Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পেট্রো ডলার ঝনঝন, ম্যানসিটি চ্যাম্পিয়ন

প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের ট্রফি জয়ের পাশাপাশি এই মৌসুমে ট্রেবল জয়ের রেকর্ড গড়ল ম্যানসিটি

আপডেট : ১১ জুন ২০২৩, ০৯:৫০ এএম

মোটা অংকে বিশ্বের দামি দামি সব খেলোয়াড়দের দলে ভিড়িয়েছেন কোচ পেপ গার্দিওলা। ফুটবলবোদ্ধা কিংবা সাধারণ ফুটবলপ্রেমী সবার কাছেই তাই চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে এগিয়ে ছিল ম্যানসিটি। ইতিহাস আবার ছিল ইন্টার মিলানের পক্ষে।

তবে শেষ পর্যন্ত সে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটেনি। ২০১২ সালের পর প্রথম নতুন চ্যাম্পিয়ন পেল চ্যাম্পিয়নস লিগ। ২৩তম দল হিসেবে ইউরোপ জয় করল হাতছানি গার্দিওলার দল।

তবে শনিবার (১১ জুন) রাতে ইস্তানবুলের ফাইনাল জয় খুব সহজ হয়নি সিটির জন্য। ম্যাচে প্রেসিং ফুটবল খেলে ম্যানসিটির বুকে কাপন ধরিয়ে দিয়েছিল ইন্টার। শুধু ফিনিশিংয়ের ঘাটতির কারণেই হৃদয় ভাঙলো তাদের। আর সুযোগ বুঝে রদ্রির করা দারুণ এক গোলে আতাতুর্ক অলিম্পিক স্টেডিয়ামে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনালে ইন্টার মিলানকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন সিটিজেনরা।

এই মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ও এফএ কাপের পর চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতলো  ম্যানসিটি। তাতে ১৯৯৯ সালে ম্যানইউর পর প্রথম ইংলিশ ক্লাব হিসেবে ট্রেবল জয়ের কীর্তি গড়ল তারা।

ম্যানসিটির সঙ্গে ইতিহাস গড়েছেন কোচ পেপ গার্দিওলাও। প্রথম কোচ হিসেবে দুটি ক্লাবে ট্রেবল জিতলেন তিনি। বার্সার সঙ্গে ২০০৯ সালে এই কীর্তি গড়েন স্প্যানিশ কোচ। এটি তার তৃতীয় ১২ বছর পর প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ ট্রফি।

ফাইনাল ম্যাচে অবশ্য প্রথম সুযোগ পেয়েছিল ম্যানসিটি। ষষ্ঠ মিনিটে বার্নার্ডো সিলভার শট বাঁ পোস্ট দিয়ে মাঠের বাইরে যায়। পরের ২০ মিনিট ইন্টারের মুহুর্মুহু আক্রমণে ছন্দে থাকতে পারেনি ম্যানসিটি। তাদের আক্রমণভাগ ছিল অনেকটা নিষ্প্রভ।

মাঝে ইন্টারের অধিনায়ক ব্রোজোভিচ গোলের সুযোগ নষ্ট করেন বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে মেরে। ২৬ মিনিটে সিটিজেন গোলকিপার এডারসনের ভুলে বল পান বারেল্লা। তবে তার শট গোলবারের পাশ দিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

পরের মিনিটেই ম্যানসিটি পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করে। কেভিন ডি ব্রুইনার পাস থেকে আর্লিং হাল্যান্ডের বাঁ পায়ের শট কোনোমতে শরীর দিয়ে আটকান ইন্টার কিপার আন্দ্রে ওনানা।

ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে আকানজির বাঁ পায়ের শট গোলবারের ওপর দিয়ে গেলে গোল ছাড়াই প্রথমার্ধ শেষ করে ম্যানসিটি।

বিরতির পর ইন্টার পায় প্রথম সুযোগ। ৫৯ মিনিটে আকেনজি ব্যাকপাস দেন এডারসনকে। বল আগেভাগে দখলে নেন লাউতারো মার্তিনেজ। ম্যানসিটি গোলকিপারকে একা পেয়ে ডানপায়ের শট নেন। এডারসন দারুণ সেভে আর্জেন্টাইনকে হতাশ করেন। পরের মিনিটে ম্যানসিটির সুযোগ নষ্ট হয় দিয়াসের শট গোলবারের ওপর দিয়ে গেলে।

আচমকা গোলে ৬৮ মিনিটে লিড নেয় ম্যানসিটি। আকেনজির বাড়ানো বল ডানপ্রান্তে পেয়ে সিলভা এগিয়ে যান গোলমুখে। তার শটে বল ডারমিয়ানের গায়ে লেগে বক্সের মধ্যেই ছিল। রদ্রি দৌড়ে এসে জোরালো শটে ইন্টারের দুই ডিফেন্ডারের পাশ দিয়ে জাল কাঁপান। 

দুই মিনিট পর ইন্টার অবিশ্বাস্যভাবে গোল করতে ব্যর্থ হয়। ডুমফ্রাইসের হেড করে বল বিপদজনক জায়গায় পাঠান। ডিমারকো হেড করেন লক্ষ্যে, কিন্তু বল ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। আবারও ডিমারকো ফিরতি হেড করেন, কিন্তু সামনে থাকা সতীর্থ রোমেলু লুকাকোর পায়ে লাগে বল। 

তিন মিনিট পর লুকাকু ওই ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করার সুযোগ পেয়েছিলেন। তার ডানপায়ের নিচু শট দৃঢ়তার সঙ্গে ঠেকান এডারসন। ৭৮ মিনিটে ম্যানসিটি ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারতো। কিন্তু ফডেনের বাঁ পায়ের দুর্বল শট সহজে সেভ করেন ওনানা।  

ম্যাচ বাঁচিয়ে নায়ক হতে পারতেন লুকাকু। ৮৮ মিনিটে ছয় গজ দূর থেকে নেওয়া তার নিচু হেড এডারসনের হাঁটুতে লেগে হতাশ করে ইন্টারকে। ফিরে আসা বল বিপদমুক্ত করেন দিয়াজ। ঘাবড়ে গিয়েছিল পুরো ম্যানসিটি। মিনিটখানেক পর গোলপোস্টের পাশ দিয়ে বল মারেন বেলজিয়ান স্ট্রাইকার। ইনজুরি টাইমে গসেনসকে রুখে দিয়ে আবারও বীরত্ব দেখান এডারসন।

About

Popular Links