Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আওয়ামী লীগ নেতাদের ফখরুল: পূজার ছুটিতে সিদ্ধান্ত নিন, কী করবেন

ফখরুল বলেন, পূজার ছুটিতে আপনারা সিদ্ধান্ত নিন, কী করবেন। পদত্যাগ করে সসম্মানে সেফ এক্সিট নেবেন, নাকি জনগণ দ্বারা বিতাড়িত হবেন

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৩, ০৭:৫৯ পিএম

পদত্যাগ নাকি জনগণের হাতে বিতাড়িত- আওয়ামী লীগ নেতাদের এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পূজার ছুটি পর্যন্ত সময়সীমা বেধে দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, “পরিষ্কার করে বলতে চাই। সামনে কয়েকটা দিন সময় আছে। এই পূজার ছুটিতে আপনারা সিদ্ধান্ত নিন আপনারা কী করবেন। পদত্যাগ করে সসম্মানে সেফ এক্সিট নেবেন, নাকি জনগণ দ্বারা বিতাড়িত হবেন? আমরা আবার তাদের আহ্বান জানাই জনগণের ভাষা বুঝতে পেরে পদত্যাগ করে শান্তিপূর্ণভাবে একটা নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরেপক্ষ সরকার গঠন করে নির্বাচন দিন৷”

বুধবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর (উত্তর-দক্ষিণ) বিএনপির সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “তাদের (আওয়ামী লীগ) পরিকল্পনা হচ্ছে আমরা যারা নির্বাচন করতে পারি, এই ধরনের সব ব্যক্তিকে সাজা দিয়ে যদি নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করতে পারে তাহলে তাদের মাঠ পরিষ্কার। সেই আগের মতোই তারা নির্বাচন করে নিয়ে যাবে। কতটা ভীত হলে তারা আজ এই ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে!”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “দেশে তো এখন প্রেসিডেন্ট নাই। নাই মানে? সংবিধানে নিয়ম আছে, রাষ্ট্রপতি যদি বাইরে যান, তাহলে কাউকে দায়িত্ব দিতে হবে। এখনো কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। মানে এখন এই রাষ্ট্রের কোনো রাষ্ট্রপতি নেই। অর্থাৎ ওইখানে তারা (আওয়ামী লীগ) সম্পূর্ণভাবে বেআইনি কাজ করছে, অসাংবিধানিক কাজ করছে।”

তিনি বলেন, “তারা সংবিধানকে পুরোপুরি লঙ্ঘন করছে। এরা মুখে সংবিধানের কথা বলে, কিন্তু সংবিধানের মূল বিষয়গুলো সংশোধন করে তারা ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা সংবিধানের এক-তৃতীয়াংশ একজন ব্যক্তি ও একটি পরিবারের জন্য সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করে দিয়েছে।”

সরকার অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, “ফেসবুকে আজকের কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে এমন মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে প্রথম আলো জানিয়েছে এটা ফেইক নিউজ। এই সরকার জনগণের ভাষা বুঝে গেছে। তাই ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বিভিন্ন অপকৌশল নিচ্ছে। তার একটি বড় অংশ সামাজিক মাধ্যমে ব্যবহার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে। কিন্ত আজ লাখো মানুষের জনসমাবেশ প্রমাণ করেছে জনগণ তাদের প্রপাগান্ডায় বিশ্বাস করে না।”

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, “এখান থেকে ঘরে ফিরে বসে থাকবেন না। ফিরে গিয়ে প্রত্যেকটি ঘরে ঘরে এই বার্তা পৌঁছাবেন- বাংলাদেশ জেগে উঠেছে, আপনারা জেগে উঠেছেন। এই জাগরণের মধ্য দিয়ে এদেশের মানুষ এই সরকারের পতন ঘটাবে।”

আগামীর কর্মসূচি সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, “আজ আংশিক কর্মসূচি ঘোষণা করছি। ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশ করবো। এই মহাসমাবেশ থেকে আমাদের মহাযাত্রা শুরু হবে। ২৮ তারিখের মহাসমাবেশের পর আমরা আর থামবো না। টানা কর্মসূচি চলবে। অনেক বাধা-বিপত্তি আসবে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে অশান্তির এ সরকারের পতন ঘটাবো আমরা।”

প্রসঙ্গত, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক শিবির বিভক্ত ও বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। আওয়ামী লীগ সংবিধান অনুযায়ী, শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে নির্বাচনে অনড়। তারা মাঠের কর্মসূচিতে বর্তমানে বেশ সক্রিয়।

অন্যদিকে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো বলছে, আওয়ামী লীগের কাটাছেঁড়া করা সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হতে পারে না। নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে। যুক্তি হিসেবে তারা ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে আনছে। এই দুই নির্বাচন ছিল বিতর্কিত নির্বাচন। বিএনপি ও সমমনা দলগুলো বর্তমানে মাঠের রাজনীতিতে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো কর্মসূচি পালন করছে।

এছাড়া বাংলাদেশের নির্বাচনে পরাশক্তিগুলোর দ্বান্দ্বিক অবস্থানও সামনে আসছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তারা নির্বাচনে বাধাদানকারীদের ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছে।

এ অবস্থায় সামনে সহিংসতার শঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তারা বলছেন, জনস্বার্থে রাজনৈতিক সমঝোতা হওয়া দরকার। নির্বাচন কমিশনও একই আশা প্রকাশ করেছেন।

 

About

Popular Links