Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মরক্কোর দুরন্তপনা থামিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে ফ্রান্স

মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:২১ এএম

কাতার বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই চোট হয়ে দাঁড়িয়েছিল ফ্রান্সের বড় শত্রু। স্কোয়াড ঘোষণার আগেই চোটের কারণে দলে জায়গা পাননি গত আসরের শিরোপাজয়ী দুই মিডফিল্ডার পল পগবা ও এনগোলো কান্তে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে করিম বেনজেমা আর গ্রুপপর্বে রাইটব্যাক লুকাস হার্নান্দেজও ছিটকে যান বিশ্বকাপ থেকে।

সেমিফাইনালেও চোট সমস্যা পিছু ছাড়েনি ফরাসিদের। ঠাণ্ডা ও ফ্লুয়ের সমস্যায় ডিফেন্ডার ডায়োট উপামেকানো এবং মিডফিল্ডার আদ্রিয়েন র‍্যাবিওকে ছাড়াই বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) কাতারের আল বাইত স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিরুদ্ধে শেষ চারের লড়াইয়ে মাঠে নামে ফ্রান্স। তাদের পরিবর্তে স্কোয়াডে জায়গা পান ইব্রাহিম কোনাটে এবং ইউসুফ ফোফানা।

তবে এত সব চোট আর প্রতিকূলতা ফ্রান্সকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠা থেকে আটকে রাখতে পারেনি। পুরো টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকেই প্রথম আরব ও আফ্রিকান দল হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নাম লেখায় মরক্কো। কিন্তু শেষ চারে এসে ঠিকই ফরাসিদের সামনে নতি স্বীকার করতে হলো মরোক্কানদের। 

থিও হার্নান্দেজ এবং র‍্যান্ডাল কোলো মোয়ানির গোলে অ্যাটলাস লায়নদের ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রাখল দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। ইতালি ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় দল হিসেবে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জেতার লক্ষ্যে আগামী ১৮ ডিসেম্বর লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে ফরাসিরা।

মূল একাদশের নিয়মিত দুই সদস্যকে ছাড়া মাঠে নামলেও লিড নিতে মোটেও সময় নেয়নি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের ৫ মিনিটে আন্তোয়ান গ্রিজম্যানের দিকে বল বাড়িয়েছিলেন রাফায়েল ভারান। ডান প্রান্ত দিয়ে মরক্কো ডি-বক্সে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পের উদ্দেশে বল বাড়ান গ্রিজম্যান। এমবাপ্পে দুবার শট নিলেও মরক্কান ডিফেন্ডারদের জটলায় প্রতিহত হয়। পরবর্তীতে এমবাপ্পের প্রতিহত শট দিক পরিবর্তন করে ফাঁকায় থাকা থিও হার্নান্দেজের কাছে এসে। বাঁ পায়ের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়াতে ভুল হয়নি ফরাসি লেফটব্যাকের। এর মাধ্যমে কাতার বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের কাছে গোল হজম করে মরক্কো।

মিনিট পাঁচেক পরেই অবশ্য সমতায় ফিরতে পারতো মরক্কো। ফ্রান্সের গোলমুখ লক্ষ্য করে ডি-বক্সের বাইরে থেকে বাঁকানো শট নেন মরক্কোর আজ্জেদিনে অউনাহি। তবে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্তভাবে মরক্কান মিডফিল্ডারের নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন।

১৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার ভালো সুযোগ এসেছিল ফ্রান্সের সামনে। নিজেদের অর্ধ থেকে অলিভিয়ের জিরুদের উদ্দেশে লম্বা করে বল বাড়িয়েছিলেন ইব্রাহিম কোনাটে। মরক্কোর অধিনায়ক আর ডিফেন্ডার রোমান সাইসকে ফাঁকি দিয়ে বল নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন জিরুদ। তবে ৩৬ বছর বয়সী স্ট্রাইকারের বাঁ পায়ে নেওয়া শটটি পোস্টে লেগে বাইরে চলে যায়।

ম্যাচের ৩৬ মিনিটে আবারও দ্বিতীয় গোলের সুযোগ আসে ফ্রান্সের সামনে। অঁরেলিয়েন শুয়ামেনির বাড়ানো বল ধরে মরক্কোর ডি-বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন এমবাপ্পে। মরক্কোন গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনোকে ফাঁকি দিতে পারলেও এমবাপ্পের নেওয়া শট গোলমুখ থেকে ফিরিয়ে দেন আশরাফ হাকিমি। তবে বল পুরোপুরি বিপদমুক্ত না হওয়ায় আবারও শুয়ামেনির পায়ে এসে পড়ে। এবার ফাঁকায় দাঁড়ানো জিরুডের দিকে বল বাড়িয়েছিলেন এই তরুণ মিডফিল্ডার। তবে জিরুড নিজের নেওয়া শট লক্ষ্যে রাখতে ব্যর্থ হন। মিনিট চারেক পর আঁন্তোয়ান গ্রিজম্যানের নেওয়া নিচু কর্নারে রাফায়েল ভারান পা ছোঁয়ালেও সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বাইরে চলে যায়।

