Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অ্যাশেজ মাঠের উত্তাপ ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীদের মধ্যেও

সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের শেষ ইনিংসে ইংলিশ ব্যাটার জনি বেয়ারস্টোর আউট নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কে যোগ দিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৩, ০৩:৩৮ পিএম

ঐতিহ্যবাহী অ্যাশেজ সিরিজকে ঘিরে ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘদিনের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা কারও অজানা নয়। পাঁচ টেস্টের সেই ছাইভষ্মের উত্তাপের আঁচ লেগেছে মাঠের বাইরেও। অ্যাশেজ নিয়ে যে এবার বাকযুদ্ধে জড়িয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানেসও।

দুই দেশের কথার লড়াইয়ের কেন্দ্রে লন্ডনে অ্যাশেজের দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে ইংল্যান্ডের জনি বেয়ারস্টোর আউট। ক্যামেরন গ্রিনের বাউন্সার ডাক করে ক্রিজ থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন বেয়ারস্টো। ইংলিশ ব্যাটার মনে করেছিলেন, বলটি ডেড হয়ে গেছে। বেয়ারস্টোকে ক্রিজ ছেড়ে বের হতে দেখেই আন্ডারআর্ম থ্রোয়ে উইকেট ভেঙে স্ট্যাম্পিং করেন অস্ট্রেলিয়ার উইকেটরক্ষক অ্যালেক্স ক্যারি।

শেষ পর্যন্ত এবারের অ্যাশেজের দ্বিতীয় টেস্টটি ৪৩ রানে হেরে সিরিজে ০-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। জনি বেয়ারস্টোর উইকেটকেই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট বলে মনে করেন অনেকে। ওই মুহূর্তে এ ইংলিশ ব্যাটার আউট না হলে ম্যাচের ফল অন্য রকম হলেও হতে পারতো বলে ধারণা অনেকের।

বেয়ারস্টোর সেই বিতর্কিত উইকেট নিয়ে বিতর্ক এখনও থামেনি। হারের পর বেয়ারস্টোর আউটকে ক্রিকেটীয় চেতনার পরিপন্থী উল্লেখ করে দ্বিতীয় ইনিংসে ২১৪ বলে ১৫৬ রান করা ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকস বলেছিলেন, তিনি এভাবে ম্যাচ জিততে চাইতেন না।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকও ইংল্যান্ড অধিনায়কের সঙ্গেই কণ্ঠ মেলালেন। সোমবার (৩ জুলাই) যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের মুখপাত্র সাংবাদিকদের বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বেন স্টোকসের সঙ্গে একমত, অস্ট্রেলিয়ানদের মতো এই কৌশলে তিনি ম্যাচ জিততে চাইতেন না।”

জনি বেয়ারস্টোর সেই বিতর্কিত আউট/সংগৃহীত

প্রথম দুই টেস্টে হেরে গেলেও পরের তিন ম্যাচে জিতে অ্যাশেজ জয়ের ব্যাপার আশাবাদী ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকস। ঋষি সুনাকও এখনই হাল ছাড়তে রাজি নন জানিয়ে তার মুখপাত্র বলেন, “এ ম্যাচটা বেন স্টোকসের সেরাটা দেখার সুযোগ দিয়েছিল, অবিশ্বাস্য একটা ম্যাচ ছিল। প্রধানমন্ত্রীর আত্মবিশ্বাস আছে ইংল্যান্ড দারুণভাবে প্রত্যাবর্তন করবে।”

বেয়ারস্টোর আউট নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল লর্ডসের লং রুমে। অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়েরা মধ্যাহ্নবিরতিতে মাঠ ছেড়ে লং রুম দিয়ে ড্রেসিংরুমে যাওয়ার সময় তাদের দুয়ো দিয়েছেন অনেকে। লং রুমে বসে সাধারণত এমসিসির সদস্যরাই খেলা দেখতে পারেন। এ কারণে এমসিসি তাদের তিন সদস্যকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে।

এমসিসির সিদ্ধান্তে সহমত পোষণ করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেন, “বাজে আচরণের জন্য দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েই এমসিসির তিনজনকে নিষিদ্ধ করা সঠিক সিদ্ধান্ত বলে তিনি মনে করেন।”

এদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দাগানো তোপের জবাবে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানেসও চুপ থাকেননি। যুক্তরাজ্য সফরে প্রথম দুটি ম্যাচেই সফল হওয়া পুরুষ ও নারী ক্রিকেট দলকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সরকারপ্রধান বলেন, “আমি আমাদের পুরুষ ও নারী ক্রিকেট দলকে নিয়ে গর্বিত, যারা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুটি অ্যাশেজ ম্যাচই জিতেছে। সেই পুরোনো অজি, যারা সবসময় জেতে। অস্ট্রেলিয়া সবসময়ই অ্যালিসা হিলি, প্যাট কামিন্স ও তাদের দলের পাশে আছে। বিজয়ীর বেশে তাদের স্বাগত জানাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছি।”

আগামী ৬ জুলাই হেডিংলিতে ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার পরবর্তী টেস্ট শুরু হবে। ঐতিহ্যবাহী অ্যাশেজের শেষ টেস্ট দুটি যথাক্রমে ১৯ জুলাই থেকে ম্যানচেস্টার এবং ২৭ জুলাই থেকে লন্ডনের কেনিংটন ওভালে গড়াবে।

About

Popular Links