Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কাতারে বালুময় তাঁবুতে ফুটবল ভক্তরা, নেই নিরাপত্তা-মদের দোকান

এই অস্থায়ী তাঁবুতে প্রতি রাতে ৪৫০ ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে ফুটবল ভক্তদের। এই অস্থায়ী শিবিরকে ‘উপভোগ্য ও বিলাসবহুল থাকার জন্য নিখুঁত গন্তব্য’ হিসাবে বিজ্ঞাপন দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০২:০৪ পিএম

কাতার ফুটবল বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট জমে উঠেছে। বড় দলের পরাজয়, গ্রুপপর্ব উৎরানো নিয়ে শঙ্কা, মাঠের উচ্ছ্বাস ও প্রিয় দল হারার কষ্ট ইতোমধ্যে সর্বত্র ঢেউ তৈরি করেছে। তবে মরুর দেশে গ্যালারিতে বসে ফুটবল উপভোগ করতে যাওয়া দর্শকেরা বেশ অস্বস্তিতে রয়েছেন।

পর্যাপ্ত আবাসন ব্যয় দিয়েও অনেককে থাকতে হচ্ছে বালুর ওপর টাঙানো তাঁবুতে। যারা তুলনামূলক নিজেদের সামর্থের মধ্যে দোহায় থাকতে চাচ্ছেন তাদের থাকতে হচ্ছে আল খরের একটি ধুলিময় গ্রামের তাঁবুতে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আশপাশে বিয়ারের কোনো ব্যবস্থা নেই এই এলাকায়।

কুয়েতের ২৭ বছর বয়স আর্কিটেকচারাল ইঞ্জিনিয়ার হায়দার হাজি বলেন, “আমি এখানে আছি কারণ আমি অন্যকোথাও জায়গা পাইনি। তাঁবুর গ্রাম অর্থাৎ এই ফ্যান ভিলেজ থেকে প্রতিদিন সকালে দোহায় যাওয়া কষ্টকর হলেও অন্যকোনো উপায় ছিল না। হোটেলগুলো খুব ব্যয়বহুল। এটা রীতিমতো পাগলামি।”

তবে আল খোর তাঁবুর গ্রামও অতোটা সস্তা নয়। হায়দার হাজির মতে, “তিনি এই অস্থায়ী আশ্রয়ের জন্য প্রতি রাতে ৪৫০ ডলার দিচ্ছেন। এই অস্থায়ী শিবিরকে কর্তৃপক্ষ ‘উপভোগ্য, বিলাসবহুল, থাকার জন্য নিখুঁত গন্তব্য' হিসাবে বিজ্ঞাপন দিয়েছে। তাঁবুগুলোতে সাধারণ আসবাবপত্র দিয়ে সাজানো। তবে সাইটটিতে একটি সুইমিং পুল এবং জাঁকজমকপূর্ণ আরবি রেস্তোরাঁ রয়েছে।”

কাতার বিশ্বকাপের আয়োজক জানার পরই ছোট দেশটি কীভাবে ১২ লাখ ফুটবল ভক্তের জন্য ঘর খুঁজে পাবে তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরে একটি প্রোগ্রামের মাধ্যমে নতুন হোটেল, ভাড়া করা অ্যাপার্টমেন্ট এবং এমনকি তিনটি বিশাল ক্রুজ জাহাজের মাধ্যমে কয়েক হাজার রুম দিতে পেরেছে কাতার।

আল খর গ্রামে থাকা অনেক ফুটবলপ্রেমী একলা হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ এনেছেন। অনেকেই বলেছেন, কোথাও কোনো মদের সন্ধান মেলেনি।

৪২ বছর বয়সি ইরানিয় তেলকর্মী পারিসা বলেন, “সত্যি বলতে, আপনি তেহরানে আরও বেশি মদের সন্ধান পেতে পারেন। ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি তার পদবি জানাতে অস্বীকার করেন।”

তাঁবুর পাশে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলছিলেন কীভাবে সময় কাটানো যাবে, সে সম্পর্কে তার ধারণা কম। দোহার বিলাসবহুল হোটেলের পানশালাগুলো অনেকটাই দূরে। তার কথায়, “আমরা ভেবেছিলাম, বিদেশিদের মজা করার জন্য এগুলো বেশি করে খোলা হবে।”

দক্ষিণ মেক্সিকোর তাবাসকোর পাওলা বার্নাল মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম বিশ্বকাপ থেকে কী আশা করবেন তা নিশ্চিত ছিলেন না। তবে তিনি বলেন, “যে বিশ্বের ক্ষুদ্রতম আয়োজক দেশ গোটাটা ঘুরতে কত সময় লাগে তা দেখে তিনি অবাক হয়েছেন। তাঁবুর আশপাশের এলাকায় অর্থাৎ ক্যাম্পসাইটে বাসের পরিস্থিতি বিরক্তিকর। রাত ১০টায় বাস বন্ধ হয়ে যায়। উবারে বড় অঙ্কের বিল ওঠে।”

তার কথায়, “এত দীর্ঘ দূরত্ব, আমি জানি না কীভাবে এত ছোট দেশে এমনটা হয়। যদিও কিছু স্টেডিয়াম দোহার ঝলমলে নতুন মেট্রো নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত। তবে প্রায়ই স্টেশন থেকে আড়াই কিলোমিটারের মতো হাঁটার প্রয়োজন হয়। স্টেডিয়ামের গেট থেকে কয়েকটা ড্রপ-অফ পয়েন্টে হেঁটে শুধুমাত্র বাসে পৌঁছানো যায়। পছন্দের পানশালা এবং রেস্তোরাঁ তো আরো অনেক দূরে।”

সাইট ডিজাইনার নাথান থমাসের একমাত্র প্রধান উদ্বেগ নিরাপত্তা। কারণ সেখানে কোনো রক্ষি নেই। তাঁবুতে কোনো তালা নেই। সহজেই ফ্ল্যাপ খুলে ফেলা যায়। তিনি বলেন, “এদিকে জনগণকে বলা হচ্ছে, এটি নিরাপদ দেশ, চিন্তা করবেন না।”

টুর্নামেন্টের মাত্র কয়েকদিন আগে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শৌচাগারের ছবি ছড়িয়েছিল। এদিকে টুর্নামেন্ট শুরু হলেও এগুলো এখনো বসানো হয়নি। তারগুলো এখনো জল এবং বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য কুণ্ডলি পাকিয়ে রয়েছে। তারে ময়লাও জমেছে। অনেককে চেক ইন করতে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

বুধবার রাতে লাইনে অপেক্ষারত অতিথিদের ভিড়ের সবাই জানিয়েছেন, তারা ঘর পাননি কারণ অভ্যর্থনা ডেস্ক নিশ্চিত ছিল না কে চেক আউট করেছে। মরক্কো থেকে আসা মুমান অ্যালানি বলেন, “আমরা প্রাণশক্তি চাই। অন্য ফুটবলপ্রেমীদের চাই। এটি খুব অসংগঠিত।”

তাঁবুতে থাকা এক ফুটবলপ্রেমী টুইটারে এই সাইটটিকে “ফায়ার ফেস্টিভ্যাল ২.০” হিসাবে উল্লেখ করেছেন। ফায়ার ফেস্টিভ্যাল ২.0 একটি কুখ্যাত সংগীত উৎসব, যেই জাঁকজমকপূর্ণ উৎসবে অনুরাগীরা অন্ধকার সমুদ্রসৈকতে অস্থায়ী আশ্রয় নিয়ে বাধ্য হয়েছিলেন।

About

Popular Links