Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পরম আকাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপ পেয়েও মেসির আক্ষেপ

কাতার বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার মাস দেড়েক পরও সেদিনের সেই আচরণের জন্য আক্ষেপে পুড়ছেন মেসি

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০১:২৩ পিএম

লিওনেল মেসির আলোক ঝলমলে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে প্রাপ্তির সংখ্যা কম ছিল না। একমাত্র অতৃপ্তি বলতে ছিল শুধুমাত্র ফিফা বিশ্বকাপ। ২০২২ সালে এসে সেই অপূর্ণতাও ঘুচেছে। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে গত ১৮ ডিসেম্বর আইকনিক স্টেডিয়ামে আগের আসরের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে টাইব্রকারে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বজয়ের স্বাদ পায় আর্জেন্টিনা।

কাতার বিশ্বকাপ যে তাই লিওনেল মেসির জন্য অপ্রাপ্তির আক্ষেপ ঘোচানোর উপলক্ষ ছিল, সেটি না বলে দিলেও চলছে। জীবনে মনে রাখার মতো হাজারটা মুহূর্ত থাকলেও কাতার বিশ্বকাপ তাই নিঃসন্দেহে মেসির ক্যারিয়ারে আলাদা জায়গা হিসেবেই থাকবে। তবে না পাওয়ার বেদনা ঘুচিয়ে দেওয়া কাতার বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনা অধিনায়কের আফসোসের জায়গা আছে।

বর্তমানে ফুটবল কখনও কখনও মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে মাঠের বাইরের বিষয়গুলো বেশি আলোচনার জন্ম দেয়। কাতার বিশ্বকাপের শেষ আটে আর্জেন্টিনা ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যকার ম্যাচ ছিল তেমনই একটি ব্যাপার। মাঠের লড়াইয়ে ম্যাচটা ছিল ভীষণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। প্রথমে আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে এগিয়ে গেলেও বদলি হিসেবে মাঠে নামা ভঠ ভেহর্স্টের জোড়া গোলে ম্যাচটিকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে ডাচরা। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানের জয়ে সেমিফাইনালের টিকিট পায় আলবিসেলেস্তেরা। তবে মাঠের লড়াই ছাপিয়ে মূল আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছিল খেলোয়াড়দের উত্তপ্ত আচরণ ও উত্তেজনা।

ফুটবল মাঠে লিওনেল মেসি এমনিতে বেশ শান্তশিষ্ট। মাঠের বাইরেও আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লাজুক বলেই শোনা যায়। তবে কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে সেই নমনীয় মেসি দেখা দিয়েছিলেন রুদ্রমূর্তিতে। শেষ আটের আর্জেন্টিনা-নেদারল্যান্ডস ম্যাচে রেকর্ড ১৮টি হলুদ কার্ড দেখানো রেফারি অ্যান্টোনিও মাতেউ লাহোজকে মাঠেই কিছু কথা শুনিয়ে দেন মেসি।

শুধু রেফারিই না, নেদারল্যান্ডসের তৎকালীন কোচ লুইস ভ্যান গালের সঙ্গেও মেসির কিছু উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। মাঠের লড়াই শেষ হওয়ার পরেও আর্জেন্টাইন অধিনায়কের অগ্নিমূর্তি থামেনি। ম্যাচের পর আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের সংবাদকর্মী গাস্তন এদুলের সঙ্গে সাক্ষাৎকার শুরুর আগে ভঠ ভেহর্স্টকে ধমকের সুরে মেসি বলে ওঠেন, “এদিকে তাকিয়ে আছ কেন নির্বোধ? ওদিকে যাও।”

শুধু ধমক দিয়েই ক্ষান্ত হননি, লিওনেল মেসি তখন কিছুটা রাগান্বিত হয়ে পড়েছিলেন। জাতীয় দলের সাবেক সতীর্থ সার্জিও অ্যাগুয়েরোর হস্তক্ষেপে উত্তেজিত মেসি শান্ত হন। পরে মেসির কাছ থেকে জানা যায়, মাঠে তাকে অনেক আজেবাজে কথা বলেছিলেন ডাচ ফরোয়ার্ড। এ কারণেই মেসি রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে ভঠ ভেহর্স্টের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে উঠেছিলেন।

কাতার বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার মাস দেড়েক পরও সেদিনের সেই আচরণের জন্য আক্ষেপে পুড়ছেন মেসি। সোমবার (৩০ জানুয়ারি) আর্জেন্টিনার রেডিও উরবানা প্লেইকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে নিজের সেই আফসোসের কথা স্বীকার করেছেন ৩৫ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। সাবেক নেদারল্যান্ডস কোচ ভ্যান গাল ও ডাচ ফরোয়ার্ড ভঠ ভেহর্স্টের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় প্রসঙ্গেও কথা বলেন মেসি।

সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, “সেদিন যা ঘটেছিল তা স্বাভাবিকভাবেই হয়েছিল। ম্যাচের উত্তেজনা এবং পরিস্থিতি থেকেই এমনটা হয়েছিল। আমি সাধারণত এসব ঘটনা নিয়ে পড়ে থাকি না। কিন্তু মাঠে এমনটা হয়ই। তবে সেদিন যা হয়েছিল, তা আমার নিজেরই ভালো লাগেনি।”

ভঠ ভেহর্স্টের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কোনো সমস্যা নেই জানিয়ে বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা অধিনায়ক বলেন, “আমি আসলে সেদিন যে আচরণ করেছিলাম, সেটি নিয়ে নিজেই নিজের ওপর বিরক্ত। ভঠ ভেহর্স্টকে সেদিন যা বলেছিলাম, সেটাও ঠিক হয়নি। খুব চাপের সময় এসব হয়। মানুষ অনেক কিছুই করে বসে। এসব আসলে পরিকল্পনা করে ঘটে না, শুধু পরিস্থিতির সঙ্গে হয়ে যায়।”

About

Popular Links