Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

যে কারণে ছিটকে গেছে ‘শক্তিশালী’ ব্রাজিল, টিকে আছে ‘নড়বড়ে’ আর্জেন্টিনা

দুর্দান্তভাবে শেষ আটে এলেও একইদিনের কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে দুই ল্যাটিন পরাশক্তির অবস্থান দাঁড়িয়েছে বিপরীত মেরুতে

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:৩৮ এএম

ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা দুদলই কাতারে এসেছিল বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরার স্বপ্ন চোখে নিয়ে। একে একে দুই দলই দুর্দান্তভাবে শেষ আট পর্যন্ত এসেছিল। তবে একইদিনের কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে দুই ল্যাটিন পরাশক্তির অবস্থান দাঁড়িয়েছে বিপরীত মেরুতে।

শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) এডুকেশন স্টেডিয়ামে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে যেখানে সেলেসাওদের হেক্সা মিশন থেমে যায়, সেখানে ২২ কিলোমিটার দূরত্বে থাকা লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে নেদারল্যান্ডসকে পেনাল্টি শুটআউটে হারিয়ে শেষ চারে পা রাখে আলবিসেলেস্তেরা।  

ব্রাজিলের প্রাণভোমরা নেইমার এবং আর্জেন্টিনার স্বপ্নদ্রষ্টা লিওনেল মেসি দুজনই কাতার বিশ্বকাপের শেষ আটে গোল পেয়ে নিজ দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনাল শেষে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক যেখানে স্বপ্নপূরণের পথে একধাপ এগিয়েছেন, সেখানে ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার ভুগেছেন স্বপ্নভঙ্গের বেদনায়।

ক্রোয়েশিয়ার কাছে হারে বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের ছিটকে যাওয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়া নেইমার/সংগৃহীত

বেশ কিছু বিষয় কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার মধ্যে ব্যবধান গড়ে দিয়েছে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো চাপে ভেঙে না পড়া ও সঠিক সময়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে ব্রাজিল কিছুটা ধীরে শুরু করলেও পরবর্তীতে ক্রোয়েশিয়ান রক্ষণের ওপর ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করছিল।

তবে পাঁচবারের বিশবচ্যাম্পিয়নদের সামনে বাধার দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ। মূলত ২৭ বছর বয়সী ক্রোয়েট গোলরক্ষকের একক নৈপুণ্যে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। যদিও ব্রাজিলিয়ান আক্রমণভাগকে নিষ্ক্রিয় রাখতে ক্রোয়েশিয়ার কৌশলগত খেলাও এতে ভূমিকা রাখে।

দুর্ভেদ্য এই ক্রোয়েট রক্ষণকে ভাঙতে প্রয়োজন ছিল বিশেষ কিছুর। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধের শেষদিকে নেইমার ঠিক সেটাই করলেন। ১০৫ মিনিটে ডি-বক্সের সামনে থেকে বল পেয়ে এই উইঙ্গার দারুণভাবে সেটিকে আয়ত্ত্বে নেন এবং এক ক্রোয়েট ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করেন। লিভাকোভিচ রুখতে এগিয়ে এলেও নেইমার একটু ডানে সরে গিয়ে তাকেও পরাস্ত করে ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে পাঠান।

পেলের রেকর্ডছোঁয়া গোলের পর উচ্ছ্বসিত নেইমার/টুইটার

তবে তিতের শিষ্যরা অতিরিক্ত সময়ের বাকি ১৫ মিনিট সেই লিড ধরে রাখতে পারেননি। ১১৭ মিনিটে বাঁ দিক থেকে মিস্লাভ ওরসিকের পাস থেকে কিছুটা জায়গা খুঁজে পাওয়া ব্রুনো পেটকোভিচ দুর্দান্ত এক শটে বল জড়িয়ে দেন ব্রাজিলের জালে।

সেমিফাইনাল থেকে নিঃশ্বাস দূরত্বে থাকা সেলেসাওরা ক্রোয়েশিয়ানদের সমতাসূচক গোলে বড় ধাক্কা খায়। গোল হজমের পর একেকজন ব্রাজিল খেলোয়াড়দের অবস্থা ছিল বিধ্বস্ত, চোখেমুখে ছিল অবিশ্বাসের অনুভূতির ছাপ। পরবর্তীতে সেটি প্রভাব ফেলে ব্রাজিলিয়ানদের শারীরিক ভাষায়ও। আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা লাগার ফলস্বরূপ টাইব্রকারেও ভোগে ব্রাজিল।

