Wednesday, June 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া যখন অভিশাপ (পর্ব ১)

বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের স্বীকৃতি পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে ব্রাজিল এবং ইতালি বাদে কোনো দলই বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২২, ১০:৩০ পিএম

বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হয়েছে ১৯৩০ সাল থেকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯৪২ এবং ১৯৪৬ সালে বিশ্বকাপের পর্দা না ওঠায় এখন পর্যন্ত এ প্রতিযোগিতার ২১টি আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এতগুলো আসরের মধ্যে শিরোপা জিততে পেরেছে মাত্র ৮টি দেশ। 

ফুটবল খেলুড়ে যেকোনো দেশেরই লক্ষ্য থাকে ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা জেতা। বিশ্ব ফুটবলের সেই শ্রেষ্ঠত্বের স্বাদ নিতে ফেবারিট এবং শক্তিশালী দলগুলোর চেষ্টার কোনো কমতি থাকে না। কিন্তু সাফল্য ধরা দেয় না সবার কাছে।

বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের স্বীকৃতি পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে ব্রাজিল (১৯৫৮, ১৯৬২) এবং ইতালি (১৯৩৪, ১৯৩৮) বাদে কোনো দলই বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি। বিশ্বকাপ জেতা কঠিন- এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু সেই শিরোপা ধরে রাখাটা যে নিঃসন্দেহে আরও কঠিন- তা এই ছোট তথ্যেই স্পষ্ট।

বিশ্বকাপ শিরোপা না হয় ধরে রাখা কঠিন, তাই বলে শিরোপা ধরে রাখতে এসে গ্রুপপর্বেই বাড়ি ফিরে যাওয়া? এ তো রীতিমতো অঘটন। এমন অঘটনের শিকার পাঁচটি দল। এদের মধ্যে এক দল আবার দ্বিতীয়বারের মতো এমন ভরাডুবির শিকার হয়েছে।

চলুন তাহলে দেখে নিই সেই পাঁচ দলের তিনটিকে, যারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরবজ্বল অভিশাপ নিয়ে প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিয়েছিল-

ইতালি (১৯৫০)

১৯৩৪ এবং ১৯৩৮ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলের (তৎকালীন জুলেরিমে কাপ) শিরোপা জিতে প্রথম দল হিসেবে টানা দুবার বিশ্বকাপ জেতার কীর্তি গড়েছিল ইতালি। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে এক যুগ বিরতির পর আয়োজিত প্রথম বিশ্বকাপেই তাদের প্রত্যাবর্তন সুখকর হয়নি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার পর ইতালি অবশ্য ১৯৫০ বিশ্বকাপে অংশই নিতে চায়নি। তবে সেবার আয়োজক ব্রাজিলের অনুরোধে পরবর্তীতে ঠিকই টুর্নামেন্টে খেলতে এসেছিল ডিফেন্ডিং বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এসে যেন লজ্জারই চূড়ান্ত নিদর্শন সঙ্গী হলো তাদের।

১৯৫০ সালে বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে ডিফেন্ডিং বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েও গ্রুপপর্বে বিদায় নেয় ইতালি/সংগৃহীত

টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে ২-৩ গোলে হেরে যায় ইতালি। পরের ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ২-০ গোলে হারালেও তা পরের রাউন্ডে পা রাখার মতো যথেষ্ট ছিল না। ফলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে ডিফেন্ডিং বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েও গ্রুপপর্বে বিদায় নেয় আজ্জুরিরা।

ব্রাজিল (১৯৬৬)

ইতালির মতো ব্রাজিলও টানা দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ১৯৬৬ বিশ্বকাপে এসেছিল। সেলেসাওদের স্বপ্ন ছিল প্রথম দল হিসেবে টানা তিনবার বিশ্বকাপ শিরোপা জেতা। সেটি তো হয়ইনি, বরং বাড়ি ফিরতে হয়েছে মাথা হেঁট করে।

প্রথম ম্যাচে বুলগেরিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে হ্যাটট্রিক বিশ্বকাপ জয়ের মিশনের শুরুটা অবশ্য ভালোই করেছিল ব্রাজিল। কিন্তু সেই শুভ সূচনার মূল্য চুকাতে হয়েছিল ফুটবলের রাজা পেলের ইনজুরির মাধ্যমে। চোটগ্রস্ত পেলে ব্রাজিলের পরের ম্যাচটিতে মাঠের বাইরে থাকলেন, সেলসাওরাও হাঙ্গেরির কাছে ১-৩ গোলে পরাজিত হলো।

১৯৬৬ সালে প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র লাতিন আমেরিকান ডিফেন্ডিং বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নেয় ব্রাজিল/সংগৃহীত

ব্রাজিলিয়ানদের বাঁচাতে শেষ ম্যাচে চোট কাটিয়ে মাঠে নামেন পেলে। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। উল্টো পর্তুগালের কাছে ১-৩ গোলে হেরে প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র লাতিন আমেরিকান ডিফেন্ডিং বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নেয় ব্রাজিল।

ফ্রান্স (২০০২)

বিশ্ব ফুটবলে এক সময়ে বড় কোনো শক্তি না হলেও ১৯৯৮ সালে দেশের মাটিতে অপরাজিত হিসেবে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফ্রান্স। পরবর্তীতে ২০০০ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০০১ সালে কনফেডারেশন্স কাপের শিরোপাও জিতে নেয় ফরাসিরা।

২০০২ বিশ্বকাপেও ফ্রান্সকে হট ফেবারিট ধরা হলেও বিশ্বকাপে তারা ছিল নিতান্তই অচেনা। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচেই নবাগত সেনেগালের কাছে ০-১ গোলে হেরে যায় ফ্রান্স। পরের ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে খাদের কিনারায় চলে যায় লা ব্লুজরা।

২০০২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই নবাগত সেনেগালের কাছে ০-১ গোলে হেরে যায় ফ্রান্স/সংগৃহীত

ফরাসিদের সর্বনাশের ষোলকলা পূর্ণ হয় গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে। বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ডেনমার্কের কাছে ০-২ গোলে পরাজয় বরণ করে ফ্রান্স। শিরোপা প্রত্যাশী দল হিসেবে এসেও কোনো গোলের দেখা না পেয়েই প্রথম রাউন্ড থেকে মাথা হেঁট করে বিদায় নেয় তারা।

About

Popular Links