Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ভারতীয় সাংবাদিককে তারেক রহমানের সাক্ষাৎকার দেওয়ার নেপথ্যে

মার্কিন প্রভাবশালী সাময়িকী ‘দ্য ডিপ্লোম্যাটে’ সাক্ষাৎকারটি গত ১৮ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়। কলকাতার বাঙালি সাংবাদিক স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:১২ পিএম

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০০৮ সালে থেকে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি যুক্তরাজ্যে স্বেচ্ছা নির্বাসনে রয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে তার অনুপস্থিতিতে বেশ কয়েকটি মামলায় তার সাজাও হয়েছে। তিনি যুক্তরাজ্যে বসে দলীয় সভা-সমাবেশ ও জনসভার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বিএনপির ইউটিউব ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া সাইটে তার ভিডিও বক্তব্য নিয়মিত প্রচার করা হয়।

এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো তিনি কোনো সংবাদমাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। মার্কিন প্রভাবশালী সাময়িকী “দ্য ডিপ্লোম্যাট”-এ সাক্ষাৎকারটি গত ১৮ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়। কলকাতার বাঙালি সাংবাদিক স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন।

একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও “পলাতক” তারেক রহমানের বক্তব্য বাংলাদেশের মিডিয়ায় প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ২০১৫ সালে আদালতের একটি আদেশের পর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এ জন্য পশ্চিমা প্রভাবশালী সাময়িকীতে সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হলেও বাংলাদেশের কোনো গণমাধ্যমে তা প্রকাশিত হয়নি।

বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ৭ জানুয়ারি। এর আগে এই সাক্ষাৎকারটি ঘিরে বিএনপির বিভিন্ন স্তরে নেতাকর্মীদের মধ্যেও তীব্র কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারেক আসলে ঠিক কোন লক্ষ্য হাসিল করতে চেয়েছেন?

সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য ভারতের দ্য ওয়ার, স্ক্রোল, ফার্স্টপোস্ট-সহ বিভিন্ন পোর্টালে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে গবেষণাধর্মী লেখালেখি করেন। “মিশন বেঙ্গল: আ স্যাফরন এক্সপেরিমেন্ট” (পশ্চিমবঙ্গ দখলে বিজেপির অভিযান নিয়ে) এবং “লালগড় অ্যান্ড দ্য লেজেন্ড অব কিষানজি” (মাওবাদী আন্দোলন নিয়ে) নামে দুটি গ্রন্থেরও লেখক তিনি। 

আর স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্যকে তারেক রহমানের সাক্ষাৎকারটি পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী ও বিএনপির যুক্তরাজ্য শাখার শীর্ষ নেতা এম এ মালেক।

ঢাকা ও লন্ডনে বিএনপি নেতৃত্বের বিভিন্ন পর্যায়ে কথাবার্তা বলেই এই সাক্ষাৎকারের ঘটনাক্রম সম্পর্কে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন জানতে পেরেছে।

খোঁজ-খবরে জানা গেছে, মূলত যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বকে বিএনপির নির্বাচন বয়কটের যৌক্তিকতা বোঝানোর জন্যই যে তারেক রহমান এই সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হয়েছেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

এর আগে গত মাসের শেষ দিকে আল জাজিরার জন্য স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর একটি সাক্ষাৎকার নেন। ২৯ নভেম্বর ডেটলাইনে প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছিলেন- কেন তারা ৭ জানুয়ারির নির্বাচনকে “প্রহসন” বলে মনে করছেন এবং কেন বিএনপি সেই “প্রহসনের নির্বাচনে” অংশ নেবে না।

ওই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হওয়ার পরই সাংবাদিক স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য রুহুল কবির রিজভীকে অনুরোধ জানান, তাদের শীর্ষ নেতা তারেক রহমানের একটি পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকার নেওয়ার ব্যবস্থা করিয়ে দিতে।

সাংবাদিক স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য রিজভীকে আরও জানান, তারেক রহমান এই প্রস্তাবে রাজি হলে ওই সাক্ষাৎকারটি “দ্য ডিপ্লোম্যাটে” প্রকাশিত হবে। এই প্রস্তাবে তারেক রহমান প্রথমে কিছুটা দ্বিধান্বিত থাকলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তার বার্তা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া যাবে- ভেবে দিন কয়েকের মধ্যে রাজি হয়ে যান।

বাংলাদেশে এবারের নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বেশ “সক্রিয়”; দেশটি পৃথক ভিসানীতি পর্যন্ত ঘোষণা করেছে। সেই পটভূমিতেই তারেক রহমান ওয়াশিংটনের কাছে বিএনপির বক্তব্য সরাসরি পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন মনে করেছিলেন।

তারেক রহমানকে ওই সাক্ষাৎকার দিতে রাজি করানোর ক্ষেত্রে লন্ডনে তার অত্যন্ত আস্থাভাজন নেতা ও বিশ্বস্ত সঙ্গী এম এ মালেকেরও একটা বড় ভূমিকা ছিল বলে জানা গেছে।  

এরপর স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য তারেকের জন্য ই-মেইলে একটি “কোয়েশ্চেনিয়ার” বা প্রশ্নমালা আগাম পাঠাতে বলা হয়। কয়েকটি প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গিয়ে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তার উত্তরও পাঠানো হয়। কয়েকটি উত্তর নিয়ে আরও প্রশ্ন থাকায় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলারও অনুরোধ জানান, বিএনপি নেতা তাতেও সম্মতি দেন।

কলকাতা আর লন্ডনের মধ্যে ইমেইল আর টেলিফোন আলাপের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত সাক্ষাৎকারটি চূড়ান্ত করা হয়।

একজন ভারতীয় সাংবাদিক কেন তারেকের সাক্ষাৎকার নিলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক নেতা বলেন, “এর সঙ্গে ভারতের কোনো সম্পর্ক নেই। তারেক পশ্চিমাদের কাছে আমাদের বার্তা (নির্বাচন সম্পর্কে) সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার জন্য সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হয়েছেন। দ্য ডিপ্লোম্যাটের জন্য কাজ করা পোলিশ বা পেনসিলভেনিয়ান সাংবাদিক এই সাক্ষাৎকার নিতে চাইলেও তিনি নিশ্চয় তা প্রত্যাখ্যান করতেন না।”

About

Popular Links