Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গুরুগ্রাহ্য স্কলারির জন্মদিন

অজস্র সাফল্যের মধ্যে বিগ ফিলের সেরা কীর্তি বলা যায় ব্রাজিলের হয়ে ২০০২ সালের বিশ্বকাপ জেতা। ২০১৩ সালে তার অধীনে ব্রাজিল জেতে কনফেডারেশন কাপ। স্কলারির কোচিংয়ে পর্তুগাল ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠে ২০০৪ সালে

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২১, ০৫:৩৭ পিএম

ফুটবল দুনিয়ায় তিনি এক পরশপাথর। হাত দিলেই সাফল্য ধরা দেয়। ম্যাচ জেতার শুধু তিন পয়েন্টই তার কাম্য নয়। মাঠে চান শৈল্পিক ফুটবল। সাইড লাইনে দাঁড়িয়ে টিমকে বিরামহীন নির্দেশনা দেয়া এ কোচের নাম লুইজ ফিলিপে স্কলারি। ‘‘বিগ ফিল’’ নামে বেশি পরিচিত ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা এ অনন্য ফুটবল গুরু।

 ১৯৪৮ সালের আজকের এই দিনে ব্রাজিলের পাসো ফুন্দো মিউনিসিপ্যালিটিতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

শুভ জন্মদিন, স্কলারি!

স্কলারি বাবা বেনজামিনের পথেই হেঁটেছেন। তিনি ছিলেন পেশাদার ফুটবলার। ব্রাজিলের ঘরোয়া লিগে খেলে ফুটবল যাত্রা। ডিফেন্ডার পজিশনে খেলতেন। দুর্ভেদ্য অনমনীয় দৃঢ়তার জন্য খেলোয়ার স্কলারিকে ডাকা হতো ‘‘কাঠের পা’’ নামে। খেলোয়াড়ি জীবনের সমাপ্তি টানেন ১৯৮২ সালে। প্রথম কোচের দায়িত্ব পান ব্রাজিলের ঘরোয়া ক্লাব সেন্টেরো স্পোরটিভো আলাগোয়ানোর। এরপর থেকে উত্থানপর্ব শুরু ম্যানেজার স্কলারির। ১৯৮৭ সালে গ্রেমিও’কে শিরোপা জেতান ব্রাজিলের ঘরোয়া ফুটবল আসরে। সে সাফল্য থামেনি এখনও।

আজ ৭৩ বছর বয়সে পা রাখা স্কলারিকে বলা যায় ফুটবলের বিশ্ব নাগরিক। ক্লাব ফুটবল আর ন্যাশনাল টিমের দায়িত্ব নিয়ে ঘুরেছেন ভুবন। জন্মভূমি ব্রাজিল তো আছেই; বিগ ফিল ম্যানেজার ছিলেন চীনা ক্লাবের। জাতীয় দলের কোচও ছিলেন। কোচিং করিয়েছেন উজবেকিস্তান লিগের ক্লাবকেও। ম্যানজার হিসেবে বছরে পরিমাণ ১৩ মিলিয়ন ইউরো আয় করে রেকর্ড গড়েছেন এ সময়। কর্মরত ছিলেন কুয়েতে। ইংল্যান্ডে তো বেশ আলোচিত হয়েছেন চেলসির ম্যানেজার হয়ে।

স্কলারির রক্তে আছে ইতালিয় ধারা। তার পূর্বপুরুষ এসেছেন সে জনপদ থেকে। ব্রাজিলের পাশাপাশি ইতালিরও নাগরিক তিনি। ইংলিশ লিগে নটিংহ্যাম্পশায়ারের ফ্যান ক্যাথলিক ধর্মে আস্থাশীল  এই ব্যক্তি।

অজস্র সাফল্যের মধ্যে বিগ ফিলের সেরা কীর্তি বলা যায় ব্রাজিলের হয়ে ২০০২ সালের বিশ্বকাপ জেতা। ২০১৩ সালে তার অধীনে ব্রাজিল জেতে কনফেডারেশন কাপ। স্কলারির কোচিংয়ে পর্তুগাল ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠে ২০০৪ সালে।

ফুটবলে একাত্ম স্কলারি সাইড লাইনে কখনো স্থির থাকেন না। ম্যাচকালে অনবরত দিয়ে যান ইন্সট্রাকশন। কখনো কখনো মেজাজও হারান এ কর্মে। শৈল্পিক ফুটবল খেলে ম্যাচ জেতার মন্ত্র তিনি হৃদয়ে ধারণ করেন। স্ট্র্যাটিজি মাস্টার বিগ ফিল পাত্তা দেন না তারকা খেলোয়ারদের। তাঁর টিম সিলেকশনে বাদ পড়েছেন ব্রাজিলিয়ান নক্ষত্র রোমারিও ও পর্তুগালে লুইস ফিগো।

স্কলারি সাইডলাইনে থাকা মানে ম্যাচ অন্যরকম। জেতার অস্থির সক্রিয়তায় তিনি ব্যাকুল। এই ব্যাকুলতা নিয়েই বিগ ফিল দীর্ঘজীবী হোন এমন প্রার্থনা রইল এই দিনে।


হাসান শাওন, ফ্রিল্যান্স লেখক ও সাংবাদিক

[email protected]



About

Popular Links