Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জাপানি কারিকুরি বনাম মডরিচদের ‘ঠাণ্ডা মাথার খেল’

ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড অর্থাৎ শেষ ষোলোয় কখনোই হারেনি ক্রোয়েটরা

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:২৯ পিএম

শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে কাতারের আল জানুব স্টেডিয়ামে মাঠে নামবে ক্রোয়েশিয়া এবং জাপান। শেষ ষোলোর এই ম্যাচে জয়ী দল কোয়ার্টার ফাইনালে পাঁচবারের বিশবচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল অথবা দক্ষিণ কোরিয়ার মুখোমুখি হবে।

সোমবার (৫ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টার এই ম্যাচ শুরুর আগে দেখে নেওয়া যাক কিছু বিষয়।

পরিসংখ্যান

- তিন ম্যাচ থেকে এক জয় এবং দুই ড্রয়ের মাধ্যমে ৫ পয়েন্ট সংগ্রহে নিয়ে “এফ” গ্রুপের রানারআপ হিসেবে শেষ ষোলোয় পা রেখেছে ক্রোয়েশিয়া। ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বশেষ ১০টি ম্যাচের মধ্যে ৯টিতেই অপরাজিত রয়েছে ক্রোয়েশিয়ানরা। বিশ্বকাপে গত ১০ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার একমাত্র পরাজয়টি এসেছে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০১৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে, যেখানে তারা ফরাসিদের কাছে ২-৪ গোলে হেরেছিল।

-গ্রুপপর্বে স্পেন-জার্মানির মতো ইউরোপীয় পরাশক্তিদের হারিয়েও অন্য ম্যাচটিতে কোস্টারিকার কাছে হেরে যায় জাপান। তবে সম্ভাব্য ৯ পয়েন্টের মধ্যে ৭ পয়েন্ট অর্জন করে “ই” গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ঠিকই শেষ ষোলোয় এসেছে এশিয়ান দেশটি। এর আগে ২০০২, ২০১০ এবং ২০১৮ বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব পেরিয়েছিলো ব্লু সামুরাইরা। তবে শেষ ষোলোর বাধা পেরিয়ে কখনোই কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা হয়নি তাদের।

-ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড অর্থাৎ শেষ ষোলোয় কখনোই হারের স্বাদ পায়নি। স্বাধীন দেশ হিসেবে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে অভিষিক্ত ক্রোয়েশিয়া সেবার শেষ ষোলোয় রোমানিয়াকে ১-০ গোলে পরাজিত করেছিল। অন্যদিকে, রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০১৮ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে নির্ধারিত সময় শেষে ডেনমার্কের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল ক্রোয়েশিয়ানরা। পরবর্তীতে টাইব্রেকারে ডেনিশদের ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ হাসি হাসে ক্রোয়েশিয়া।

-ফিফা বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুবার পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছে ক্রোয়েশিয়া ও জাপান। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে এশিয়ান দেশটিকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল ক্রোয়েশিয়ানরা। ২০০৬ বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে দুদলের সর্বশেষ সাক্ষাৎটি অবশ্য গোলশূন্যভাবে শেষ হয়েছিল।

ম্যাচ প্রিভিউ

কাতার বিশ্বকাপে জায়ান কিলার হিসেবে আবির্ভূত জাপান ইতোমধ্যে জার্মানি ও স্পেনের মতো সাবেক দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে হারিয়েছে। তবে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে শেষ ষোলোর ম্যাচটি ব্লু সামুরাইদের জন্য নিঃসন্দেহে আরও কঠিন হতে যাচ্ছে।

রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০১৮ বিশ্বকাপের সেই দুর্দান্ত ছন্দ হয়ত এই ক্রোয়েশিয়া দলে নেই। বিশেষ আক্রমণভাগে গোলের সামনে তাদের দুর্বলতা চোখে পড়ার মতো স্পষ্ট। কিন্তু গ্রুপপর্বে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ম্যাচটি ছাড়া বাকি দুই খেলাতেই ক্রোয়েশিয়ানরা আত্মবিশ্বাসী ছিল।

অধিনায়ক লুকা মডরিচ, ইভান পেরিসিচ, দেজান লভরেনের মতো খেলোয়াড়রা ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও এখনও চিরসবুজ তরুণের মতো মাঠ মাতিয়ে যাচ্ছেন। তাদের ভাষ্যমতে, অঘটনঘটনপটিয়সী জাপানকে তারা ভয় পাচ্ছেন না। ব্লু সামুরাইদের নিয়ে সম্ভাব্য সিব হোমওয়ার্ক করেই তারা মাঠে নামবেন।

গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচে প্রায় একই কৌশলে খেলেই স্পেন-জার্মানি বধের কীর্তি গড়েছিল জাপান। ফলে ব্লু সামুরাইদের কৌশল হয়ত ভালোই আত্মস্থ করেছে ক্রোয়েটরা। গতবারের রানারআপদের সামনে তাই জাপান কোচ হাজিমে মোরিয়াসুকে নতুন কোনো কৌশল নিয়ে হাজির হতে হবে।

ম্যাচের প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষকে নিজেদের রক্ষণে খেলতে দেওয়া এবং দ্বিতীয়ার্ধে অতর্কিত আক্রমণে গোল বের করা- স্পেন ও জার্মানির বিরুদ্ধে এই কৌশল দারুণভাবে কাজ করলেও কোস্টারিকার বিরুদ্ধে জাপানের কাছে বুমেরাং হয়ে ফিরে এসেছিল। মূলত রক্ষণভাগে ব্যাক থ্রিতে ফিরে গিয়ে কাওরু মিতোমা এবং রিতসু দোআনের মতো গতিশীল ফরোয়ার্ডদের মাঠে নামিয়েই স্পেন-জার্মানির কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল এশিয়ান দেশটি।

জাপানি রক্ষণে পরিষ্কারভাবে ফাটল সৃষ্টি করতে না পেরে স্পেন ও জার্মানি দুই দলই ধুঁকেছিল। সাবেক দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মতো ক্রোয়েশিয়া যদি হতাশ না হয়ে ব্লু সামুরাইদের দুর্বলতা বের করতে পারে, তাহলে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়া ক্রোয়েশিয়ার জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র।

স্পেনের কাছে দেখা হলুদ কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে অনুপস্থিত থাকবেন জাপানের সেন্টারব্যাক কো ইতাকুরা। এছাড়া, চোটের কারণে সংশয়ে আছেন হিরোকি সাকাই এবং তাকেহিরো তোমিয়াসুও।

সাবেক দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে গ্রুপপর্বে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী জাপান নিশ্চয়ই চাইবে না ক্রোয়েশিয়ার সামনে তাদের রুপকথার যাত্রা থেমে যাক। বরং কাতার বিশ্বকাপে দেশের জন্য নতুন ইতিহাস গড়তে প্রস্তুত ব্লু সামুরাইরা।

About

Popular Links