Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সেনেগালের গল্প ইংল্যান্ডে সমাপ্ত

শেষ ষোলোয় সেনেগালকে ৩-০ গোলে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে ইংলিশরা

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:০২ এএম

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি হলেও, শিরোপার দিক দিয়ে বরাবরই কপর্দকহীন ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালে জেতা বিশ্বকাপই ফুটবলে থ্রি লায়ন্সদের সবেধন নীলমণি। গত ৫৬ বছরের প্রতীক্ষার অবসান কাতারে এসে মিটবে নাকি সেটা সময়ই বলবে। আপাতত সেই অপেক্ষার অবসানের পথে ভালোমতোই এগোচ্ছে ইংল্যান্ড। শেষ ষোলোয় সেনেগালকে ৩-০ গোলে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে ইংলিশরা, যেখানে তাদের অপেক্ষায় রেয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স।

রবিবার (৪ ডিসেম্বর) কাতারের আল খোরের আল বাইত স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতে অবশ্য দাপট ছিল সেনেগালের। এগিয়ে যাওয়ার প্রথম সুযোগও পেয়েছিল তারাই। ম্যাচের ২৩ মিনিটে ইংলিশ ডিফেন্ডার হ্যারি ম্যাগুয়েরের ভুলে ক্রেপিন দিয়াত্তা বল কেড়ে নিয়ে ডি-বক্সে ক্রস ফেলেন। কাছ থেকে বোলায়ে দিয়ার ভলি আরেক ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার জন স্টোনসের হাঁটুতে লেগে প্রতিহত হয়। তবে বল বিপদমুক্ত না হয়ে চলে যায় ইসমাইলা সারের পায়ে। কিন্তু ছয় গজ দূর থেকে সেনেগাল স্ট্রাইকারের নেওয়া শট বার উঁচিয়ে বাইরে চলে যায়।

৩২ মিনিটে আবারও গোলের সুযোগ এসেছিল আফ্রিকান দেশটির সামনে। তবে এবারও সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় সেনেগাল। বোলায়ে দিয়া ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভেঙে ডি-বক্সে ঢুকে জোরাল শট নেন। বাঁ হাতে সেই শট ঠেকিয়ে দেন ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড।

নকআউট পর্বে অনেক দলই প্রথমে পাওয়া সুযোগ নষ্ট করে পরবর্তীতে সেটির মাশুল গুণে। সেনেগালের ক্ষেত্রে সেটি ঘটেছে প্রথমার্ধেই এবং সেটিও দুবার। ৩৮ মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতে জের্দান হেন্ডারসনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। অধিনায়ক হ্যারি কেইনের বাড়ানো বল ধরে বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে জুড বেলিংহ্যাম বল বাড়ান ডি-বক্সে থাকা হেন্ডারসনের কাছে। সেই পাস থেকে বল জালে জড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় বয়োজ্যেষ্ঠ গোলদাতা হন হেন্ডারসন (৩২ বছর ১৭০ দিন)। আর এই গোলে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বকনিষ্ঠ অ্যাসিস্টের মালিক হন বেলিংহামকে (১৯ বছর ১৫৮ দিন)।

মিনিট দুয়েক পরেই দ্বিতীয় গোলের দেখা পেতো ইংল্যান্ড। তবে সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। যদিও প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ৩০ বছর বয়সী স্ট্রাইকারের গোলেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে ইংলিশরা। মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের গোটা দুই চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে বেলিংহাম লম্বা করে বল বাড়ান ফিল ফোডেনের দিকে। সেই বল ধরে বাঁ দিক দিয়ে আরেকটু এগিয়ে ফোডেন স্কয়ার করেন কেইনের উদ্দেশে। ডান প্রান্ত থেকে বাধাহীনভাবে এগিয়ে যাওয়া ইংলিশ স্ট্রাইকার গোল করতে ভুল করেননি।

প্রথমার্ধে দুই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়া সেনেগাল দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ডের সামনে বড় কোনো হুমকি হতে পারেনি। ৫৬ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলের দেখা পেতে পারতেন হ্যারি কেইন। দূর থেকে ইংলিশ অধিনায়কের নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন সেনেগাল গোলরক্ষক এদুয়ার্দো মেন্ডি। পরের মিনিটেই অবশ্য সেনেগালের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয় গ্যারেথ সাউথগেটের শিষ্যরা। বাঁ প্রান্ত ধরে এগিয়ে যাওয়া ফোডেন বল বাড়ান ডি-বক্সে থাকা বুকায়ো সাকার দিকে। মেন্ডির মাথার ওপর বল জালে জড়িয়ে বিশ্বকাপে নিজের তৃতীয় গোল করেন ইংলিশ উইঙ্গার।

ম্যাচের বাকি অংশেও ব্যবধান বাড়ানোর অনেক সুযোগ পেয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি ইংলিশরা। সেনেগাল ফাঁকে ফাঁকে কিছু আক্রমণ করলেও সেগুলো গোল করার মতো যথেষ্ট ছিল না। ফলে বিশ্বকাপে আফ্রিকান দলগুলোর বিরুদ্ধে অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রেখেই মাঠ ছাড়ে থ্রি লায়ন্সরা। শেষ চারে ওঠার লক্ষ্যে শনিবার কোয়ার্টার ফাইনালে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের মোকাবিলা করবে ইংল্যান্ড।

About

Popular Links