Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আইসিসির টুর্নামেন্টে শচীনের আইকনিক ১০ মুহূর্ত

শচীন ২০০৩ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৭৫ বলে ৯৮ রান করে ম্যাচ জেতান ভারতকে

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২৩, ১১:৩৬ পিএম

জীবনের অর্ধশতক পূর্ণ করলেন ক্রিকেটের ঈশ্বরখ্যাত কিংবদন্তী ভারতীয় ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার। ভারতীয় গণমাধ্যম এএনআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী আসুন ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে “মাস্টার ব্লাস্টার” শচীনের আইকনিক কিছু মুহূর্ত ফিরে দেখি-

১৯৯২ বিশ্বকাপ: পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫৪ রান

১৯৯২ সালে ১৮ বছর বয়সী টেন্ডুলকার তার প্রথম বিশ্বকাপ খেলেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৫৪ রান করে প্রথমবারেই তিনি তার জাত চিনিয়েছিলেন। তার স্কোর ওই ম্যাচে ভারতকে ৫০ ওভারে ২১৬/৭ পৌঁছাতে সাহায্য করেছিল। পাকিস্তান সেদিন ভারতের কাছে ৪৩ রানে হেরে যায়।

১৯৯২ বিশ্বকাপ: নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৪ রান

অজয় জাদেজা চোট পেয়ে অবসর নিতে বাধ্য হওয়ার পর ১০৭ বলে ৮৪ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন শচীন। ওই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২৩০/৬ রান করে ভারত। ম্যাচে শচীন তার দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন; তবে ভারত ম্যাচটি হেরে যায়। এছাড়া শচীন তার অভিষেক বিশ্বকাপে সাত ইনিংসে তিনটি অর্ধশতক এবং ৪৭.১৬ গড়ে ২৮৩ রান করেছিলেন।

১৯৯৬ বিশ্বকাপ: অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯০ রান

অজিদের বিরুদ্ধে ২৫৯ রান তাড়া করতে গিয়ে ভারত ৭ রানে ২ উইকেট হারানোর পরে টেন্ডুলকার দলের পক্ষে মজবুত দেয়ালের ভূমিকা রাখেন। সেদিন ৮৪ বলে ১৪ চার ও একটি ছক্কায় ৯০ রান করেছিলেন তিনি। এছাড়া গ্লেন ম্যাকগ্রা ও শেন ওয়ার্নের মতো বিশ্বমানের বোলারদের তিনি ঘাম ছুটিয়েছিলেন। কিন্তু মিডল অর্ডার টিকে থাকতে ব্যর্থ হয় এবং ভারত ১৬ রানে হেরে যায়।

ফাইল ছবি/আইসিসি

১৯৯৮ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অলরাউন্ডার পারফরম্যান্স

প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলেতে নেমে লিটল মাস্টার অজিদের বিপক্ষে মাত্র ১২৮ বলে ১৩টি চার ও তিনটি ছক্কায় ১৪১ রান করে ভারতকে ৩০৭/৮ পৌঁছে দেন। এছাড়া তিনি স্টিভ ওয়া, মাইকেল বেভান এবং ড্যামিয়েন মার্টিনের মতো খেলোয়াড়দের রীতিমতো নাস্তানাবুদ করেন।

১৯৯৯ বিশ্বকাপ: কেনিয়ার বিপক্ষে ১৪০ রান

বাবার মৃত্যুর কারণে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি ম্যাচ মিস করার পর টেন্ডুলকার ১০১ বলে ১৬ চার এবং তিনটি ছক্কায় ১৪০ রান করেন। তার রান ভারতকে ৩২৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ জিততে সাহায্য করে। টুর্নামেন্টে পরপর দুইটি হারের পর এ জয় তাদের আশার আলো দেখায়।

২০০৩ বিশ্বকাপ: পাকিস্তানের বিপক্ষে ৯৮ রান

শচীন ২০০৩ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৭৫ বলে ৯৮ রান করে ম্যাচ জেতান ভারতকে। ৬ উইকেট এবং ২৬ বল হাতে রেখেই পাকিস্তানের দেওয়া ২৭৪ রান তাড়া করে ম্যাচ জেতে ভারত। এই ম্যাচে একটি আইকনিক আপার কাট স্মরণীয়। ছক্কার জন্য শচীনের হাঁকানো একটি বলে স্পিডস্টার শোয়েব আখতার আঘাত পেয়েছিলেন।

ফাইল ছবি/আইসিসি

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অ্যান্ড্রু ক্যাডিকের ডেলিভারি মাঠ ছাড়া করেন শচীন

২০০৩ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অ্যান্ড্রু ক্যাডিকের বলে ম্যাচে শচীন একটি বিশাল ছক্কা মেরেছিলেন। যা খেলার সময় মাঠের বাইরে চলে গিয়েছিল। এই ক্র্যাকিং হিটের সঙ্গে ধারাভাষ্যকার টনি গ্রেগের উচ্ছ্বসিত কণ্ঠস্বর আজও ক্রিকেটপ্রেমীদের কানে বাজে।

২০১১ বিশ্বকাপ: ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ১২০ রান

জেমস অ্যান্ডারসন এবং গ্রায়েম সোয়ানের মতো ১১৫ বলে ১০ চার এবং পাঁচটি ছক্কায় একটি দুর্দান্ত ১২০ রান তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতকে ৩৩৮ রানে পৌঁছে দেয়। যদিও অ্যান্ড্রু স্ট্রসের ১৫৪ রানের ধাক্কা ইংল্যান্ডকে ম্যাচটি টাই করতে সাহায্য করেছিল, তবে শচীনের শটগুলোর ক্লাস ও টাইমিং এটিকে বিশ্বকাপে তার সেরা সেঞ্চুরির একটি করে তুলেছে।

২০১১ বিশ্বকাপ: সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮৫ রানে ম্যাচ জেতা

টেন্ডুলকার ১১৫ বলে ১১ চারের সাহায্যে ৮৫ রানের একটি ইনিংস খেলেন। যাতে ২০১১ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারত ৮৫ রানে ম্যাচ জেতে।

টেন্ডুলকারের স্বপ্ন পূরণ!

টেন্ডুলকারের বিশ্বকাপ গৌরব অর্জনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপান্তরিত হয় ২ এপ্রিল ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের নিজ মাঠে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ জেতার পরে শচীনকে তার সতীর্থরা কাঁধে নিয়ে উল্লাস করেন। ৯টি ম্যাচে দুইটি ১০০ এবং দুটি অর্ধশতকের সাহায্যে তার ৪৮২ রান ভারতকে তাদের বিশ্বকাপ জয়ের পথে সাহায্য করেছিল।

About

Popular Links