প্রথমার্ধের শেষদিকে সমতায় ফেরার দ্বারপ্রান্তে ছিল মরক্কো। ৪৪ মিনিটে হাকিম জিয়েখের নেওয়া কর্নারে দারুণভাবে একটি অ্যাক্রোবেটিক কিক নিয়েছিলের মরক্কোর জাওয়াদ এল ইয়ামিক। তবে আবারও ফ্রান্সের ত্রাতা হয়ে আসেন অধিনায়ক লরিস। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে মরক্কান সেন্টারব্যাকের নেওয়া শট পোস্টের দিকে ঠেলে দেন ফরাসি গোলরক্ষক। প্রথমার্ধের শেষদিকে মরক্কো সেটপিসে গোলের সুযোগ সৃষ্টি করতে চাইলেও লরিসের দৃঢ়তা আর অটল রক্ষণভাগের বদৌলতে এক গোলের লিড নিয়েই মধ্যবিরতিতে যায় দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ দারুণ জমে ওঠে। ফ্রান্স মরক্কো দুই দলই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ত্রাস সৃষ্টি করে। কিন্তু ফাইনাল থার্ডে গিয়ে কোনো পক্ষই শেষ পর্যন্ত সুবিধা করতে পারছিল না। যদিও দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে মরক্কোই ছিল শ্রেয়তর দল।

বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ তৈরি করলেও দুর্বল ফিনিশিংয়ে আর গোল পায়নি আফ্রিকান দেশটি৷ যেমন ৫৫ নিনিটে ফ্রেঞ্চ রক্ষণভাগকে কাঁপিয়ে দেয় মরক্কোর আক্রমণভাগ। বৌফাল আর এল নাসিরের দুই প্রচেষ্টা রুখে দেন রাফায়েল ভারান ও থিও হার্নান্দেজ। গোল না পেলেও মরক্কো যেভাবে খেলছিল, তাতে তাদের সমতাসূচক গোল পাওয়া অসম্ভব ছিল না।

ম্যাচের ৭২ মিনিটে আঁন্তোয়ান গ্রিজম্যানের নেওয়া ফ্রি-কিকে লাফিয়ে উঠে বলে মাথা ছুঁইয়েছিলেন ছয় মিনিট আগে অলিভিয়ের জিরুডের বদলি হিসেবে নামা মার্কাস থুরাম। কিন্তু ফরাসি ফরোয়ার্ডের নেওয়া হেড চলে ডান পোস্টের বাইরে দিয়ে। মিনিট দুয়েক পর সেই থুরাম বাঁ প্রান্ত থেকে ডি-বক্সে থাকা ইউসুফ ফোফানার উদ্দেশে বল বাড়িয়েছিলেন। তবে ফরাসি মিডফিল্ডারের বাঁ পায়ের নেওয়া লক্ষ্যভ্রষ্ট শট চলে যায় মাঠের বাইরে।

শেষ পর্যন্ত ৭৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করতে সক্ষম হয় ফ্রান্স। এই গোলে অবশ্য ডাগআউট থেকে দিদিয়ের দেশমেরও ভূমিকা আছে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই এমবাপ্পে কড়া ট্যাকেল করছিলেন। ফাইনালের আগে দলের সবচেয়ে বড় অস্ত্রকে সুরক্ষিত রাখত স্ট্রাইকার জিরুডকে উঠিয়ে তার জায়গায় পাঠিয়ে দেন দেশম। আর জিরুডের পরিবর্তে মাঠে নামেন র‍্যান্ডাল কোলো মোয়ানি।

দারুণ এক প্রতি আক্রমণ থেকে থুরামের সঙ্গে বল আদান-প্রদান করে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন এমবাপ্পে। ডি-বক্সের মধ্যে তিন জন ডিফেন্ডারের মাঝে এমবাপ্পে শট নিলে সেটি ফাঁকায় থাকা র‍্যান্ডাল কোলো মোয়ানির কাছে চলে যায়। ডান পায়ের আলতো টোকায় ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মিনিট দুয়েক আগেই বদলি হিসেবে নামা এই ফরাসি। 

পুরো ম্যাচের মতো বাকি সময়টায়ও গোলের জন্য হন্যে হয়ে আক্রমণ করে মরক্কো। কিন্তু দুর্ভেদ্য ফরাসি দেয়াল আর ভার ভাঙতে পারেনি আফ্রিকান দেশটি। ফলে সেমিফাইনালেই শেষ হয়ে যায় কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর স্বপ্নযাত্রা। অন্যদিকে, দুই গোলের লিড ধরে রেখে ব্রাজিলের (২০০২) পর ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আবারও ফাইনালের টিকিট নিয়ে মাঠ ছাড়েন ফ্রান্স।

About

Popular Links