Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

হবিগঞ্জে ঈগলের চ্যালেঞ্জের মুখে নৌকা-লাঙ্গলের প্রার্থীরা

হবিগঞ্জের সিনিয়র সাংবাদিক মনসুর উদ্দিন বলেন, হবিগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও জাপা প্রার্থীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৪:০৬ পিএম

আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের ভোট। বিএনপি এই নির্বাচন বর্জন করে আন্দোলনে রয়েছে। বিএনপির বর্জনের এই ভোটে অংশ নিচ্ছে ২৭টি রাজনৈতিক দল। এছাড়া আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোটে থাকা জাতীয় পার্টিও এককভাবে অংশ নিচ্ছে।

বিএনপি ভোটে না থাকায় ভোটের লড়াইয়ে তেমন উৎসাহ না থাকলেও কিছু আসনে ক্ষমতাসীন দলটির শক্তিশালী ও জনপ্রিয় “স্বতন্ত্র” প্রার্থীর কারণে বেশ জমে উঠেছে নির্বাচনী হাওয়া।

হবিগঞ্জে চারটি আসনের মধ্যে একটি “জাতীয় পার্টির জন্য ছেড়ে দিয়ে” তিনটিতে দলীয় প্রতীক দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এরমধ্যে একটি আসনে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে নৌকার প্রার্থী। বাকি দুই আসনে দলীয় “স্বতন্ত্র” প্রার্থীর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন তারা। জাতীয় পার্টির লাঙ্গলও কাঁপছে আওয়ামী লীগের “স্বতন্ত্রের” হাওয়ায়। হবিগঞ্জ-১, ২ ও ৪ আসনে “ঈগল”র সঙ্গে মূল লড়াই হবে নৌকা ও লাঙ্গলের।

ঈগলের মুখোমুখি মুনিমের লাঙ্গল

হবিগঞ্জ-১ আসনে ক্ষমতাসীন দলের টিকেট পেয়েছিলেন বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা ডা. মুশফিক হুসেন চৌধুরী। পরবর্তীতে দলীয় সিদ্ধান্তে তাকে ছেড়ে দিতে হয় নির্বাচনের মাঠ। মাঠে প্রবেশ করেন “সমঝোতায় আসা” লাঙ্গলের এমএ মুনিম চৌধুরী বাবু। মুনিম এর আগেও লাঙ্গলে সওয়ার করে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।

“আওয়ামী লীগের সমর্থন” পেয়েও সংসদে যাওয়ার লড়াইয়ে “অগ্নিপরীক্ষার” মুখে পড়েছেন মুনিম। সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর “ঈগল”কে পরাস্ত করেই লাঙ্গলের জয় নিশ্চিত করতে হবে তাকে।

আসনটিতে ভোটার রয়েছেন ৪ লাখ ৩১ হাজার ৪১৮ জন। ২০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনটির ভোটাররা বলছেন, “মুনিমের জয় সহজ হবে না। কেয়া চৌধুরী বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।”

হবিগঞ্জ-১ আসনে এই দুই প্রার্থী ছাড়াও আরও প্রার্থী হয়েছেন ইসলামী ঐক্যজোটের মোস্তাক আহমেদ ফারহানী, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের মো. নুরুল হক ও দলনিরপেক্ষ প্রার্থী মোহাম্মদ শাহেদ। তবে ভোটের ময়দানে এই প্রার্থীদের তেমন হাকডাক নেই।

টিকেট হাতছাড়া হলেও মাঠে দাপুটে বর্তমান এমপির ‘ঈগল’

বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-২ সংসদীয় আসনটি। এই আসন থেকে নৌকার টিকেটে জয় নিয়ে বর্তমানে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন এডভোকেট মো. আব্দুল মজিদ খান। দ্বাদশ সংসদের লড়াইয়ে “বৈঠা” হাতে পাননি তিনি। নৌকার হাল ধরেছেন এডভোকেট ময়েজ উদ্দিন শরীফ রুয়েল। আর দলীয় বাধা না থাকায় “স্বতন্ত্র” হয়ে মাঠে নেমেছেন মজিদ খান। তিনি পেয়েছেন ঈগল প্রতীক।

এই আসনটিতে নৌকার সঙ্গে ঈগলের মূল প্রতিযোগিতা হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা। ভোটাররা বলছেন, “ময়েজ উদ্দিনকে সহজে মাঠ ছেড়ে দেবেন না মজিদ খান।” এ নিয়ে এলাকায় বেশ ভোটের আমেজও তৈরি হয়েছে।

