Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোতে উঠেও অস্বস্তিতে পিএসজি

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোতে ফরাসি ক্লাবটির প্রতিপক্ষ হতে পারে রিয়াল মাদ্রিদ, বায়ার্ন মিউনিখ, ম্যানচেস্টার সিটি কিংবা চেলসির মতো দলগুলো

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২২, ১১:৫৮ এএম

এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপপর্বে পিএসজি যেন রীতিমত উড়ছিল। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। জুভেন্টাসের বিপক্ষে তাদের মাঠে ২-১ গোলে জয়লাভ করে পুরো গ্রুপপর্বে অপরাজিত থাকল প্যারিসিয়ানরা। তবে জয়ের পরেও স্বস্তিতে নেই পিএসজি। নিজ গ্রুপে সেরা হয়ে নকআউট পর্বে যাওয়ার যাওয়ার দৌড়ে ভালোমতো এগিয়ে থাকলেও অপর ম্যাচে ম্যাকাবি হাইফার বিরুদ্ধে ৬-১ গোলে জয়ে প্যারিসিয়ানদের টপকে গ্রুপসেরা হয়েছে বেনফিকা।

বুধবার (২ নভেম্বর) ইতালির তুরিনের অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় জুভেন্টাসের মুখোমুখি হয় পিএসজি। আগেই গ্রুপপর্ব থেকে ইতালিয়ান পরাশক্তিদের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় ম্যাচটি ছিল নিছকই আনুষ্ঠানিকতার। তবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য পিএসজির সামনে জয়ের বিকল্প ছিল না। যদিও গ্রুপের চতুর্থ স্থানে নেমে না গিয়ে ইউরোপা লিগে অংশগ্রহণ নিশ্চিতের জন্য ওল্ড লেডিদের কাছেও ম্যাচটির গুরুত্ব একদম কম ছিল না।

হলুদ কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞায় এই ম্যাচে ছিলেন না নেইমার। ঘরের মাঠে নিজেদের দর্শকদের সামনে পিসজির বিপক্ষে জুভেন্টাসের শুরুটা ভালোই ছিল। কয়েকবার প্যারিসিয়ানদের রক্ষণে হানা দিলেও গোল বের করতে ব্যর্থ হয় তারা। তবে ম্যাচের প্রথম গোলটি আদায় করে নেয় পিএসজিই। ম্যাচের ১৩ মিনিটে লিওনেল মেসির কাছ থেকে বল পেয়ে গোল করে তুরিনের বুড়িদের বিপক্ষে প্যারিসের ক্লাবটিকে এগিয়ে দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।

গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে আক্রমণের ধার বাড়ায় জুভেন্টাস। আর্কাদিউস মিলিক, মানুয়েল লোকাটেল্লি, হুয়ান কুয়াদ্রাদো এবং আলেক্স সান্দ্রোর প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত সমতাসূচক গোল পাচ্ছিল না দুবারের ইউরোপ সেরারা। তবে মধ্যবিরতির ৬ মিনিট আগেই সমতায় ফেরে জুভেন্টাস। কুয়াদ্রাদোর সহায়তায় ডিফেন্ডার লিওনার্দো বুনোচ্চির গোলে ম্যাচে ফেরে ইতালিয়ান ক্লাবটি।

জুভেন্টাসের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতলেও গ্রুপ রানারআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে পিএসজিকে/সংগৃহীত

দ্বিতীয়ার্ধে পরস্পরের বিরুদ্ধে সমানতালে আক্রমণ চালিয়ে যায় জুভেন্টাস এবং পিএসজি। তবে ফিনিশিং থার্ডে দুর্বলতার কারণে কোনো দলের আক্রমণই পূর্ণতা পাচ্ছিল না। ম্যাচের ৬৮ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন লেফটব্যাক নুনো মেন্ডেজ। পিএসজির প্রথম গোলদাতা এমবাপ্পের সহায়তায় পরের মিনিটেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ২০ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ লেফটব্যাক। বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে প্যারিসিয়ানরা।

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য পিএসজ নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করেছিল। তবে বেনফিকা নাটকীয়ভাবে রীতিমতো অসাধ্য সাধন করেই ফরাসি ক্লাবটিকে টপকেছে। প্রথমার্ধ শেষে জুভেন্টাস-পিএসজি ম্যাচে যখন ১-১ গোলে সমতা বিরাজ করছে, তখন ইসরায়েলে ম্যাকাবি হাইফা এবং বেনফিকার মধ্যকার ম্যাচের স্কোরলাইনও একই। তখন পর্যন্ত গ্রুপ শ্রেষ্ঠত্বের দৌড়ে এগিয়ে ছিল ফরাসি ক্লাবটিই।

তবে মধ্যবিরতির পর সব হিসেব পাল্টে যায়। ম্যাকাবি হাইফার বিপক্ষে আগ্রাসী হয়ে গোল উৎসবে মেতে ওঠে বেনফিকা। ম্যাচের ৫৯, ৬৯,৭৩ এবং ৮৮ মিনিটে ইসরায়েলি ক্লাবটির জালে বল জড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলে পর্তুগালের ক্লাবটি। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে ম্যাচ যখন অতিরিক্ত যোগ করা সময়ে গড়ায় তখনও গ্রুপ সেরার লড়াইয়ে এগিয়ে। কিন্তু যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আরেকটি গোল করে বসে বেনফিকা। আর তাতেই কপাল পোড়ে পিএসজির।

গ্রুপপর্বের ৬ ম্যাচ শেষে দুই ড্র আর চার জয়ের মাধ্যমে পিএসজি এবং বেনফিকা দুই দলেরই সংগ্রহ সমান ১৪ পয়েন্ট। গ্রুপপর্বে পিএসজি-বেনফিকার মধ্যকার দুটি ম্যাচই ১-১ গোলে ড্র হওয়ায় মুখোমুখি লড়াইয়েও ছিল সমতা। দুই দলই ১৬টি গোল করার বিপরীতে হজম করে ৯টি গোল, ফলে গোল ব্যবধানও ছিল সমান। শেষ পর্যন্ত দুই দলকে আলাদা করা সম্ভব হয় প্রতিপক্ষের মাঠে গোল করার বিবেচনায়। প্রতিপক্ষের মাঠে পিএসজি যেখানে ৬ গোল করেছে, সেখানে বেনফিকা করেছে ৯টি গোল। ফলে বেনফিকা গ্রুপসেরা হয়েই শেষ ষোলোতে পা রাখে।

গ্রুপ রানারআপ হিসেবে নকআউট পর্বে পৌঁছানোয় পিএসজি যে বেশ অস্বস্তিতেই পড়েছে, তা না বলে দিলেও চলছে। শেষ ষোলোতে যে রিয়াল মাদ্রিদ, বায়ার্ন মিউনিখ, ম্যানচেস্টার সিটি কিংবা চেলসিকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য শেষ ষোলোতে ফরাসি ক্লাবটি কাদের মুখোমুখি হবে, তা জানা যাবে ৭ নভেম্বরের ড্রয়ে।

About

Popular Links