Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মার্টিনেজের সেই বাঁ পায়ে এবার বিশ্বকাপ ট্রফি

আর্জেন্টাইন ট্যাটু শিল্পী হুয়ান পাবলো স্কাঙ্কার কাছে এই ট্যাটু করিয়েছেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:০৮ পিএম

কাতারের লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা এবং ফ্রান্সের মধ্যে চলছে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল। দুই দলের মধ্যকার শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে তখন ৩-৩ গোলের সমতা। নির্ধারিত এবং অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ানোর অপেক্ষায় কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল। তবে আচমকাই সবাইকে নড়েচড়ে বসতে হলো।

শেষ বাঁশি বাজার কিছুক্ষণ আগে মাত্র দশ গজ দূরত্বে আর্জেন্টিনার বক্সের মধ্যে বল পেয়ে গেলেন ফ্রান্সের র‍্যান্ডাল কোলো মুয়ানি। ফরাসি ফরোয়ার্ডের সামনে তখন শুধু আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। মুয়ানির নেওয়া জোরালো শটটি বাঁ পা দিয়ে রীতিমতো অবিশ্বাস্যভাবে ঠেকালেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক।

পরবর্তীতে টাইব্রেকারে জিতে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তোলে ল্যাটিন আমেরিকানরা। মহাকাব্যিক সেই ফাইনালের পর অতিরিক্ত সময়ের শেষদিকের সেই দুর্দান্ত সেভের কারণে অনেকেই প্রশংসায় ভাসিয়েছিলেন মার্টিনেজকে। অনেকের ভাষ্যমতে, শুধু গোলই না; নিজের বাঁ পা দিয়ে একরকম বিশ্বকাপই বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।

এমিলিয়ানো মার্টিনেজও সেই প্রশংসাকে যেন এবার বাস্তবে রূপ দিলেন। বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে মত্ত মার্টিনেজ নিজের বাঁ পায়ে তিন তারকাসংবলিত বিশ্বকাপ ট্রফির ট্যাটু আঁকিয়েছেন। এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল।

আর্জেন্টাইন ট্যাটু শিল্পী হুয়ান পাবলো স্কাঙ্কার কাছে এই ট্যাটু করিয়েছেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। সেই ট্যাটুর নিচে লেখা- অদম্য ইচ্ছা তোমাকে সাফল্যের কাছে নিয়ে যাক। আঁকানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামের স্টোরিতে হুয়ান পাবলোর সঙ্গে দাঁড়িয়ে ট্যাটু দেখিয়ে ছবিও প্রকাশ করেছেন ৩০ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক।

কাতার বিশ্বকাপের পর এমিলিয়ানো মার্টিনেজের পর অবশ্য আর্জেন্টিনার আরও এক খেলোয়াড় নিজের পায়ে বিশ্বকাপ ট্রফির ট্যাটু আঁকিয়েছেন। তিনি অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার পক্ষে দ্বিতীয় গোল করেছিলেন ৩৪ বছর বয়সী এই উইঙ্গার। টুর্নামেন্টের পর শিরোপা জয়কে স্মরণীয় করে রাখতে নিজের পায়ে বিশ্বকাপ ট্রফির ট্যাটু আঁকান এই আর্জেন্টাইন।

ফিফা বিশ্বকাপের জন্য আর্জেন্টাইনদের ৩৬ বছরের প্রতীক্ষার অবসানে বড় ভূমিকা রেখেছেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। পুরো টুর্নামেন্টে একের পর এক সেভ দিয়ে তিনটি ম্যাচে ক্লিনশিট রাখেন তিনি। নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনাল আর ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে তার নৈপুণ্যেই টাইব্রেকারে জয় পায় আলবিসেলেস্তেরা।

টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার গোল্ডেন গ্লোভের দৌড়ে তাই বলতে গেলে অপ্রতিদ্বন্দ্বীই ছিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা গোলরক্ষকের হাতেই কাতার বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষকের স্বীকৃতি উঠল। তবে এরপর থেকেই মাঠের বাইরের নেতিবাচক কারণে খবরের শিরোনাম হচ্ছেন এই আর্জেন্টাইন।

পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে কাতার বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষকের স্বীকৃতি উদযাপনের সময়ে অশ্লীল উদযাপন করে বিতর্কের জন্ম দেন মার্টিনেজ। কাতারের মতো রক্ষণশীল রাষ্ট্রে এমন অঙ্গভঙ্গি অনেকেই ভালো চোখে দেখেননি। যদিও এমন উদযাপনের কারণ হিসেবে আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক বলেন, ফাইনালে প্রতিপক্ষ সমর্থকদের দেওয়ার দুয়োর জবাব হিসেবেই এই উদযাপন।

তবে এখানেই শেষ না। কাতার বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেলেও টুর্নামেন্টটি নিয়ে আলোচনার রেশ এখনও থামেনি। ফাইনালের পর থেকে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে একতরফা দ্বন্দ্বযুদ্ধে মেতে উঠেছেন তিনি।

কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের পর প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ড্রেসিংরুম নাচে-গানে শিরোপা-জয় উদযাপন করছিলেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা। সেই উদযাপন হঠাৎই থামিয়ে দিয়ে থামিয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। এরপর কিলিয়ান এমবাপ্পেকে খোঁচা দেন। সতীর্থদের দিকে তাকিয়ে তিনি বলে ওঠেন, “এক মিনিটের নীরবতা।” এরপর গানের সুরে বলেন, “এমবাপ্পের জন্য, যে মরে গেছে!”

শুধু তাই না,  বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে আর্জেন্টিনায় ফেরার পরেও এমবাপ্পেকে খোঁচা মারতে ছাড়েননি মার্টিনেজ। দেশে ফিরেও এমবাপ্পেকে নিয়ে মজা করেছেন তিনি। কাতার থেকে আর্জেন্টিনায় ফেরার পর মঙ্গলবার ছাদখোলা বাসে রাজধানী বুয়েনস এইরেসে মেসি-মার্টিনেজদের নিয়ে শোভাযাত্রা বের করা হয়। সেখানে উদযাপনের সময় মার্টিনেজকে দেখা গেছে একটি পুতুল কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সেই পুতুলের মুখে এমবাপ্পের একটি ছবি বসানো ছিল। তবে, ওই পুতুলটি আর্জেন্টিনা দলকে স্বাগত জানাতে আসা ভক্তদের মধ্যে থেকে ছুঁড়ে মারা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

কিলিয়ান এমবাপ্প অবশ্য এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কিছুই বলেননি। কিন্তু মার্টিনেজের বিষয়গুলো ভালোভাবে নেয়নি ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগও জানিয়েছে তারা। এছাড়া, ফ্রান্সের সাবেক খেলোয়াড় এমনকি দেশের রাজনীতিবিদরাও মার্টিনেজের কাজ নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তবে বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে মত্ত মার্টিনেজকে যে এসবের কিছুই স্পর্শ করছে না তা বলাই বাহুল্য।

About

Popular Links