এই দুই প্রার্থী ছাড়াও এখানে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় পার্টির দলীয় প্রার্থী শংকর পাল, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের মনমোহন দেবনাথ, ইসলামী ঐক্যজোটের শেখ হিফজুর রহমান, তৃণমূল বিএনপির খাইরুল আলম, বিএনএমের এসএএম সোহাগ, ইসলামিক ফ্রন্টের মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ, কংগ্রেসের জিয়াউর রশিদ।

শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় নির্ভার আবু জাহির

দুটি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে হবিগঞ্জ-৩ আসনটি গঠিত। হবিগঞ্জ সদর-লাখাই-শায়েস্তাগঞ্জ নিয়ে গঠিত এই আসনে ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৬৮১ জন।

হবিগঞ্জের মধ্যে এই আসনটিতেই ভোটের আমেজ কম। নিরুত্তাপ এই ভোটের ময়দানে নৌকার প্রার্থী এডভোকেট মো. আবু জাহির অনেকটা “প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন”। তার বিরুদ্ধে শক্তিশালী কোনো প্রার্থী নেই। ভোটের মাঠে রয়েছেন জাতীয় পার্টির এমএ মুমিন চৌধুরী বুলবুল, বিএনএমের বদরুল আলম সিদ্দিকী, তরিকত ফেডারেশনের আদম আলী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আব্দুল কাদির, জাকের পার্টির আনসারুল হক, ইসলামিক ফ্রন্টের আবদুল ওয়াহেদ, কংগ্রেসের নোমান হাসান, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের শাহিনুর রহমান। তবে তাদের ভোটের মাঠের অবস্থান অতটা শক্তিশালী নয় বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।

ব্যারিস্টার সুমনে কুপোকাৎ হতে পারেন প্রতিমন্ত্রী

তারকা আইনজীবী ও যুবলীগের সাবেক নেতা ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন “বড়সড় ধাক্কা দিতে পারেন” হবিগঞ্জ-৪ আসনের নৌকার প্রার্থী ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীকে।

ভোটের প্রচারণা শুরু হতেই মাহবুবের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙের অভিযোগ এনেছিলেন সুমন। সুমনের জনপ্রিয়তা ও তরুণদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা মাহবুবেব নৌকা ডোবাতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা। সুমন “ঈগল” প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন।

২১টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে ভোটার রয়েছেন ৫ লাখ ১২ হাজার ২৬৬ জন। আসনটিতে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় পার্টির আহাদ উদ্দিন চৌধুরী, কংগ্রেসের আল আমিন, ইসলামী ঐক্যজোটের আবু ছালেহ, বিএনএমের মুখলেছুর রহমান, ইসলামিক ফ্রন্টের আব্দুল মুমিন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক ঐকজোটের মো. রাশেদুল ইসলাম খোকন।

হবিগঞ্জের ৪টি আসনে সবমিলিয়ে ৩১ জন প্রার্থী থাকলেও স্বতন্ত্র ছাড়া অন্য দলীয় প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা তেমন চোখে পড়ছে না। অনেক এলাকায় ভোটারা চেনেনও না প্রার্থীদের।

বিএনপি না থাকলেও “স্বতন্ত্র”দের জন্য ভোটের মাঠ বেশ সরগরম বলে মনে করেন হবিগঞ্জের সিনিয়র সাংবাদিক মনসুর উদ্দিন আহমেদ ইকবাল।

তিনি বলেন, “হবিগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও জাপা প্রার্থীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। ক্ষমতাসীন ও সংসদের বিরোধী দলের বাইরে ভোটের প্রচারণায় রয়েছেন শুধু স্বতন্ত্ররা।”

আগামী ৭ জানুয়ারি হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট। ভোটের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়েছে ১৫ নভেম্বরের পর। ওইদিন দ্বাদশ সংসদের তফসিল ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। আগামী ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রচারণা চালাতে পারবেন তারা।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর এখন পর্যন্ত ২৭টি দলের ১,৫১৩ জন ও স্বতন্ত্র ৩৮২ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন। এই ১,৮৯৫ জন প্রার্থী প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। আদালতের আদেশে আরও কিছু প্রার্থী যুক্ত হতে পারেন।

About

Popular Links