Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নেতাকর্মীদের ‘দুর্জয় সাহস’ নিয়ে রাস্তায় নামার আহ্বান রিজভীর

রিজভী বলেন, দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ এবং বিশ্বের গণতান্ত্রিক শক্তিও আর বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী শাসন দেখতে চায় না, এদের পতন হবে

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:০১ পিএম

সরকার পতনের একদফা ও একতরফা তফসিল বাতিলের দাবিতে বিএনপির ডাকা সপ্তম দফার অবরোধে আগামীকাল রবিবার (২৬ নভেম্বর) দলীয় নেতাকর্মীদের “দুর্জয় সাহস” নিয়ে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেছেন, “আগামীকাল থেকে শুরু হবে আবারও নিরবচ্ছিন্ন ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি। গণতন্ত্র ফেরানো, কারাবন্দিদের মুক্ত করার যে কর্মসূচি, জনগণের মালিকানা ফেরত দেওয়ার যে কর্মসূচি- সেটা হচ্ছে এই অবরোধ কর্মসূচি। শান্তিপূর্ণ এই অবরোধ কর্মসূচিতে সাধারণ জনগণ ও দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা দুর্জয় সাহস নিয়ে রাজপথে এগিয়ে যাবে- এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি।”

শনিবার বিকেলে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রবিবার ভোর ৬টা থেকে এই অবরোধ কর্মসূচি শুরু হবে, চলবে টানা মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত।

রিজভী বলেন, “এই আন্দোলনে আপনি আমি-আমরা একা নই। আমাদের সকলের অংশগ্রহণে এক দফার আন্দোলন আরও বিস্তৃত, বেগবান ও তেজোদীপ্ত হবে। মনে রাখবেন দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ এবং বিশ্বের গণতান্ত্রিক শক্তিও আর বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী শাসন দেখতে চায় না, এদের পতন হবেই।”

‘নির্বাচনকে হাসি-তামাশা, বাণিজ্য আর প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে’

নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘‘জাতীয় নির্বাচনে জনগণ তাদের রাষ্ট্র পরিচালনার ভার পরবর্তী মেয়াদের জন্য কাদের হাতে অর্পণ করতে চায় তা সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তের আলোকে নির্ধারণ করে দেয়। সেই নির্বাচনকে এখন হাসি-তামাশা, বাণিজ্য ও প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে। জনগণের কাছ থেকে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। আর জনপ্রতিনিধিত্ব এখন শেখ হাসিনার দান-দক্ষিণা, খয়রাত, বিলিবণ্টন, ভাগ-বাটোয়ারা, উপহার-করুণায় পরিণত হয়েছে।”

আগামী ৭ জানুয়ারি যে সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে, সেটিকে “ভাঁওতাবাজির” নির্বাচন আখ্যা দিয়ে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, “২০১৪ সালে বিনাভোটে ও ২০১৮ সালের নিশিরাতের ভোট ডাকাতির পর এবার ভাঁওতাবাজি নির্বাচন হবে। ৭ জানুয়ারি ভোটের নামে রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকার শ্রাদ্ধ করা হবে অত্যন্ত নিখুঁত ধূর্ততায়, জনগণের চোখে ধুলো দিয়ে।”

‘ডিগবাজিমার্কা-ভ্রষ্টচারী ব্যক্তিকে নির্বাচনী রঙ্গমঞ্চের অভিনেতা’

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, “রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে দিয়ে টার্গেট করে করে অর্থ ও এমপি বানানোর প্রলোভনে কিংস পার্টি-ভূইঁফোড় পার্টিতে রাজনৈতিক নেতাদের ঢুকানো হচ্ছে। তবে কোনো নীতিবান, আদর্শবাদী, দেশপ্রেমী রাজনীতিককে তারা নিতে পারছে না। কতিপয় ডিগবাজিমার্কা-ভ্রষ্টচারী রাজনৈতিক ব্যক্তিকে নির্বাচনী রঙ্গমঞ্চের অভিনেতা বানাতে কাজ করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “টাকার বিনিময়ে খরিদ হওয়া এইসব রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের কেউ কেউ এখনই নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। কারণ, তারা টাকা ও ক্ষমতার মুলোর লোভে পড়ে ডিগবাজি দেওয়ার পর এখন বুঝতে পারছেন- তাদের ভাগ্যে শিকে ছিঁড়বে না। পাতানো খেলার সাজানো নির্বাচনে হার হাইনেস- যাকে যাকে চাইবেন… তারাই হবেন এমপি, তারাই হবেন ক্ষমতাশালী, অন্য কেউ না।”

নির্বাচন এলে আগে দেশজুড়ে আনন্দ-উৎসবের জোয়ার নামতো উল্লেখ করে রিজভী বলেন, “এখন তার পরিবর্তে সারাদেশে ভয়ার্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। যারা আওয়ামী লীগ করে তারা ছাড়া সবাই গ্রেপ্তার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছে, বহু গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। মনোনয়ন নিয়ে ইতিমধ্যে খুনোখুনি শুরু করেছে তারা (আওয়ামী লীগ)। নির্বাচনকে সরকার উৎসবের বদলে ভয়, আতঙ্ক ও শোকে পরিণত করেছে।”

রিজভী জানান, গত দেড় মাসে বিএনপির ৫৮২ জন নেতাকর্মীকে “প্রহসনের বিচারে” দণ্ডিত ঘোষণা করা হয়েছে। আসামিদের অনুপস্থিতিতে চার্জ গঠন ও কারাগারে বন্দি অবস্থায় আসামিকে সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা শোনার সুযোগ না দিয়ে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করে সাজা ঘোষণা করা হচ্ছে। গত একদিনে সারাদেশে বিএনপির ৩২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ১৩টি মামলায় ১,০৩৫ জন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে ৪,২০০ এর বেশি বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; ১৩৮টি মামলায় ১৬,১২৫ জন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।

About

Popular Links