Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘বিএনপির একজন বাইরে আছে বলুক যা খুশি, বিরোধী কণ্ঠ লাগবে না?’

কাদের বলেন, নেত্রী একদিন বলছিলেন একজন অফিসারকে; দরকার নেই, একজন আছে বলুক। বলুক যা খুশি। বলা তো লাগবে। বিরোধী কণ্ঠ লাগবে না? তাকে ধরার জোর চেষ্টা সরকারের পক্ষ থেকে করা হয়নি

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২৩, ০২:০৬ পিএম

বিএনপির আন্দোলন করার মতো নেতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বিএনপির শীর্ষ নেতারা কারাবন্দী। কারাগারের বাইরে আছেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তাকে ইঙ্গিত করে কাদের বলেছেন, “আর কী দিয়ে আন্দোলন! নেতা নেই, আছে ওই যে, আবাসিক প্রতিনিধি। আবাসিক প্রতিনিধির আবাস এখন আর নেই। হঠাৎ হঠাৎ কোন গোপন গুহা থেকে বের হয় মাবুদ আল্লাহ জানেন। নেত্রী একদিন বলছিলেন একজন অফিসারকে; দরকার নেই, একজন আছে বলুক। একজন আছে বলুক যা খুশি। বলা তো লাগবে। বিরোধী কণ্ঠ লাগবে না?”

বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) সকালে তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে দলের সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এই সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করে আওয়ামী লীগ।

বিএনপি তফসিল প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে। এ বিষয়ে কাদের বলেন, “শঙ্কার এত পাহাড় এত খরস্রোতা নদী পার হয়ে এলাম। এখন আবার কাকে ভয় পাব? এত বিপদসংকুল দরিয়া পার হলাম, তার পরে আবার ভয় কীসের! কোনো ভয় করি না। প্রতিহত যারা করবে; আমাদের লাগবে না। বাংলাদেশের জনগণ, বাংলাদেশের ভোটাররা তাদের প্রতিহত করব।”

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, “আওয়ামী লীগের ইতিহাস গণতান্ত্রিক রীতিনীতি চর্চা এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস। আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্রের পথে রাষ্ট্র ক্ষমতা বদলে চিন্তাই কখনো করেনি। আওয়ামী লীগের ইতিহাসে গণতন্ত্রের পরিবর্তে ষড়যন্ত্র নামক শব্দ কখনো সংযোজিত হয়নি। আমাদের কাজে, আমাদের আচরণে আমরা গণতন্ত্রকে অনুসরণ করেছি। গণতান্ত্রিক রীতিনীতিকে অনুসরণ করে লড়াই করেছি, সংগ্রাম করেছি এবং জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট থেকেছি।”

বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এখন আর কিছু নাই, সর্বশেষ নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে গেছে। আর কী দিয়ে আন্দোলন! নেতা নেই, আছে ওই যে, আবাসিক প্রতিনিধি। আবাসিক প্রতিনিধির আবাস এখন আর নেই। হঠাৎ হঠাৎ কোন গোপন গুহা থেকে বের হয় মাবুদ আল্লাহ জানেন।”

“নেত্রী একদিন বলছিলেন একজন অফিসারকে; দরকার নেই, একজন আছে বলুক। একজন আছে বলুক যা খুশি। বলা তো লাগবে। বিরোধী কণ্ঠ লাগবে না? তাকে ধরার এমন জোর কোনো চেষ্টা সরকারের পক্ষ থেকে করা হয়নি। সে জন্য এখন খুব একজনে লাফালাফি করছে। হঠাৎ দেখি ডেমরার রাস্তায়, সঙ্গে পাঁচ থেকে সাতজন। কোথাও কোথাও ১০-১২ জন। এই করে করে আন্দোলন। আন্দোলনের নামে এটা প্রহসন।”

ক্ষমতাসীন দলের এই শীর্ষ নেতা বলেন, “নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে গেছে। সবাইকে নিয়ে নির্বাচন করতে চাই। এখনো আমাদের এ আহ্বান সবার জন্য। সবাই আছে, আমরা একা ক্ষমতায় যেতে চাই না। সবাইকে নিয়ে আমরা এ লড়াই, নির্বাচনী লড়াই অতিক্রম করতে চাই। কাজেই যারা চিন্তা করতে আমরা শুধুমাত্র নিজেরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য, আমরা নিজেরাই নির্ঘণ্ট উচ্চারণ করেছি; এ কথা মোটেও ঠিক না।”

তফসিলকে স্বাগত, তফসিলকে প্রত্যাখ্যান

বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

এই তফসিলকে প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি, বাম গণতান্ত্রিক জোট, গণতন্ত্র মঞ্চ, গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জামায়াতে ইসলামী।

বিরোধী নেতারা বলছেন, বিবাদমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই তফসিল জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে পারবে না। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো “ভোটাধিকার হরণে” এই তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ এটি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।

অন্যদিকে তফসিলকে স্বাগত জানিয়েছে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা। আওয়ামী লীগের বাইরে সংসদের বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ তফসিলকে স্বাগত জানিয়েছেন। এছাড়া তৃণমূল বিএনপি তফসিলকে স্বাগত জানিয়েছে।

আওয়ামী লীগ বলছে, জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে গতিশীল রাখতে এই তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। কেউ যদি নির্বাচনী ট্রেন ধরতে না পারেন, তাতে তাদের করার কিছু নেই।

দুই দল তাদের সমমনাদের নিয়ে দুই মেরুতে। এ অবস্থায় তফসিল ঘোষণার আগে রাজনৈতিক সমঝোতার আশা করেছিলেন মানবাধিকার কর্মী ও উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলো। প্রধান তিন দলকে সংলাপের আহ্বানও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইসি বলছে, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় তফসিল হয়েছে। সংবিধান মেনে ভোটের আয়োজন করা ইসির দায়িত্ব। রাজনৈতিক ঐক্য তৈরির দায়িত্ব ইসির নয়।

ইসির তফসিল

ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি। ওই দিন সকাল ৮টা থেকে টানা ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর। সেদিন থেকেই প্রচারণা শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা। প্রচারণার জন্য ২২ দিন সময় পাবেন প্রার্থীরা। নির্বাচনে ৬৬ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ৫৯২ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

গত ২ নভেম্বর সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটারসংখ্যা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন ভোটার। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৯ জন এবং নারী ভোটার ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৯ হাজার ২০২ জন। আর হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৮৫২ জন। সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ১০৩টি এবং ভোটকক্ষ ২ লাখ ৬১ হাজার ৯১২।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের মেয়াদ পূর্তির আগের ৯০ দিনের মধ্যে পরবর্তী সংসদ নির্বাচন করতে হয়। বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি। সেই হিসেবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে গত ১ নভেম্বর থেকে।

About

Popular Links