Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সুনামগঞ্জ-৪ আসনে নৌকা পেলেন পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক

এবার সুনামগঞ্জ জেলার ৫টি সংসদীয় আসনের ৩টিতেই নতুন মুখ খুঁজে নিয়েছে আওয়ামী লীগ

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৩, ০৬:০৪ পিএম

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।  সুনামগঞ্জ-৪ (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন ড. মোহাম্মদ সাদিক। তিনি সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক চেয়ারম্যান ও সরকারের সাবেক সচিব।

রবিবার (২৬ নভেম্বর বিকেল ৪টার দিকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৯৮ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এবার সুনামগঞ্জ জেলার ৫টি সংসদীয় আসনের ৩টিতেই নতুন মুখ খুঁজে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। সুনামগঞ্জ-৫ আসন থেকে চারবারের এমপি মুহিবুর রহমান মানিক এবং সুনামগঞ্জ-৩ আসন থেকে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান মনোনয়ন পেলেও বাকি তিনটি আসনে নতুন প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ-১ আসনে রনজিৎ সরকার, সুনামগঞ্জ-২ আসনে আবদুল্লাহ আল মাহমুদ চৌধুরী এবং সুনামগঞ্জ-৪ আসনে মোহাম্মদ সাদিক মনোনয়ন পেয়েছেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে মনোনয়ন ফরম কেনেন ৩,৩৬২ জন। এর আগে ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে ৪,০২৩ জন দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন।

প্রসঙ্গত, সরকার পতনের এক দফা দাবি ও একতরফা তফসিল বাতিলের দাবিতে বিএনপি সমমনা দলগুলোকে নিয়ে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনে রয়েছে। একই সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে ঘটছে নানা নাটকীয়তা। আলোচনায় আসছে ছোট ছোট নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত দলগুলো।

ভোটে যাওয়া নিয়ে দ্বিধায় থাকা জাতীয় পার্টি নির্বাচনের মাঠে পুরো শক্তি নিয়ে সক্রিয় থাকার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা ৩ দলের জোট “যুক্তফ্রন্ট”আন্দোলনে “না পেরে” নির্বাচনী মাঠের মোকাবিলার কথা বলেছে। তৃণমূল বিএনপিও বেশ তোড়জোর করছে। এছাড়া নিবন্ধিত ইসলামিক দলের মধ্যে ৭টি দল নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

এখন ইসিতে নিবন্ধিত দল রয়েছে ৪৪টি। এরমধ্যে বিএনপিসহ ১৮টি দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিন্ধান্তের কথা জানিয়েছে। তারা তাদের দাবিতে আন্দোলন করে যাবে বলে জানিয়েছে। এছাড়া নিবন্ধন হারানো জামায়াতে ইসলামী, কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে জন্ম নেওয়া নুরুল হক নূরের গণঅধিকার পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে। সব মিলিয়ে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে কতটি দল অংশ নেয় সেটি জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। ওইদিন মনোনয়ন জমা দেওয়ার নির্ধারিত শেষ সময়।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৯টি দল অংশ নিয়েছিল; ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর হওয়া এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৪৮.০৪% ভোট পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে। এই নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ভোট পায় ৩২.৫০% আর জাতীয় পার্টি পায় ৭.০৪% ভোট।

দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় ১২টি দল। বিএনপি ও সমমনাদের বর্জনের মধ্যে এই নির্বাচনে ৭২.১৪% ভোট পেয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। আর সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির পক্ষে ৭% ভোটার রায় দেন।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় ৩৯টি দল। এই নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট পড়ে ৭৬.৮০%, ধানের শীষে ১৩.৫১% আর লাঙ্গলে ৫.৩৭% ভোট পড়ে। পরে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি দল। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। আর সংসদে প্রধান বিরোধী দল হয় জাতীয় পার্টি।

গত ১৫ নভেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি। ওই দিন সকাল ৮টা থেকে টানা ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর।

মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর। সেদিন থেকেই প্রচারণা শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা।

About

Popular Links