Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আবাহনীকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ১৪ বছর পর ফেডারেশন কাপের চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান

ফেডারেশন কাপের ফাইনালে ওঠার মাধ্যমে২০০৯ সালের পর প্রতিযোগিতাটির শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে পরস্পরের মুখোমুখি হয় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী

আপডেট : ৩০ মে ২০২৩, ০৬:৪২ পিএম

দেশের ইতিহাসে ঐতিহ্যবাহী ক্লাব হলেও আবাহনী-মোহামেডান একত্রে দীর্ঘদিন ধরে ফেডারেশন কাপ ফুটবলের ফাইনালে উঠতে পারেনি। ২০২৩ সালের ফেডারেশন কাপের ফাইনালে ওঠার মাধ্যমে ১৪ বছর পর প্রতিযোগিতাটির শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে পরস্পরের মুখোমুখি হয় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।

মঙ্গলবার (৩০ মে) কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ফেডারেশন কাপের ফাইনালে নির্ধারিত সময় শেষে আবাহনী-মোহামেডান লড়াই ৩-৩ ব্যবধানে অমীমাংসিত থাকে। ফলে আট বছর পর ফেডারেশন কাপের ফাইনাল গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ে প্রথমার্ধের শেষদিকে গোল করে এগিয়ে যায় মোহামেডান। কিন্তু ১১৭ মিনিটে আবাহনী সমতায় ফিরলে ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ায়। পেনাল্টি শুটআউটের ভাগ্যপরীক্ষায় আবাহনীকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ২০০৯ সালের পর কে আবারও ফেডারশন কাপের শিরোপা ঘরে তোলে মোহামেডান।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের মাধ্যমে মোহামেডানের টুঁটি চেপে ধরে আবাহনী। ম্যাচের ১৭ মিনিটেই ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের গোলে এগিয়ে যায় ধানমন্ডির ক্লাবটি। দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে এমেকা ওগবাহর দারুণ পাসে গোলকিপার সুজন হোসেনকে পরাস্ত করেন আবাহনী ফরোয়ার্ড।

২৯ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল পেয়ে যেতে পারতেন ফাহিম। কিন্তু কলিনদ্রেস-এমেকার কাছ থেকে বল পেয়ে ফাহিম শট নিলেও সেটি রুখে দেন মোহামেডান গোলরক্ষক। ৩৮ মিনিটে কলিনদ্রেসের ক্রসে এমেকা মাথা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হলে গোলের আরও একটি সুযোগ হারায় আকাশী-হলুদ শিবির।

তবে ৪৩ মিনিটে ঠিকই ব্যবধান দ্বিগুণ করে আবাহনী। মোহাম্মদ হৃদয়ের লং পাস থেকে প্রতিপক্ষ ডি-বক্সের ভেতরে বল পেয়ে মোহামেডান ডিফেন্ডার হাসান মুরাদকে ছিটকে দিয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করেন কলিনদ্রেস। যোগ করা সময়ে মোহামেডান গোলরক্ষক বাধা হয়ে না দাঁড়ালে ফ্রি-কিক থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলও পেয়ে যেতে পারতেন তিনি।

দুই গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে মধ্যবিরতির পর মাঠে নেমেছিল মোহামেডান। মোহামেডানের হয়ে মাঠে নামেন শাহরিয়ার ইমন ও জাফর ইকবাল। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছিল তারা।

চার মিনিটের ব্যবধানে অধিনায়ক অধিনায়ক সুলেমান দিয়াবাতে দুই গোলে সমতায় ফেরে সাদা-কালো শিবির। ৫৭ মিনিটে কামরুল ইসলামে লং বল থেকে আলমগীর মোল্লা হেডে ঠিকমতো বল বিপদমুক্ত করতে পারেননি। সুযোগ পেয়ে ডি-বক্সের ভেতরে বল পেয়ে সুলেমানে দিয়াবাতে সাইড ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন। ৬০ মিনিটে জাফর ইকবালের বাঁ প্রান্তের ক্রসে জোরাল হেডে দ্বিতীয় গোল করেন দিয়াবাতে।

৬৫ মিনিটে সোহেল রানার ক্রসে আবাহনীর এমেকার হেড ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হয়। তবে পরের মিনিটেই নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার এমেকার গোলে ফের ম্যাচে এগিয়ে যায় আবাহনী। কিন্তু মোহামেডানও ছেড়ে কথা বলেনি। বাঁ প্রান্ত থেকে আসা কর্নারে মাথা ছুঁইয়ে হ্যাটট্রিক করেন দিয়াবাত, সেই সঙ্গে ম্যাচও গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে লিড নেয় মোহামেডান। এবারও গোলদাতা অধিনায়ক সুলেমান দিয়াবাতে। ডি-বক্সের মধ্যে আবাহনীর ডিফেন্ডার তাকে ফাউল করলে রেফারি আলমগীর সরকার পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পটকিক থেকে দিয়াবাতে লক্ষ্যভেদ করলে ম্যাচে প্রথমবারের মতো মোহামেডান এগিয়ে যায়।

ফাইনালের অধিকাংশ সময়ে চালকের আসনে থাকা আবাহনী সমতায় ফেরে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে দুরপাল্লার শট থেকে মোহামেডান গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে আবাহনীর রহমত বল জালে জড়ান। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে আর কোনো গোল না হলে ফাইনাল গড়ায় টাইব্রেকার রোমাঞ্চে।

টাইব্রেকারে আবাহনী অধিনায়ক দলের পক্ষে প্রথম শটে গোল করতে ব্যর্থ হলেও মোহামেডান প্রথন তিন শটেই লক্ষ্যভেদ করে। কিন্তু চতুর্থ শটে আবাহনী গোলরক্ষক সোহেলের কৃতিত্বে মোহামেডান গোল করতে না পারায় জমে ওঠে টাইব্রেকার লড়াই। চার শট শেষে দুই দলই ৩-৩ সমতায় ছিল। কিন্তু পঞ্চম শটে আবাহনীর শট মোহামেডানের বদলি গোলরক্ষক বিপু সেভ করলে শিরোপায় এক হাত দিয়ে ফেলে সাদা-কালো শিবির। অবশেষে পঞ্চম শটে লক্ষ্যভেদ করলে ১৪ বছর পর শিরোপা জেতার আনন্দে মেতে ওঠে মোহামেডান খেলোয়াড়রা।

About

Popular Links