অবস্থানও সামনে আসছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তারা নির্বাচনে বাধাদানকারীদের ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছে।

গত ২৪ মে  বাংলাদেশের জন্য নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে বাংলাদেশে বিধিনিষেধ আরোপের কথা জানায় দেশটি।

ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে বেকায়দায় ফেলেছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। শুরুর দিকে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছিলেন, তারা ভিসানীতি ও নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করে না। তবে এখন বলছেন, তলে তলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আপোস করেছেন তারা।

মাঠের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির আন্দোলনে বাড়তি উৎসাহ তৈরি করেছে মার্কিন ভিসানীতি। সরকারের “কোণঠাসা অবস্থা” বোঝাতে বিএনপির নেতারা তাদের সমাবেশে ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি প্রায়ই তুলে ধরছেন। একইসঙ্গে তারা অভিযোগ করছেন, ভিসানীতি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের জন্য লজ্জাজনক। এর জন্য দায়ী বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার।

নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিই এখন সবচেয়ে জোরালো আলোচনা রাজনৈতিক ময়দানে। দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি জনমনেও এটি প্রভাব তৈরি করছে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্তাব্যক্তিদের মধ্যেও প্রভাব ফেলছে বলে আলোচনা আছে।

নির্বাচনকেন্দ্রীক এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাংলাদেশ সরকারের উচিত ভিসানীতিকে গুরুত্ব দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। তা না-হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

About

Popular Links