Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অন্তিম মুহূর্তে ইরানি গোলায় নিস্তেজ ওয়েলশ ড্রাগন

এই জয়ের মাধ্যমে নকআউট পর্বে ওঠার আশা টিকে রইলো ইরানের

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২২, ০৬:৪৩ পিএম

কাতার বিশ্বকাপে বি গ্রুপে থাকা ওয়েলস এবং ইরান কেউই নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেনি। ওয়েলস তবু যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পিছিয়ে থেকে ১-১ গোলে ড্র করেছিল। ইরান তো ইংল্যান্ডের কাছে ৬-২ গোলে হেরে একরকম উড়েই গিয়েছে।

টুর্নামেন্টে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচটি তাই দুদলের কাছেই ছিল টিকে থাকার লড়াই। সেই লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছে ইরান। শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) কাতারের আল রাইয়ানের আহমেদ বিন আলী স্টেডিয়ামে যোগ করা সময়ে রুজবেহ চেশমি আর রামিন রেজাইয়ানের গোলে ২--০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে এশিয়ান দেশটি।

দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় ইরানের কাছে জয়ের বিকল্প ছিল না। কারণ দেশজুড়ে চলমান নারী অধিকার আন্দোলনের পক্ষ নিয়ে প্রথম ম্যাচে জাতীয় সঙ্গীতে কণ্ঠ না মেলানো নিয়েও বিতর্ক ছিল তাদের সঙ্গী।

ইংলিশদের কাছে নাস্তানাবুদ হলেও ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ইরানকে দেখা যায়।  শেষ পর্যন্ত সেই জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপে নকআউট পর্বের আশা বাঁচিয়ে রাখলো তারা।

যদিও ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার প্রথম সুযোগটা পেয়েছিল ইউরোপীয় দেশটি। তবে ১২ মিনিটে কনর রবার্টসের ক্রসে কিফার মুরের শট ঠেকিয়ে দেন ইরান গোলরক্ষক হোসেন হোসেইনি।

চার মিনিট পর সেই কনর রবার্টসের ভুলের সুযোগ নিয়ে সরদার আজমাউনের সঙ্গে দারুণ ছন্দে আদান-প্রদান করে বল জালে জড়ান আলি গোলিজাদেহ। তবে গোলিজাদেহ অফসাইডে থাকায় ভিএআরে সেই গোল বাতিল হয়ে যায়।

প্রথমার্ধের শেষ দিকেও লিড নেওয়ার ভালো সুযোগ পেয়েছিল ইরান। সরদার আজমাউনের উদ্দেশ্যে দারুণ এক ক্রস দিয়েছিলেন আহমাদ নুরুল্লাহি। কিন্তু আজমাউন পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হওয়ায় গোলশূন্যভাবে প্রথমার্ধ শেষ হয়।

মধ্যবিরতির আগে ওয়েলস কিছুটা ঝলক দেখালেও দ্বিতীয়ার্ধে তাদের খুঁজেই পাওয়া যায়নি। বরং গতিময় আক্রমণাত্মক ফুটবলের মাধ্যমে ম্যাচে দাপট ছিল ইরানেরই। বেশ কয়েকবার গোলের ভালো সুযোগ সৃষ্টি করলেও স্রেফ দুর্ভাগ্যের কারণে গোলের দেখা পায়নি তারা।

মধ্যবিরতির আগে ওয়েলস কিছুটা ঝলক দেখালেও দ্বিতীয়ার্ধে তাদের খুঁজেই পাওয়া যায়নি। বরং গতিময় আক্রমণাত্মক ফুটবলের মাধ্যমে ম্যাচে দাপট ছিল ইরানেরই। বেশ কয়েকবার গোলের ভালো সুযোগ সৃষ্টি করলেও স্রেফ দুর্ভাগ্যের কারণে গোলের দেখা পায়নি তারা।

৫২ মিনিটের কথাই ধরা যাক। প্রতি-আক্রমণে উঠে প্রতিপক্ষ ডি বক্সের বাইরে থেকে আজমুনের নেওয়া জোরালো শটটি ডান পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বল নিয়ে কিছুক্ষণ পর এবার ওয়েলসের গোলমুখে শট নেন গোলিজাদেহ। এবার সেই শট প্রতিহত হয় বাম পোস্টে।

৭৩ মিনিটে সাইয়িদ এজতোলাহির নেওয়া শট প্রায় ওয়েলসের গোলবারে ঢুকেই যাচ্ছিলো। ওয়েলস গোলরক্ষক ওয়েইন হেনেসি বাঁ দিকে ঝাঁপ দিয়ে কোনোরকমে বলটি সীমানার বাইরে পাঠান। একের পর এক আক্রমণ শানানোর পরও গোল না পাওয়ায় মনে হচ্ছিলো দিনটি ইরানের পক্ষে নেই।

তবে ম্যাচের ৮৬ মিনিটে এসে ইরান ফরোয়ার্ড তারেমিকে হাঁটু দিয়ে আঘাত করে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছড়েন ওয়েইন হেনেসি। দশজনের ওয়েলসকে পেয়ে গোলের জন্য আরও মরিয়া হয়ে ওঠে ইরান। অবশেষে সেটির ফল আসে যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে।

ডি-বক্সের বাইরে জটলার ভেতর দিয়ে রুজবেহ চেশমির নেওয়া নিচু শট বদলি ওয়েলস গোলরক্ষক ড্যানি ওয়ার্ডকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়িয়ে যায়। মিনিট তিনেক পর আবারও গোলের দেখা পায় ইরান। তারেমির কাছ থেকে বল পেয়ে সেটি জালে জড়িয়ে দেন ডিফেন্ডার রামিন রেজাইয়ান।

শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে পাওয়া জয়ের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে কোনো ইউরোপিয়ান দেশকে হারায় ইরান, সেই সঙ্গে বাঁচিয়ে রাখে শেষ ষোলোর স্বপ্ন। অন্যদিকে, ইরানের কাছে এই হারে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের স্বপ্ন এক অর্থে শেষই হয়ে গেল ওয়েলসের। 

About

Popular Links