Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘সর্বজনীন’ ভোট বর্জনের আহ্বান বিএনপির

মঈন খান বলেন, ভাতা কার্ড জব্দ করে বা ভাতা বন্ধ করে বা জাতীয় পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নিয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধ্য করে কোনো অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যারা জড়িত হচ্ছেন; ভবিষ্যতে তাদের আইনের কাছে জবাবদিহি করতে হবে

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৪, ০৪:৫৭ পিএম

আগামী ৭ জানুয়ারির “সর্বজনীন ভোট বর্জনের” আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান এই আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “একদলীয় বাকশালী সরকারের সময় ফুরিয়ে এসেছে। তাদের অন্যায় ও অবৈধ হুমকিকে পরোয়া করার আর কোনো কারণ নেই। ভোট বর্জনের মাধ্যমে একদলীয় শাসনের কবল থেকে দেশের মানুষ শিগগিরই মুক্তি পাবে এই প্রত্যাশা করছি।”

শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) গুলশানে মঈন খানের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির আরও দুই সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

মঈন খান বলেন, “আপনারা সাহসিকতার সঙ্গে সরকারের ভয়ভীতির মোকাবিলা করুন; যারা আপনাকে ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধ্য করতে চায় তাদের চিহ্নিত করুন। ভাতা কার্ড জব্দ করে বা ভাতা বন্ধ করে বা জাতীয় পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নিয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধ্য করে কোনো অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যারা জড়িত হচ্ছেন; ভবিষ্যতে তাদের আইনের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “অল্প কয়েক মাস আগে এক উপনির্বাচনে ৫৩ সেকেন্ডে ৪৭টি ভুয়া ভোটের সিল মারা হয়েছিল। ভাতা কার্ডের বিনিময়ে বাংলাদেশের কোনো নাগরিককে ভোট দিতে বাধ্য করা সম্পূর্ণ বেআইনি।”

বিএনপির একটি উদারনৈতিক শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক দল উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, “বিএনপিকে নিয়ে অনেক গল্প সরকার সাজিয়েছে, অনেক মিথ্যা ঘটনা তারা সৃষ্টি করে তার দায়-দায়িত্ব বিএনপির ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছে। আমরা জানি অতীতে হয়তো এমন একটি বিশ্ব পরিবেশ-পরিস্থিতি ছিল… আপনারা জানেন। আফগানিস্তানের একটি চিত্র ছিল, তখন হয়তো সরকারের এই সব গাল-গল্প অনেককে মিথ্যাভাবে প্রভাবিত করেছে। কিন্তু আজকের পৃথিবী আলাদা। আজকে সরকার নতুন করে ২০১৪ এর ফর্মুলা অ্যাপ্লাই করে, বিএনপি বিরুদ্ধে মিথ্যা ভাবমূর্তি তৈরিতে দেশে বা বিদেশে প্রচার করতে চাইছে, কিন্তু তাদের সেই প্রচেষ্টা ইতিমধ্যে ব্যর্থ হয়ে গেছে।”

তিনি বলেন, “সরকার ভাবছে ৭ জানুয়ারি তাদের জয়লাভের দিন। আমি বলবো, ৭ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সরকারের পরাজয়ের দিন। কারণ সেদিন তারা বাংলাদেশের নতুন করে অপমৃত্যু ঘটাবে।”

স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, “এর আগেও আমাদের আন্দোলনকে বিপথগামী করতে; বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে সরকার নিজেই বেশ কিছু ঘটনা ঘটিয়ে তার দায় আমাদের ওপর চাপানো চেষ্টা করেছে। এখনো সেই অপচেষ্টা চলছে। কদিন আগে ঢাকা মহানগরীর ভেতরে বেশকিছু গাড়িতে আগুন ধরে গেল এবং বেশ কিছু লোক মারা গেল। কোনো তদন্ত ছাড়াই সেদিন পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হলো- যারা অবরোধ করেছে, তারাই এটা করেছে। গোটা ব্যাপারটা একটা অপরাধের কথা, একটা অনুমান নির্ভর একটা কথা বলা… তারপরে সেই কাজটা ঘটানো এবং ঘটিয়ে তার দায় বিরোধী দলের ওপর চাপানো। এটা এখন থেকে নয়, বহু বছর ধরে সরকার এই অপকৌশল চালিয়ে আসছে।”

এ সময় উপস্থিত স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, “দেখুন হরতাল মানে কী? আমাদের প্রতিবাদ। আমাদের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে যতখানি সম্ভব করবে। আজকেও খবরে কাগজে এসেছে, সহিংসতায় দুজন মারা গেছে… এটা প্রতিদিন ঘটছে। এখন ওদের (সরকার) একটা মাত্র লক্ষ্য আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর যেভাবে হোক দায় চাপানো। আমরা সেটা হতে দেবো না।”

তিনি আরও বলেন, “জনগণের কাছে আবেদন জানিয়েছি, আপনারা হরতাল পালন করুন; নির্বাচন বর্জন করুন। সেজন্য আমাদের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করবে।”

সরকারের পতন ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে থাকা বিএনপি ভোট বর্জন করেছে। বিএনপির বর্জনের মধ্যেই হচ্ছে জাতীয় নির্বাচন। এখন নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে দলটি। একইসঙ্গে সরকারকে সর্বক্ষেত্রে অসহযোগিতা করতেও মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে চায় তারা।

গত ২৮ অক্টোবর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে মহাসমাবেশ পণ্ড হয়ে যাওয়ার পর থেকে চার দফায় ৫ দিন হরতাল এবং ১২ দফায় ২৩ দিন অবরোধ করেছে বিএনপি। এরইমধ্যে ভোট বর্জনে অসহযোগের ডাক দিয়ে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণের কর্মসূচি পালন করছে দলটি।

এরইমধ্যে ৭ জানুয়ারি ভোট বর্জনে শনিবার ভোর ৬টা থেকে ৪৮ ঘণ্টার হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো।

About

Popular Links