Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দর্শকের ফোন দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় রেফারি নিষিদ্ধ

রেফারির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে ম্যাচের পরাজিত দলটি

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৩, ০৬:০৩ পিএম

রেফারিদের ম্যাচ পরিচালনা সহজ করতে এবং নিখুঁত সিদ্ধান্ত নিশ্চিতে ফুটবল খেলায় অনেক আগেই ঢুকে পড়েছে গোললাইন প্রযুক্তি এবং ভিডিও অ্যাসিস্টেন্ট রেফারি (ভিএআর)। কিন্তু শুক্রবার (১৭ মার্চ) মিশরের দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল লিগে আল-নাসর এবং সুয়েজের মধ্যকার ম্যাচে দুই প্রযুক্তির কোনোটাই ছিল না।

ফলশ্রুতিতে ম্যাচের শেষদিকে আল-নাসরের করা একটি গোলের সিদ্ধান্ত দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন রেফারি মোহাম্মদ ফারুক। শেষ পর্যন্ত গোলের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে এক দর্শকের ফোনে ধারণ করা ভিডিও দেখেন তিনি। পরে সেই গোল বাতিলও করেন ফারুক। কিন্তু ম্যাচশেষে ঠিকই শাস্তি হিসেবে নিষেধাজ্ঞা জুটল এ মিশরীয় রেফারির ভাগ্যে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিররের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মিশরের দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল লিগে শুক্রবারের ম্যাচের এক পর্যায়ে ২-১ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে ছিল সুয়েজ। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের অন্তিম মুহূর্তে ফ্রি-কিক থেকে সমতাসূচক গোল করে আল–নাসর। তবে সুয়েজের খেলোয়াড়রা হ্যান্ডবলের দাবি তুলে গোলটি বাতিলের দাবি তোলেন।

সেই গোলকে ঘিরে দুই দলের খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তারা তো বটেই, গ্যালারি থেকে দর্শকরাও মাঠে ঢুকে পড়েন। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে গোলের সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধায় পড়ে যান মোহাম্মদ ফারুক। ভিএআর না থাকায় টাচলাইনের বাইরে গিয়ে মিশরীয় রেফারিকে এক দর্শকের ফোনে ধারণ করা এক ভিডিওর শরণাপন্ন হতে হয়।

শেষ পর্যন্ত দর্শকের ফোনে ধারণ করা ভিডিও দেখে রিপ্লে দেখে হ্যান্ডবলের অপরাধে গোলটি বাতিল করেন ফারুক। রেফারির এ সিদ্ধান্তে আল-নাসরের খেলোয়াড়-কোচ থেকে শুরু করে বাকি স্টাফরা ঘোর ক্রুদ্ধ ছিলেন। পরে তা আরও বেড়েছে বৈকি। যোগ করা সময়ে আরও এক গোল করে যে সুয়েজ ৩-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে।

ভিএআরের বিকল্প হিসেবে দর্শকের ফোনের ভিডিও রিপ্লে দেখে কাজ সারলেও শাস্তি এড়াতে পারেননি ফারুক এবং সে ম্যাচের ম্যাচ ডে স্টাফরা। ম্যাচের পর মূল রেফারি ফারুক এবং ম্যাচ ডে স্টাফদের অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ করেছে মিসর ফুটবল ফেডারেশন। তাদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, “ম্যাচের ঘটনাটি বুঝতে রেফারি মোহাম্মদ ফারুকের মুঠোফোন ব্যবহারের ঘটনাটি তদন্ত করা হবে।”

তবে এতেও আল নাসরের কর্মকর্তাদের রাগ কমেনি, ফারুকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দিয়েছে তারা। আল নাসরের বোর্ড সদস্য আহমেদ আল-আহমার বলেন, “রেফারি মোহাম্মদ ফারুকের এমন কাজ দেখে আমরা হতবাক। এর আগে, মিশরের কিংবা আন্তর্জাতিক ফুটবলে কখনও মোবাইলের ফোনে ধারণ করা ভিডিও দেখে রেফারির সিদ্ধান্ত দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।”

About

Popular Links