Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জিএম কাদের: সিন্ডিকেটকে সরকারের চেয়ে শক্তিশালী মনে হচ্ছে

তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে দেশের মানুষ ভীষণ কষ্টে আছে

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৪, ০৬:৫৪ পিএম

জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের বলেছেন, “গুটিকয়েক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করছে। এই সিন্ডিকেটের কাছে সরকারও জিম্মি। সরকার ইচ্ছা করলেও তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। তারা (সিন্ডিকেট) সরকারের চেয়েও শক্তিশালী মনে হচ্ছে।”

সোমবার (১১ মার্চ) রংপুর সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

জিএম কাদের বলেন, “নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে দেশের মানুষ ভীষণ কষ্টে আছে। তারা যা উপার্জন করছে, তারচেয়ে বেশি ব্যয় হচ্ছে। দিন দিন তা বেড়ে চলছে।”

তিনি বলেন, “রমজান উপলক্ষে সরকার বিভিন্ন আশ্বাস দিয়েছিল। অনেক কর মওকুফ করা হবে। বিভিন্ন ভাবে রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। তবে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।”

তিনি বলেন, “গুটিকয়েক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করছে। এদের কাছে সরকারও জিম্মি। সরকার চাইলেও তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। এরা সরকারের চেয়েও শক্তিশালী মনে হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “তারা (সিন্ডিকেট) সবাই সরকারের নীতি নির্ধারনের সঙ্গে বিভিন্নভাবে জড়িত। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজার সরকারের ইচ্ছায় নয়, তাদের ইচ্ছায় নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। ফলে সরকার জনগণকে সেবা দিতে চাইলেও পারছে না। এজন্য আপাতত জনগণের দুর্ভোগ কমার কোনো লক্ষ্মণ দেখা যাচ্ছে না।”

রওশন এরশাদের নেতৃত্বে আরেক জাতীয় পার্টি গঠনে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে বলেও দাবি করেন জিএম কাদের। তিনি বলেন, “তাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জল ভাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। এভাবে সরকার যদি বেআইনিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করে, তাহলে স্বাভাবিক রাজনীতি ব্যহত হবে, দেশ ও জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

তিনি আরও বলেন, “জাতীয় পার্টিকে দুর্বল করতে সরকার বিভিন্নভাবে দলের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করে দলাদলি সৃষ্টির চেষ্টা করছে।”

জিএম কাদের বলেন, “এবার যেটা হয়েছে। আইনগত কাঠামোর বাইরে ব্যক্তিগতভাবে করা হয়েছে। যারা এসব করেছে, তাদের বেশিরভাগ জাতীয় পার্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন। যা করেছে তাও আইনানুগ নয়।”

আসন্ন উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি অংশ নেবে জানিয়ে তিনি বলেন, “সারাদেশের কথা বলবো না। তবে রংপুরে আমরা শক্তিশালী দল। তৃণমূল পর্যন্ত আমাদের শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো ও জনগণের ব্যাপক সমর্থন আছে।”

ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, “সংসদ নির্বাচনে যেভাবে কিছু কিছু জায়গায় নির্বাচন নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত হয়েছে। তাতে নির্বাচন করা ঝুকিপূর্ণ। তবুও আমরা নির্বাচনমুখী দল। তাই নির্বাচনে অংশ নেবো।”

এর আগে, ঢাকা থেকে উড়োজাহাজে করে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আসেন তিনি৷ সেখান থেকে রংপুর সার্কিট হাউজে এলে দলের নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এ সময় রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির , জেলা সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকসহ আরও বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

About

Popular Links