Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আইপিএল: ক্রিকেটের আড়ালে গেমিং-বেটিং

আইপিএলের গ্রুপ পর্বেই প্রতি ম্যাচে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার রুপির বেটিং হয়েছে

আপডেট : ৩০ মে ২০২৩, ০৪:৪৫ পিএম

২০২৩ সালের পুরুষদের যে আইপিএল শেষ হলো, তার ব্রডকাস্টের সত্ত্ব ছিল “ভায়াকম ১৮” এর হাতে। এ বছরের আইপিএলের পুরো সিজনের জন্য তাদের মোট আয়ের লক্ষ্য ছিল তিন হাজার ৭০০ কোটি রুপি। সূত্র জানাচ্ছে, এই আয়ের লক্ষ্য পূরণ করেছে ভায়াকম। উল্লেখ্য, পুরুষদের আইপিএলে মোট ম্যাচের সংখ্যা ছিল ৭৪। নারীদের আইপিএলের মোট ম্যাচ ২০টি। এই পুরো ৯৪টি ম্যাচের জন্য চার হাজার কোটি রুপির কাছাকাছি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছিল ভায়াকম।

এ বিষয়ে সরাসরি ভায়াকমের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিল ডয়চে ভেলে। কিন্তু তারা কোনো উত্তর দেয়নি। তবে আইপিএলের ব্যবসার খবর যারা রাখেন, তাদের বক্তব্য, সিজনের প্রথম অংশেই আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁয়ে ফেলেছে ভায়াকম। কিন্তু কীভাবে ছুঁলো?

গেমিং অ্যাপের খেলা

আইপিএলের আয়ের অন্যতম মাধ্যম বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপন থেকেই প্রায় গোটা আয়ের টাকা এবং মূলধন উপার্জিত হয়। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, এ বছর যে ১৬তম পুরুষদের আইপিএল অনুষ্ঠিত হলো, তার প্রথম পর্বেই অর্থাৎ, গ্রুপ পর্বেই বিজ্ঞাপনের ২০% অনলাইন গেমিং অ্যাপগুলো থেকে এসেছে। এই অ্যাপগুলোর মাধ্যমেই অনলাইনে বেটিং করা যায়। নিজের টিম তৈরি করে টাকা জেতার মাধ্যম এই গেমিং অ্যাপগুলো। খেলোয়াড় থেকে প্রশাসক- সকলেই এই গেমিং অ্যাপগুলোর বিজ্ঞাপনের সঙ্গে যুক্ত।

অনলাইন গেমিং অ্যাপের প্রভাব নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংস্থা ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছে, ফাইনাল পর্বে এই অর্থের পরিমাণ আরও খানিকটা বেড়েছে বলেই তাদের ধারণা। যদিও এ বিষয়ে সার্বিক রিপোর্ট এখনো তাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি। তবে তাদের ধারণা, শেষ পর্যন্ত মোট বিজ্ঞাপনের ৩০% কেবলমাত্র অনলাইন গেমিং অ্যাপ থেকে এলেও আশ্চর্য হওয়ার কোনো কারণ নেই।

লক্ষণীয়, ২০২২ সালের চেয়ে এই সংখ্যাটা এবার বেশ কয়েকগুণ বেড়েছে। অনলাইন গেমিং অ্যাপগুলো এভাবে রমরমিয়ে চললে। আগামী বছর এই সংখ্যাটি ৫০% পর্যন্ত যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপনের নিরিখে অনলাইন গেমিং অ্যাপের পেছনেই আছে পানমশলা। বস্তুত, ট্যাম স্পোর্টস আইপিএল-এর প্রথম অংশের বিজ্ঞাপন নিয়ে একটি রিপোর্ট পেশ করেছে। তাতেই এই বিষয়গুলো আরও বেশি স্পষ্ট হয়েছে। অথচ ২০২২ সালেও আইপিএলের বিজ্ঞাপনের চরিত্র আলাদা ছিল। সেবার বিজ্ঞাপনের তালিকায় প্রথম সারিতে ছিল ই-শিক্ষা, ই-শপিং এবং ই-ওয়ালেটের মতো সংস্থাগুলো। এ বছর রাতারাতি সে জায়গায় চলে এসেছে অনলাইন গেমিং অ্যাপ।

গেমিং অ্যাপের লাভ

পুলিশের এক সূত্র ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছে, আইপিএলের গ্রুপ পর্বেই প্রতি ম্যাচে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার রুপির বেটিং হয়েছে বলে তাদের কাছে খবর আছে। ফাইনাল পর্বে এই অর্থ আরও দেড় গুণ পর্যন্ত বেড়েছে বলে তাদের ধারণা। তবে ফাইনাল পর্বের অংক এখনো তাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি। এই অর্থের সিংহভাগ অনলাইন গেমিং অ্যাপগুলোর মাধ্যমে ঘুরেছে। তার বাইরেও বেআইনি অনলাইন বেটিংচক্রও কাজ করেছে। একটি ম্যাচে তিন হাজার কোটি রুপির লেনদেন হলে তা থেকে মোট লাভ প্রায় ৬০০ কোটি রুপি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে সেই টাকাই বিজ্ঞাপনে যাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন। এ কারণেই অনলাইন অ্যাপের বিজ্ঞাপনের পরিমাণ এতটা বেড়ে গেছে বলে মনে করছেন তারা।

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ভারতীয় বোর্ডের সভাপতি থাকাকালীন প্রথম অনলাইন গেমিংয়ের ফ্লাডগেট খুলে দেওয়া হয়। বিদেশি গেমিং সংস্থাগুলোকে আইপিএলে ঢুকতে দেওয়া হয়। তার সঙ্গে অনলাইন গেমের সঙ্গে যুক্ত দেশি সংস্থাগুলোও তাতে যোগ দেয়। আইপিএলের অকশনেই এর সরাসরি প্রভাব দেখা গেছিল সে সময়। আগে যেখানে একটি টিমের অকশনে খুব বেশি হলে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি রুপি বরাদ্দ হতো, সেখানে গেমিংয়েরফ্লাডগেট খুলে যাওয়ার পর একটি টিমের মূল্য আট হাজার কোটি রুপি পর্যন্ত পৌঁছেছে। আইপিএলের মোট বাজেট গত কয়েক বছরে কয়েকগুণ বেড়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন।

এ বছরের আইপিএলের সর্বশেষ হিসাব এখনো সামনে আসেনি। তবে প্রাথমিক রিপোর্ট বলছে, আগের সমস্ত আইপিএলকে অন্তত অর্থকড়ির দিক থেকে ছাপিয়ে গেছে এবারের আয়োজন।

About

Popular Links