Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সংসদে যেতে পাঁচবারের এমপিকে লড়তে হবে মেয়ের সঙ্গে

ময়মনসিংহ-৬ আসনে নৌকা পেয়েছেন মোসলেম উদ্দিন। দলীয় টিকেট না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মেয়ে সেলিমা বেগম সালমা

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:৫৫ পিএম

পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব থেকে সরে যেতে হয়েছিল ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. মোসলেম উদ্দিনকে। এবার সংসদে যাওয়ার লড়াইয়েও এই দ্বন্দ্ব বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে তার।

দলীয় টিকেট পেতে ব্যর্থ হয়ে নৌকার মোসলেমের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে “ঈগল” নিয়ে ভোটের মাঠে নেমেছেন মেয়ে সেলিমা বেগম সালমা। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের আরেক শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছে মাঠে। এ অবস্থায় পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সংসদে যাওয়ার লড়াইটা সহজ হবে না বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

বাবা-মেয়ে ছাড়াও এই আসনে ভোটের লড়াইয়ে আছেন আরও চারজন। এরমধ্যে দলীয় প্রার্থী দুজন- জাতীয় পার্টির মাহফুজুর রহমান বাবুল (লাঙ্গল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আব্দুর রশিদ (গামছা); স্বতন্ত্র হিসেবে আছেন আরও দুজন। তাদের একজন জাপার রওশনপন্থী নেতা অন্যজন আওয়ামী লীগ নেতা। স্বতন্ত্র দুজন হলেন ফুলবাড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মালেক সরকার (ট্রাক), জাপার রওশনপন্থী নেতা ডা. খন্দকার রফিকুল ইসলাম (কেটলী)।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন জানায়, মোসলেম উদ্দিন নৌকার হয়ে টানা পাঁচবার সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তার মেয়ে সেলিমা নব্বইয়ের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামছুন নাহার হলের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গত দেড় বছর আগে থেকে তিনি জনসংযোগ করে বেরাচ্ছেন নির্বাচনী এলাকায়। এবার দলীয় টিকেট চেয়েছিলেন সেলিমা। তবে তা না পেয়ে বাবার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। পরে আপিলে ফিরে পান বৈধতা।

বাবার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রসঙ্গে সেলিমা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ফুলবাড়িয়ায় সাধারণ মানুষের সেবা করছি। নির্বাচনে নৌকা প্রতীক চেয়েছিলাম। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি। তবে এই নিয়ে বাবা-মেয়ের মধ্যে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।”

সাতবার সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পাঁচবার প্রতিনিধিত্ব পান মোসলেম। ৮৫ বছর বয়সে আবার দলীয় প্রার্থী হয়েছেন এই প্রবীন রাজনৈতিক। তিনি টানা প্রায় ৪৫ বছর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে দলীয় ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে হারান সভাপতির পদ।

স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, “বাবা-মেয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে বেকায়দায় রয়েছে দলীয় নেতাকর্মীরা। পুরো উপজেলাতে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক সরকারও ভোটের মাঠে থাকায়- মোসলেমের নির্বাচনে জেতা অনেকটা কঠিন হবে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মালেক সরকার বলেন, “দলীয় ও পারিবারিক কোন্দলে জর্জরিত এই আসনটি। ফলে এখানে বিগত সময়ে তেমন কোনো উন্নয় হয়নি। দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরাও সবসময় অবমূল্যায়িত হয়েছে, যে কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি।”

তবে এসব বিষয়ে মোসলেম উদ্দিনের মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ আসনে মোট ভোটার রয়েছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৯৮৫ জন। পুরুষ ভোটার এক লাখ ৯৪ হাজার ৪৪২ ও মহিলা ভোটার এক লাখ ৯১ হাজার ৫৪৩ জন। এর মধ্যে দুইজন হিজড়া ভোটার রয়েছেন। ভোটকেন্দ্র ১২১টি ও ভোট কক্ষ রয়েছে ৮৫৭টি।

About

Popular Links