Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ফরাসিদের বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার কোম্যান ও শুয়ামেনি

কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে টাইব্রেকারে দুজনই ফ্রান্সের পক্ষে লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৫৬ পিএম

রাশিয়ায় অনুষ্ঠেয় ২০১৮ বিশ্বকাপের পর কাতার বিশ্বকাপেরও ফাইনালে পৌঁছানোয় ফ্রান্সের সামনে ছিল ইতিহাস গড়ার হাতছানি। আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারলেই ইতালি এবং ব্রাজিলের পর তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুই আসরের শিরোপা জয়ের কীর্তি গড়তে পারত ফরাসিরা। কিন্তু আলবিসেলস্তেদের কাছে টাইব্রেকারে পরাজিত হওয়ায় দিদিয়ের দেশমের শিষ্যদের জন্য সেই স্বপ্ন অধরাই রয়ে যায়।

রবিবার (১৮ ডিসেম্বর) কাতারের লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২২ বিশ্বকাপে ফাইনালে প্রথমার্ধেই আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ০-২ গোলে পিছিয়ে যায় ফ্রান্স। তবে ৮০ ও ৮১ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের দুই গোলে সমতায় ফেরে গত আসরের চ্যাম্পিয়নরা। অতিরিক্ত সময়ে ১০৭ মিনিটে মেসির গোলে আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টাইনরা। অতিরিক্ত সময় শেষ হওয়ার মিনিট তিনেক আগে এমবাপ্পে আবারও সমতাসূচক গোল করলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।

টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে আর পেরে ওঠেনি ফ্রান্স। প্রথম শটে এমবাপ্পে আর চতুর্থ শটে রান্ডাল কোলো মোয়ানি লক্ষ্যভেদ করলেও মাঝের দুই শটে ব্যর্থ হন কিংসলে কোম্যান এবং অরেলিয়েন শুয়ামেনি। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা একে একে পরপর চারটি শটে বল জালে জড়িয়ে ৩৬ বছর পেল বিশ্বকাপ শিরোপার স্বাদ। আর ফরাসিরা তখন টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ হাতছাড়ার শোকে মুহ্যমান।

টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করায় কোম্যান আর শুয়ামেনিকেই হয়ত সেই শোকের বেদনা সবচেয়ে বেশি ছোঁয়ার কথা। সতীর্থ এবং কোচ-ম্যানেজমেন্টের স্বান্তনা হয়ত তাদের সঙ্গী হয়েছে। তবে মাঠের বাইরের ভার্চুয়াল জগতে তাদের সেই সৌভাগ্য হয়নি। বরং ম্যাচের পর অনলাইনে কোম্যান আর শুয়ামেনি শিকার হয়েছেন বর্ণবাদী আক্রমণের।

পেনাল্টি শুটআউটে ফ্রান্সের পক্ষে দ্বিতীয় শট নিয়েছিলেন কিংসলে কোম্যান। তবে বছর বয়সী উইঙ্গারের শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। টাইব্রেকারে কোম্যান লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে শুয়ামেনির ওপর ছিল বল জালে জড়ানোর চাপ। কিন্তু ২২ বছর বয়সী সেন্ট্রাল মিডফিল্ডারের শট চলে যায় পোস্টের বাইরে।

গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠেয় ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ইতালির কাছে টাইব্রেকারে হেরে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। পেনাল্টি শুটআউটে ইংলিশদের হয়ে লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন মার্কাস রাশফোর্ড, জেডোন সাঞ্চো এবং বুকায়ো সাকা। হারের পর তিন ইংলিশ ফরোয়ার্ডই অনলাইনে বর্ণবাদী আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন।

তবে সেবার তিন ইংলিশ ফরোয়ার্ডের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ইংল্যান্ড কোচ গ্যারেথ সাউথগেট। এবার কোম্যানের পাশে দাঁড়ালো বায়ার্ন মিউনিখ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে কোম্যানকে উদ্দেশ করে জার্মান ক্লাবটি বলে, “বায়ার্ন পরিবার তোমার পাশে রয়েছে। আমাদের খেলা কিংবা সমাজে বর্ণবাদের কোনো জায়গা নেই।”

About

Popular Links