Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

যেসব কারণে বিশ্বকাপে যেতে পারল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ

প্রথম দুই আসরের চ্যাম্পিয়নদের ছাড়াই আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে ভারতের মাটিতে গড়াচ্ছে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৩, ০৬:৩৬ পিএম

আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রথম দুই আসরেই শিরোপা জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু প্রথম দুইবারের চ্যাম্পিয়নদের ছাড়াই আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে ভারতের মাটিতে গড়াবে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের ত্রয়োদশ আসর। আশির দশকে ক্রিকেটে প্রতিপক্ষের ওপর ছড়ি ঘোরানো ক্যারিবীয়রা যে এবার বাছাইপর্বের গণ্ডিই পেরোতে পারেনি।

ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষ আটে না থাকায় ৫০ ওভারের ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চে সরাসরি জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু বাছাইপর্বেও দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অবস্থা ছিল লেজেগোবরে। মূলপর্বে নাম লেখানোর দৌড়ে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে, নেদারল্যান্ডস ও স্কটল্যান্ডের কাছে হেরেছে ড্যারেন স্যামির শিষ্যরা।

কাগুজে সম্ভাবনায় বাছাইপর্বের ফেবারিট দলগুলোর একটি হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ মাঠের পারফরম্যান্স শুরু থেকেই ছিল গড়পরতা। গ্রুপপর্বে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সুপার ওভারে হেরেছে শাই হোপের নেতৃত্বাধীন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গ্রুপপর্বের দুই ম্যাচ থেকে কোনো পয়েন্ট না নিয়েই ব্যাকফুটে থেকে সুপার সিক্সে পা রাখে ক্যারিবীয়রা।

বিশ্বকাপের মূলপর্বে যেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে ছিল কঠিন সমীকরণ। বাছাইপর্বের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে সুপার সিক্স পর্বের তিনটি ম্যাচই ক্যারিবীয়দের জিততে হতো। এরপর তাকিয়ে থাকতে হতো অন্য দলগুলোর দিকে। কিন্তু শনিবার (১ জুলাই) হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে সুপার সিক্সের প্রথম ম্যাচেই স্কটল্যান্ডের কাছে ৭ উইকেটে হেরে বিশ্বকাপের টিকেট পাওয়ার দৌড় থেকে ছিটকে যায় উইন্ডিজ।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে সুপার সিক্সের ম্যাচে বোল্ড হচ্ছেন কাইল মায়ার্স/আইসিসি

ওয়েস্ট ইন্ডিজের এমন পরিণতি অপ্রত্যাশিত হলেও একেবারে হুট করেই ক্যারিবীয়দের এ অবনতি হয়নি। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার পর আইসিসির কোনো ৫০ ওভারের ইভেন্টেই ভালো কিছু করতে পারেনি উইন্ডিজ। ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ১০ দলের মধ্যে তাদের অবস্থান ছিল নবম। তার আগে ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিও খেলতে ব্যর্থ হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানেই ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এমন ভরাডুবির পেছনে ছিল নেপথ্য কিছু কারণ। চলুন তাহলে দেখে নিই সেগুলো-

ছন্নছাড়া ফিল্ডিং

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তিন ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফিল্ডাররা মোট ১০টি ক্যাচ ফসকেছেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ব্যক্তিগত ১ ও ৩  রানে সিকান্দার রাজার ক্যাচ ধরতে ব্যর্থ হয় ক্যারিবীয়রা। দুবার জীবন পেয়ে ৫৮ বলে ৬৮ রানের ইনিংসে খেলেছিলেন রাজা। একই ম্যাচে অর্ধশতক করা রায়ান বার্লের ক্যাচও তালুবন্দি করতে সমর্থ হয়নি উইন্ডিজ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফিল্ডিংয়ে একইরকম খাপছাড়া অবস্থা ছিল সুপার সিক্সের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও। ব্যক্তিগত ২১ রানে আকিল হোসেনের বলে ব্রেন্ডন ম্যাকমুলেনের ক্যাচ তালুবন্দি করতে পারেননি কাইল মায়ার্স। পরে সেই ম্যাকমুলেন করেন ৬৯ রান। তার আগে বল হাতেও নেন ৩ উইকেট। ম্যাকমুলেনের এ অলরাউন্ড নৈপুণ্যে প্রথমবারের মতো ক্যারিবীয়দের হারায় স্কটিশরা।

হতাশায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের এ বোলারের মাথা নোয়ানোই ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ক্যারিবীয়দের প্রতীকী চিত্র/টুইটার

চোটের থাবা আর ফিটনেসের অভাব

চোট আর অসুস্থতার কারণে বাছাইপর্বে সেরা দলটা পায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শামারা ব্রুকস অসুস্থতার কারণে বাছাইপর্বের প্রথম তিন ম্যাচে ছিলেন না। প্রথমবারের মতো তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামা জনসন চার্লস ও পরে দলে ফেরা ব্রুকস দুজনই নিজ নিজ ভূমিকায় ব্যর্থ হন। চোটের কারণে ক্যারিবীয়িরা একমাত্র লেগ স্পিনার ইয়ানিক ক্যারিয়াকে দলেই পায়নি।

অপর্যাপ্ত প্রস্তুতি

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্রস্তুতি হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবীয়দের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের স্কোয়াডে থাকা ৬ জনই সেই সিরিজে ছিলেন না। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের পর হোল্ডার, পাওয়েল, আকিল, আলজারি জোসেফদের বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল।

অর্থাৎ কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে দলের ড্যারেন স্যামি যোগ দেওয়ার পর তাদের সঙ্গে স্যামির প্রথম সাক্ষাৎ হয় বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের আগে। অর্থাৎ ক্রিকেটারদের সঙ্গে কোচ স্যামির রসায়নটা ঠিক জমে ওঠার সময়ই ছিল না। মাঠেও সেটিরই প্রতিফলন দেখা গেছে।

সেই হন্তারক সুপার ওভার

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে হাই স্কোরিং ম্যাচটি টাই হওয়ার পর সুপার ওভারে হেরেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মূল ম্যাচে ১৪ বলে ২৮ রান করে ম্যাচটিকে সুপার ওভারে নিয়ে গেছিলেন লোগান ভ্যান ভিক। ব্যাট হাতে তার অধিকাংশ রানই এসেছে হারারের তাকাসিঙ্গা ক্রিকেট মাঠের লেগ সাইডের ছোট বাউন্ডারি থেকে।

কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ সুপার ওভারে বোলিংয়ের জন্য মাঠের সেই প্রান্তই বেছে নেয়। সুযোগ পেয়ে ভ্যান ভিকও ফায়দা লুটতে ভুল করেননি। জেসন হোল্ডারের সেই সুপার ওভারের প্রথম দুই বলেই ফুলটস দেন। বাকি ওভারে লাইন লেংথ ঠিক রাখতে না পেরে প্রতি বলেই বাউন্ডারি হজম করে ৩০ রান করেন হোল্ডার। শেষে তো ক্যারিবীয়রা হেরেই গেল।

About

Popular Links