Thursday, June 13, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সাকিব-নুরুল-এনামুলের জরিমানা

অপরাধ স্বীকারের পাশাপাশি ম্যাচ রেফারির পাঠানো সিওসি ফর্মে অভিযুক্তরা স্বীকারোক্তি দেওয়ায় আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:১৫ পিএম

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আচরণবিধির “লেভেল ১” লঙ্ঘনের দায়ে ফরচুন বরিশাল অধিনায়ক সাকিব আল হাসান, ওপেনার এনামুল হক এবং রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানকে ম্যাচপ্রতি পারিশ্রমিকের ১৫% জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলে রংপুর রাইডার্স বনাম ফরচুন বরিশালের মধ্যকার ম্যাচে কোড অব কন্ডাক্ট না মানায় তিন খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়া আছে।

দুই অনফিল্ড আম্পায়ার রবীন্দ্র উইমলসারি ও গাজী সোহেল, থার্ড আম্পায়ার মোরশেদ আলী খান এবং চতুর্থ কর্মকর্তা মোজাহিদ স্বপন অভিযোগ গঠন করেছেন। ম্যাচ ফি থেকে ১৫% জরিমানা কেটে রাখার সঙ্গে সঙ্গে তিনজন খেলোয়াড়ের শাস্তিমূলক রেকর্ডে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট যোগ করা হয়।

ম্যাচ চলাকালে আম্পায়ারের নির্দেশ অমান্য করায় বিসিবি কোড অব কন্ডাক্টের ধারা ২.৪ অনুযায়ী সাকিব এবং নুরুল দুজনকে জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে, আম্পায়ারের দেওয়া এলবিডব্লুর সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করায় বিসিবি কোড অব কন্ডাক্টের ধারা ২.৮ অনুযায়ী তাকে শাস্তি দেওয়া হয়।

অপরাধ স্বীকার করার পাশাপাশি সাকিব, এনামুল এবং সোহান তিনজনই খেলা শেষে ম্যাচ রেফারির পাঠানো সিওসি ফর্মে (কোড অব কনডাক্ট ভঙ্গের ফর্ম) স্বীকারোক্তিমূলক সই করায় আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি।

মঙ্গলবার বিপিএল-এর রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ফরচুন বরিশালের ইনিংসের শুরুতে বিতর্কের সূত্রপাত। বরিশালের ব্যাটিংয়ের শুরুতেই ডাগআউটের বাইরে থেকে দুই ওপেনিং ব্যাটারকে উঠে আসতে বলেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তারা না এলে সাকিব নিজেই ঢুকে পড়ে আম্পায়ারদের সঙ্গে বিতর্কে জড়ান। এ কারণে মিনিট পাঁচেকের মতো খেলাও বন্ধ ছিল। অবশেষে সাকিবকে বুঝিয়ে শুনিয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরানো হয়।

রংপুর রাইডার্সের ছুঁড়ে দেওয়া ১৫৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন ফরচুন বরিশালের দুই ওপেনার চতুরঙ্গ ডি সিলভা ও এনামুল হক বিজয়। নিয়ম অনুযায়ী, বোলার ঠিক হওয়ার পর ব্যাটাররা স্ট্রাইক নিলেও এই ম্যাচে দেখা যায় উল্টো দৃশ্য। ইনিংসের প্রথম ওভারে শুরুতে রংপুরের বাঁহাতি স্পিনার রাকিবুল হাসানের বল করার কথা ছিল। কিন্তু স্ট্রাইকে চাতুরাঙা ডি সিলভা থাকার পর আচমকাই অফস্পিনার শেখ মেহেদী হাসানের হাতে বল তুলে দেন দলীয় অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। এরপর চতুরঙ্গ ডি সিলভা আর এনামুল হক বিজয় পরস্পরের মধ্যে স্ট্রাইকিং প্রান্তের জায়গা অদলবদল করেন। এরপর পুনরায় রাকিবুল হাসানের হাতে বল তুলে দেন সোহান।

মাঠের বাইরে থেকে এ বিষয় নিয়েই আপত্তি তুলে পিচে আসেন বরিশাল অধিনায়ক সাকিব। ড্রেসিংরুম থেকে বেরিয়ে প্রথমে বাউন্ডারি রোপের সামনে দাঁড়ান সাকিব। সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ব‌্যাটারদের ইশারায় ড্রেসিংরুমে ফিরতে বলেন। তখন সাকিবের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান চতুর্থ আম্পায়ার মোজাহিদুজ্জামান। আম্পায়ারকেও বোঝানোর চেষ্টা করেন সাকিব। কিন্তু তাতেও অশান্ত দেখাচ্ছিল বাঁহাতি অলরাউন্ডারকে। দুই ব‌্যাটারকে উইকেট থেকে সরে আসার ক্রমাগত আহ্বান জানাচ্ছিলেন তিনি।

দুই ওপেনার উঠে না আসায় মাঠে ঢুকে সরাসরি দুই অনফিল্ড আম্পায়ার গাজী সোহেল ও রাভেন্দ্র উইমালসারির সঙ্গে কথা বলেন উত্তেজিত সাকিব। খেলা চলাকালীন মাঠে ঢুকে সাকিব প্রায় পাঁচ মিনিট খেলা থামিয়ে রাখেন। সেখানে রংপুরের খেলোয়াড়রা জটলা পাকিয়ে ছিলেন। অধিনায়ক সোহানের সঙ্গেও সাকিবকে কথা বলতে দেখা যায়। পরবর্তীতে দুই আম্পায়ারদের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

এ ঘটনায় বরিশালের ম্যানেজার সাজ্জাদ আহমেদ শিপন সাকিবের মাঠে যাওয়া প্রসঙ্গে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কোনো বোলার বল করবেন তা ঠিক হওয়ার পর ব্যাটসম্যানরা কে স্ট্রাইক নেবেন তা ঠিক হয়। এক্ষেত্রে শেখ মেহেদীকে বল করতে আসতে দেখে চতুরঙ্গ ডি সিলভার বদলে এনামুল হক বিজয়কে স্ট্রাইকে চাচ্ছিলেন সাকিব। কিন্তু আম্পায়ার সেটার অনুমতি দিতে রাজি হচ্ছিলেন না, এই নিয়ে কথা বলতে মাঠে ঢুকেন তিনি।

About

Popular Links