Friday, May 31, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ওয়েলসের বিরুদ্ধে জয়ের পর সাত শতাধিক কারাবন্দিকে মুক্তি দিয়েছে ইরান

ইংল্যান্ডের কাছে বড় হারের ধাক্কা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে পরের ম্যাচে ওয়েলসের বিপক্ষে ২-০ গোলের স্মরণীয় এক জয় পায় ইরান

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২২, ০৪:২৭ পিএম

গত সেপ্টেম্বরে হিজাব না পরায় নীতি পুলিশের হাতে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুকে ঘিরে এখনও আন্দোলন চলছে ইরানে। নারী স্বাধীনতার সেই আন্দোলন রূপ নিয়েছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে। বিক্ষোভে দমন-পীড়ন আর সহিংসতায় মৃত্যুও হয়েছে বিপুল সংখ্যক মানুষের। সেই সঙ্গে গ্রেপ্তারও হয়েছেন অনেকেই। 

সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে বিরাজ করছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেছিল দেশটির ফুটবল দলও। কাতার বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে জাতীয় সঙ্গীতে নীরব ছিলেন ইরানের ফুটবলাররা। যদিও ম্যাচটিতে ইংলিশদের কাছে ৬-২ গোলে বিধ্বস্ত হয় ইরান।

তবে পরের ম্যাচেই দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ইরান। ওয়েলসের বিরুদ্ধে যোগ করা সময়ের অন্তিম মুহূর্তে করা দুই গোলের বদৌলতে ২-০ গোলের স্মরণীয় এক জয় পায় এশিয়ান দেশটি। বিশ্বকাপে ইরান ফুটবল দলের এই অবিস্মরণীয় জয়ের পর দেশটির সাত শতাধিক কারাবন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।


আরও পড়ুন- অন্তিম মুহূর্তে ইরানি গোলায় নিস্তেজ ওয়েলশ ড্রাগন


সোমবার (২৮ নভেম্বর) দেশটির বিচার বিভাগের মিজান অনলাইন ওয়েবসাইটে বলা হয়, শুক্রবারে ওয়েলসের বিপক্ষে ইরানের ২-০ গোলে জয়ে দেশটির বিভিন্ন কারাগার থেকে ৭০৯ জন কারাবন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এসব বন্দিদের মধ্যে অনেকেই ইরানে চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মাঝে গ্রেপ্তার হন।

ইরানের সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সমর্থন জানানোয় গ্রেপ্তার হওয়া বিশিষ্ট ইরানি অভিনেতা হেঙ্গামেহ গাজিয়ানি, সাবেক ফুটবলার ভোরিয়া ঘাফৌরি এবং ভিন্নমতাবলম্বী হোসেইন রোনাঘি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, দুই মাস কারাবন্দি থাকার পর সাবেক রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন উপস্থাপক মাহমুদ শাহরিয়ারিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে কুর্দি বংশোদ্ভুত নারী মাহসা আমিনিকে সঠিক নিয়মে হিজাব দিয়ে মাথার চুল ঢেকে না রাখার অভিযোগে ইরানের নৈতিকতা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাকে একটি বন্দিশালায় নিয়ে যাওয়ার পর তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পর তিন দিন কোমায় থেকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।  

নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের দাবি, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন মাহসা। এরপর থেকেই এ ঘটনায় দেশটিতে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পরে এই বিক্ষোভকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করেছেন অনেকেই।

ইরানের বিচার বিভাগ জানায়, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি লোককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, গত সপ্তাহে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক জানায়, প্রায় ১৪ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

About

Popular Links