টাইব্রেকারে স্বপ্নভঙ্গের পর হতাশায় নিমজ্জিত ব্রাজিল দল/রয়টার্স

অন্যদিকে, আর্জেন্টিনাও কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ৩৬ মিনিটে লিওনেল মেসির সহায়তায় আলবিসেলেস্তেদের এগিয়ে দেন মোলিনা। ৭৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক মেসির লক্ষ্যভেদে দলের লিড দ্বিগুণ হয়।

দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনা সহজেই সেমিফাইনালে পা রাখবে বলে মনে হচ্ছিল। কোচ লিওনেল স্কলোনিও তুলে নেন রদ্রিগো ডি পল, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, মার্কোস আকুনার মতো নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়কে। তবে ৮৩ মিনিটে এবং যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে দুই গোল শোধ করে দুর্দান্তভাবে ম্যাচটিকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায় ডাচরা।

তবে মুঠোয় থাকা সেমিফাইনালের টিকিট হাতাছাড়ার সম্ভাবনা সত্ত্বেও ব্রাজিলের মতো মানসিকভাবে ভেঙে পড়েনি আর্জেন্টিনা। বরং পাঁচ ডিফেন্ডার নিয়ে ম্যাচ শুরু করা আর্জেন্টিনা অতিরিক্ত সময়ে ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে তুলে নিয়ে অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়াকে মাঠে নামায়।

সব মিলিয়ে অতিরিক্ত সময়ের প্রথম থেকেই নেদারল্যান্ডসের ওপর আক্রমণের ডালি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে আকাশি-সাদা শিবির। যদিও কখনও লাউতারো মার্টিনেজের শট ডাচ অধিনায়ক ভার্জিল ভ্যান ডাইকের গায়ে ব্লকড হয়েছে তো আবার কখনও বদলি নামা অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার বাঁকানো কর্নার ফিরিয়ে দেন ডাচ গোলরক্ষক নোপার্ট। আবার এঞ্জো ফার্নান্দেজের শট নোপার্টকে পরাস্ত করলেও পোস্টে প্রতিহত হয়।

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দলকে চাপমুক্ত রাখার দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে প্রথম শটেই বল জালে জড়ান মেসি। যদিও তার আগে ডাচ অধিনায়ক ভার্জিল ভ্যান ডাইকের জোরালো পেনাল্টি ঠেকিয়ে দিয়ে মেসিকে নির্ভার থাকার উপলক্ষ এনে দিয়েছিলেন আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক এমি মার্টিনেজ। টাইব্রেকারের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী থাকা আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক মার্টিনেজ ঠেকিয়ে দেন স্টিভেন বার্গুইসের নেওয়া নেদারল্যান্ডসের পরের পেনাল্টিটিও।

নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে টাইব্রেকারে দুটি শট ঠেকান আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমি মাটিনেজটুইটার

আর্জেন্টিনার পরের শটেও লক্ষ্যভেদ করে টাইব্রেকারে ব্যবধান দ্বিগুণ করতে ভুল করেননি লিয়ান্দ্রো পারাদেস। আর্জেন্টিনার তৃতীয় শটে গঞ্জালো মন্তিয়েল লক্ষ্যভেদ করলেও পরের শটে এঞ্জো ফার্নান্দেজ পোস্টের বাইরে শট মারেন। তবে পঞ্চম শটে লাউতারো মার্টিনেজের পেনাল্টি জালে জড়িয়ে গেলে শেষ চারের টিকিট পায় আর্জেন্টিনা।

টাইব্রেকারে রদ্রিগোর পেনাল্টি ঠেকিয়ে দিচ্ছেন লিভাকোভিচ/টুইটার

অন্যদিকে, ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে ব্রাজিল প্রথমদিক থেকেই চাপে থাকলেও দলের পক্ষে পঞ্চম শট অপেক্ষায় ছিলেন নেইমার। কিন্তু প্রথমে রদ্রিগো গোয়েস এবং পরে মার্কুইনহোস গোল করতে ব্যর্থ হওয়ায় পঞ্চম শটের আগেই স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়তে হয় ৩০ বছর বয়সী উইঙ্গারকে। দলের প্রাণভোমরা হিসেবে নেইমার যদি আগেই টাইব্রেকারে আগে শট নিতেন এবং লক্ষ্যভেদ করতে পারতেন, তাহলে হয়ত শেষটা ভিন্ন হলেও হতে পারতো।

About

Popular Links