Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কোস্টারিকান মেঘে ছেয়ে গেল জাপানি সূর্য

কোস্টারিকার জয়ের ফলে জার্মানির সামনেও শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা বেঁচে রইলো

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২২, ০৬:৩২ পিএম

জাপানের সামনে ছিল শেষ ষোলোর টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা। অন্যদিকে, কোস্টারিকার কাছে ছিল বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিতের তাগিদ। দুই দলের লড়াইয়ে ১-০ গোলের জয়ে শেষ হাসি হেসেছে কোস্টারিকাই। ফলে নকআউট পর্বে জায়গা করতে “ই” গ্রুপের লড়াইও জমে গিয়েছে।    

কাতার বিশ্বকাপে জাপানের শুরুটা হয়েছিল চারবারের শিরোপাজয়ী জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে। অন্যদিকে, স্পেনের কাছে ৭-০ গোলে হেরে কোস্টারিকার শুরুটা ছিল রীতিমতো দুঃস্বপ্ন। রবিবার (২৬ নভেম্বর) কাতারের আহমেদ বিন আলি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতে দুই দলই ছিল অতি সাবধানী।

গোল করার জন্য প্রতিপক্ষের রক্ষণভাবে ওভাবে হানা দিতে পারেনি জাপান কিংবা কোস্টারিকার কেউই। এ কারণে কোনো দলই গোলের পরিষ্কার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি। ফলে ম্যাড়ম্যাড়ে ফুটবল প্রদর্শনীর মাধ্যমেই গোলশূন্যভাবে প্রথমার্ধ শেষ হয়।

প্রথম ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে জয়ে ভূমিকা রেখেছিল দ্বিতীয়ার্ধে  জাপানের বদলি খেলোয়াড়রা। সে কারণেই হয়ত মধ্যবিরতির পরপরই ইতো এবং জার্মানদের বিরুদ্ধে জয়সূচক গোল করা আসানোকে মাঠে নামিয়েছিলেন জাপান কোচ হাজিমে মরিয়াসু। উদ্দেশ্য বদলি খেলোয়াড়দের গতি দিয়ে কোস্টারিকানদের পরাস্ত করা।

জাপান কোচের কৌশল এই ম্যাচেও বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগবে বলে মনে হচ্ছিলো। দ্বিতীয়ার্ধের অধিকাংশ সময় জুড়েই আক্রমণের পসরা সাজিয়ে বসেছিল এশিয়ান দেশটি। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিটেই মরিতার উদ্দেশ্যে বল বাড়ান বদলি হিসেবে মাঠে নামা আসানো। তবে মরিতার নেওয়া শট কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন কোস্টারিকা গোলরক্ষক কেইলর নাভাস।

দুই মিনিট পরেই আবারও এগিয়ে যাওয়ার ভালো সুযোগ পেয়েছিল জাপান। দৃশ্যপটে আবারও জাপানের আগের ম্যাচের জয়ের নায়ক আসানো। তবে এবারও কেইলর নাভাসের বিশ্বস্ত হাত জোড়ার বদৌলতে কোস্টারিকা রক্ষা পায়। গোল বের না করতে পারলেও আক্রমণে জাপানের ধার ছিল স্পষ্ট।

জাপানের আক্রমণের ধার সামলে দ্বিতীয়ার্ধে কোস্টারিকা তেমন আক্রমণেই যেতে পারছিল না। তবে ৮১ মিনিটে ম্যাচে এবং কাতার বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো প্রতিপক্ষের গোলবারের মধ্যে শট নিয়েই বাজিমাত করে দেয় কোস্টারিকা। জাপানি রক্ষণের ভুলের কারণে ডি-বক্সের মাথায় বল পেয়ে জাপানি গোলরক্ষক শুইচি গোন্দার মাথার ওপর বাঁকানো শট নেন কেইশের ফুলার। কোস্টারিকান রাইটব্যাকের নেওয়া সেই শট জালে জড়ালে খেলার ধারার বিপরীতে এগিয়ে যায় কনক্যাকাফ অঞ্চলের দেশটি।

৭ মিনিট পরই অবশ্য সমতা ফেরানোর কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল জাপান। গোলমুখে জটলা তৈরি হলে খুব কাছ থেকে শট নিয়েছিলেন তাকুমা আসানো। কিন্তু বল কোস্টারিকান গোলরক্ষক কেইলর নাভাসের গায়ে লেগে ফিরে এলে জাপানের আরও একটি আক্রমণ নস্যাৎ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৫৭% বল পজেশন নিয়েও কোস্টারিকার বিরুদ্ধে ০-১ গোলের হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে এশিয়ান দেশটি। 

কোস্টারিকার এই জয়ে “ই” গ্রুপের লড়াই জমে গিয়েছে নিশ্চিতভাবেই। তবে সবচেয়ে বড় স্বস্তির নিঃশ্বাসটা সম্ভবত জার্মানিই ফেলেছে। কোস্টারিকানদের বিরুদ্ধে জাপান জয় পেলে যে টানা দ্বিতীয়বারের মতো গ্রুপপর্ব থেকে ছিটকে যেত জার্মানি। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে কোস্টারিকার বিরুদ্ধে জয় পেলে আর স্পেনের কাছে জাপান হারলেও শেষ ষোলোতে যেতে পারে জার্মানরা।

অন্যদিকে, এই হারে জাপানের শেষ ষোলোর স্বপ্নে বড় ধাক্কাই লেগেছে। নকআউট পর্বে পা রাখতে ব্লু সামুরাইদের এখন পেরোতে হবে স্পেনের বাধা।

About

Popular Links