Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শ্রীলঙ্কাকে শেষ বলে হারিয়ে ভারতকে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে তুলল নিউজিল্যান্ড

টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৬ বছরের ইতিহাসে এটি শেষ বলে ম্যাচ জয়ের দ্বিতীয় ঘটনা

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৩, ০৪:৩৫ পিএম

সীমিত ওভারের ক্রিকেটে প্রায়শই রোমাঞ্চের সাক্ষী হয় ক্রিকেপ্রেমীরা। সেই তুলনায় টেস্ট ক্রিকেট খুব একট রোমাঞ্চের উপলক্ষ নিয়ে আসে না। তবে সোমবার (১৩ মার্চ) ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার বৃষ্টিবিঘ্নিত টেস্টের পঞ্চম দিন যেন রোমাঞ্চের ডালি সাজিয়ে বসেছিল। ম্যাচটা নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে হলেও এতে অলিখিতভাবে ছিল ভারতও। 

শ্রীলঙ্কা নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের দৌড়ে লঙ্কানরা টিকে থাকতো। কিন্তু অধিনায়ক কেইন উইলিয়ামসনের অসাধারণ সেঞ্চুরিতে ড্যারিল মিচেলের ঝড়ো গতির ব্যাটিংয়ে শেষ বলে নিষ্পত্তি হওয়া ম্যাচে ২ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে কিউইরা। ফলে শ্রীলঙ্কা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াই থেকে ছিটকে যাওয়ায় ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে ভারত।

প্রথম দুদিন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ শ্রীলঙ্কার হাতে থাকলেও তৃতীয় দিন থেকে ম্যাচে ফিরে আসে নিউজিল্যান্ড। চতুর্থ দিনের শেষে ম্যাচের পরিস্থিতি এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিল, যেখান থেকে দুদলের সামনেই ম্যাচ জেতার সমান সুযোগ ছিল। জয়ের জন্য দ্বিতীয় ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের সামনে ছিল ২৮৫ রানের লক্ষ্য। চতুর্থ দিন শেষে কিউইরা তাদের শেষ ইনিংসে তোলে ১ উইকেটে ২৮ রান।

শেষ দিনে জয়ের জন্য ৯ উইকেটে ২৫৭ রান তুলতে হতো স্বাগতিকদের। তবে বৃষ্টির বাগড়ায় শেষ দিনের খেলাই শুরু হয় ৪ ঘণ্টা দেরিতে। ততক্ষণে শেষ দিনের প্রথম সেশনের খেলাও ভেসে গেছে। তখন পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট অমিমাংসিতই থেকে যাবে বলে মনে হচ্ছিল। যদিও ঘরের মাঠে কিউইরাই খানিকটা এগিয়ে ছিল। 

ক্রাইস্টচার্চে শ্রীলঙ্কার ৩৫৫ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড তাদের প্রথম ইনিংসে ৩৭৩ রান তোলে। প্রথম ইনিংসের নিরিখে ১৮ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দফায় ব্যাট করতে নামে সফরকারীরা। দ্বিতীয় ইনিংসে লঙ্কানরা ৩০২ রান তোলে। বৃষ্টি থামার পর শেষ দিনের খেলা শুরু হলে ৫৩ ওভার খেলার সুযোগ পায় কিউইরা। কার্যত ওয়ানডে ক্রিকেটের কায়দায় রান তুলে জয় ছিনিয়ে নেয় স্বাগতিকরা।

দলীয় ৫০ রানে পড়ে ল্যাথামের উইকেট। হেনরি নিকোলসও ভালো শুরু করলেও ইনিংস লম্বা করতে ব্যর্থ হন। দলীয় ৯০ রানে তাকে সাজঘরে ফিরিয়ে স্বাগতিকদের চাপে ফেলেন প্রবাথ জয়াসুরিয়া। তার পর মিচেল ও উইলিয়ামসনের ১৫৭ বলে ১৪২ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় নিউজিল্যান্ড। মিচেল যেখানে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন, সেখানে সিঙ্গেল–ডাবলসে রানের চাকা সচল রাখছিলেন উইলিয়ামসন।

নিউজিল্যান্ডের যখন ৫০ বলে মাত্র ৫৩ রান দরকার তখন দলীয় ২৩২ রানে আসিতা ফার্নান্দোর বলে আউট হন মিচেল। সাজঘরে ফেরার আগে তিন চার এবং ৪ ছয়ে ৮৬ বলে ৮১ রান করেন মিচেল। পরবর্তীতে টম ব্লান্ডেল ও মাইকেল ব্রেসওয়েলের উইকেটও তুলে নিয়ে সফরকারীদের ম্যাচে ফেরান ডানহাতি লঙ্কান পেসার আসিতা। এরই মাঝে এক প্রান্ত আগলে রেখে সেঞ্চুরি তুলে নেন উইলিয়ামসন।

দিনের শেষ ওভারে জয়ের জন্য নিউজিল্যান্ডের দরকার ছিল ৮ রান।  প্রথম দুই বলে সিঙ্গেলের পর তৃতীয় বলে ঝুকিপূর্ণ ডাবলস নিতে গিয়ে হেনরি রানআউট হলে চাপে পরে কিউইরা। তবে চতুর্থ বলে চার মেরে উজিল্যান্ডকে জয়ের খুব কাছে নিয়ে যান উইলিয়ামসন। শেষ ২ বলে নিউজিল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল মোটে এক রান। স্বাগতিকরাও তখন জয়ের প্রহর গুণছে।

কিন্তু ওভারের পঞ্চম বলে আসিতার বাউন্সারে ব্যাটে বল লাগাতে ব্যর্থ হন উইলিয়ামসন। শেষ বলে তাই এক রান নেওয়ার বিকল্প ছিল না। আসিতার শর্ট ডেলিভারিতে পুল করতে চেয়েছিলেন কেইন উইলিয়ামসন। বল ব্যাটে না লাগলেও তিনি পড়িমরি করে ছুটলেন রানের জন্য। উইকেটকিপার নিরোশান ডিকভেলা বল হাতে নিয়ে স্ট্রাইক প্রান্তে স্টাম্প ভাঙতে চাইলেন, হলো না। বোলার আসিতা বল তুলে নিয়ে থ্রো করলেন নন স্ট্রাইক প্রান্তে। সরাসরি থ্রোয়ে ভেঙে গেল স্টাম্প।

মাঠের আম্পায়ার সাহায্য চাইলেন টিভি আম্পায়ারের। টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, বল স্টাম্পে লাগার আগেই উইলিয়ামসন বিপদসীমা পেরিয়ে পৌঁছে গেছেন ক্রিজে। রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার পর তৃতীয় আম্পায়ারের পক্ষ থেকে নট আউটের সংকেত আসার পর অবিশ্বাস্য এক টেস্ট জয়ের সাক্ষী হলো ক্রিকেট বিশ্ব, যে অবিস্মরণীয় জয়ের নায়ক ১২১ রান করে অপরাজিত থাকা কেইন উইলিয়ামসন।

টেস্ট ক্রিকেট দেখল শেষ বলে ম্যাচ জয়ের সাক্ষী হলো ৭৫ বছর পর। ১৯৪৮ সালের ২০ ডিসেম্বর ডারবানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ইংল্যান্ড শেষ বলে টেস্ট জিতেছিল। টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৬ বছরের ইতিহাসে শেষ বলে টেস্ট জয়ের দ্বিতীয় ঘটনা এটি।  

About

Popular Links