Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নিরবে ভোট বিপ্লবের ‘স্বপ্ন দেখছে’ জাপা

চুন্নু বলেন, ভোট সুষ্ঠু করার জন্য দুই দলই (আওয়ামী লীগ ও জাপা) প্রয়োজনে আমরা মাঝেমধ্যে বসব। আমার কৌশল সবগুলো কি প্রকাশ করবো? এটা কি কেউ করে? লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেমের চিঠি লিখবো...

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৪:৩৭ পিএম

ভোটাররা কেন্দ্রে এলে নিরবে-নিভৃতে ভোট বিপ্লব হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।

শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) বনানীতে জাপা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

অন্য এক প্রশ্নে জাপা মহাসচিব বলেন, “সব আসনেই নির্বাচন করবো। নির্বাচন করতে এসেছি, ভোট থেকে চলে যাওয়ার জন্য আসিনি। ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ফাইট করবো, একটা সিটও প্রত্যাহার করবো না। কোনো (প্রার্থীর প্রার্থিতা) প্রত্যাহারের সুযোগ নেই, সব সিটেই নির্বাচন করবো।”

আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে

মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, “একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে বৈঠক করিনি। আগেও বলেছি, এখনো বলছি। নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি নিয়ে সময়ে সময়ে কথা বলেছি আওয়ামী লীগের সঙ্গে। আপনারা যেটা ইঙ্গিত দিলেন, সেটাও অনেক সময় হয়। সংসদীয় রাজনীতিতে অনেক সময় দেখা যায় স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার পদে যারা থাকেন তাদের আসনে নির্বাচন করেন না। ব্রিটিশ সংসদে এই ধরনের একটা নজির আছে। ভারতীয় সংসদসহ অনেক সংসদে দেখা যায় অনেক বিজ্ঞ বিজ্ঞ লোক আছেন। সেখানে দেখা যায় ভালো লোক যারা, ভালো সংসদ সদস্য- তাদের অনেক সময় ছাড় দেওয়া হয়।”

তিনি বলেন, “ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে ভোটের সার্বিক বিষয়, কোন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারলে ভালো হয়, সেই সব সুযোগ আছে কিনা- তা নিয়ে আলোচনা যে হয়নি তা নয়, হয়েছে। কোনো বিষয় নির্দিষ্ট করে আলোচনা হয়নি। আসনের বিষয়টা খুব বেশি মুখ্য না। সব আলাপ তো বলা যাবে না, আরও আলাপ হবে।”

চুন্নু বলেন, “এটা তো ঠিক, সব দল তার নিজস্ব প্রয়োজনে যেকোনো টেকনিকে একজন আরেকজনের সঙ্গে কথা বললে সবাই নিজের সুবিধাটা পেতে চায়। সেটা তো সবার বেলায় ঠিক।”

লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেমের চিঠি লিখব

জাপা মহাসচিব বলেন, “৭ তারিখের (৭ জানুয়ারির) আগ পর্যন্ত ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ভোটের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। কাল হয়েছে, আজকেও হবে। এর পরেও হবে। ১৮ তারিখ প্রতীক বরাদ্দ, তার পরেও হবে। আমরা দৃষ্টান্ত রাখতে চাই, ভোটে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব, কিন্তু ভোট সুষ্ঠু করার জন্য দুই দলই প্রয়োজনে আমরা মাঝেমধ্যে বসব। আমার কৌশল সবগুলো কি প্রকাশ করবো? এটা কি কেউ করে?”

তিনি আরও বলেন, “লুকিয়ে লুকিয়ে প্রেমের চিঠি লিখবো- এটা কি বাবা-মাকে প্রথমে বলা যায়? আত্মীয়- স্বজনকে বলা যায়? বলা যায় না। পরে যখন হয়ে যায়, তখন বলা যায়।”

প্রেমের সম্পর্ক কতটা এগিয়েছে? প্রশ্নের উত্তরে জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, “সম্পর্কে প্রেম হয় আবার বিরহ হয়, আবার প্রেম গভীর হয়, আবার বিরহ হয়। প্রেমের শেষ পরিণতি তো বিয়ে।”

এই প্রেমে নায়ক নাকি নায়িকার চরিত্রে আছে জাতীয় পার্টি? এর উত্তরে চুন্নু বলেন, “শুনুন, সবাই কিন্তু নায়ক হতে চায়। আমিও কিন্তু মনে মনে ভাবি, যদি সালমান (সালমান খান) হতে পারতাম বোম্বের (মুম্বাই)! বিয়ের আগে আমিও মনে করছি, আরে সবচেয়ে সুন্দর একটা মেয়েকে যদি আমি বিয়ে করতে পারতাম!”

এবার কি রাজনীতিতে নায়ক হতে চান? জবাবে জাতীয় পার্টির এই শীর্ষ নেতা বলেন, “আপনারা সাংবাদিক, আপনি কি চান না নামকরা সাংবাদিক আবদুস সালাম খান হবেন? আপনি কি চান না আপনি গাফফার চৌধুরী হবেন? অবশ্যই চান। প্রত্যেকের পেশায় লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য আকাঙ্ক্ষা থাকে। আমার আশা ছিল, আমি একদিন হাইকোর্টের বিচারক হবে। হয়ে গেলাম রাজনীতিক। আল্লাহ হয়তো সবার চাওয়াকে একভাবে না দিয়ে অন্যভাবে দেয়।”

জাতীয় পার্টি সব আসনে লড়াই করার ক্ষমতা রাখে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যদি নির্বাচনটা হয়, ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে আসার আস্থা সৃষ্টি হয়, তাহলে নীরবে নিভৃতে ভোট বিপ্লব হয়ে যেতে পারে। বেশি লাগে না ১৫১টা পেলেই হয়।”

১৫১টি কি পাবেন? এর উত্তরে চুন্নু বলেন, “বললাম না, বিয়ের আগে চিন্তা করেছিলাম বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়েটাকে বিয়ে করব। হয়ত সবচেয়ে সুন্দরী না, তবে কাছাকাছি বিয়ে করতে পারছি। আশা তো করি। আশা ফুলফিল অনেক সময় হয়, অনেক সময় হয় না। আশার দোলাচালেই তো আমাদের জীবন চলছে।”

জাতীয় পার্টির আসনে আওয়ামী লীগ প্রতীক প্রত্যাহার করবে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কারো প্রত্যাহার, কোনো মার্কা প্রত্যাহারে আমাদের কৌশল আছে, এটা আমরা এখনো বলতে চাই না।”

জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে; এ বিষয়ে চুন্নু বলেন, “হুমকি আমার ফোনে একটা না বহু আছে। বাট আই ডোন্ট কেয়ার, অনেক হুমকি আছে। আমি কোনো জিডি করার প্রয়োজন মনে করছি না। ভোটে যাবো এটা আমার রাজনীতি। আমি জিডি করবো না। করার দরকার বলে মনে করি না। আমি যুদ্ধ করেছি, কারও ভয়ে ভীত না। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই হুমকি এসেছে। ভোট থেকে সরে যাওয়ার বা করার জন্য না।”

About

Popular Links