Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ওয়ানডেতে প্রথমবারের মতো মেয়েদের ভারত বধ

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ভারতের মেয়েদের ৪০ রানে পরাজিত করেছে বাঘিনীরা

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৩, ০৬:৪৮ পিএম

শেষ ম্যাচটা জিতলেও ভারতের কাছে ঘরের মাঠের টি-টোয়েন্টি সিরিজটা ১-২ ব্যবধানে বাংলাদেশকে খোয়াতে হয়েছে। তবে ওয়ানডে সিরিজটা বাংলাদেশ জয় দিয়েই শুরু করেছে। তিন ম্যাচ সিরিজের বৃষ্টি বিঘ্নতায় ৪৪ ওভারে নেমে আসা প্রথম ওয়ানডেতে ভারতের মেয়েদের ৪০ রানে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ।

রবিবার (১৬ জুলাই) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ১৫২ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশের মেয়েরা। জবাবে বাংলাদেশের বোলিং বিষে নীল হয়ে ভারতের ইনিংস থামে ১১৩ রানে। ফলে ভারতের মেয়েদের বিপক্ষে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো জয়ের স্বাদ পায় বাঘিনীরা।

সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নামে বাংলাদেশ। শুরুতেই দুই ওপনোর মোর্শেদা খাতুন (১৩) ও  শামিমা আক্তার সুপ্তাকে (০) হারিয়ে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। তবে তৃতীয় উইকেটে ৪৯ রানের জুটি গড়ে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেন নিগার সুলতানা জ্যোতি ও ফারজানা হক।

দারুণ খেলতে থাকা ফারজানা হক ২৭ রানে আউট হলে দারুণ এ জুটি ভেঙে যায়। এরপর এক প্রান্ত আগলে নিগার দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন। ইনিংসের ৩১তম ওভারে দলের স্কোর ১০০ ছাড়ানোর পর আউট হয়ে যান ৬৪ বলে তিন বাউন্ডারিতে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করা নিগার।

মিডল অর্ডারে পেট ব্যাথার কারণে ব্যাট হাতে স্বপ্না আক্তারের মাঠে না থাকা বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কাই ছিল বটে। তবে শেষদিকে রাবেয়া খান (১০), ফাহিমা খাতুন (১২) ও সুলতানা খাতুনের (১৬) ওপর ভর করে ১৫২ রানের পুঁজি পায় বাঘিনীরা। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে অভিষিক্ত আমানজোত কৌর সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নিয়েছেন। পাশাপাশি দেবিকা বৈদ্য নেন দুটি উইকেট।

১৫৩ রানের ছোট জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বাংলাদশের বোলিং তোপের সামনে নতজানু ছিল ভারত। ইনিংসের তৃতীয় ওভারের ভারতীয় বিস্ফোরক ব্যাটার স্মৃতি মান্ধানাকে (১১) ফিরিয়ে দারুণ কিছু ইঙ্গিত দেন মারুফা আক্তার। স্কোরবোর্ডে আরও ১৭ রান যোগ হওয়ার পর এ পেসারের দ্বিতীয় শিকার হন আরেক ওপেনার প্রিয় পুনিয়া (১০)।

এরপর নাহিদা আক্তারের ঘূর্ণিতে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ভারতীয় অধিনায়ক হারমনপ্রীত কৌর (৫)। পাওয়ারপ্লে শেষের আগেই তিন উইকেট হারিয়ে ভারত তখন রীতিমতো কোণঠাসা। সফরকারীদের আসা যাওয়ার মিছিলে এক প্রান্ত আগলে রাখলেও যস্তিকা ভাটিয়া বেশি দূর এগোতে পারেননি। ২৪ বলে ১৫ রান করার পর রাবেয়া খানের বলে বোল্ড হন তিনি।

ভারতের পঞ্চম উইকেটটিও আসে রাবেয়ার মাধ্যমেই। তার বলে মুর্শিদার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন জেমিমাহ রুদ্রিগেজ (১০)। দলীয় ৬১ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ভারত তখন চরম বিপর্যয়ে। এরপর অভিষিক্ত আমানজোত কৌরকে সঙ্গে নিয়ে ৬ষ্ঠ উইকেটে ৩০ রানের জুটি গড়ে ভারতের আশার পালে হাওয়া লাগান অলরাউন্ডার দিপ্তী শর্মা।

কিন্তু মারুফা টানা দুই বলে আমানজোত (১৫) ও স্নেহা রানার (০) উইকেট তুলে নিলে বাংলাদেশের জয় তখন সময়ের ব্যাপার হয়ে যায়। পরের ওভারে ভারতের শেষ ভরসা দীপ্তি নাহিদার শিকার হলে বাঘিনীদের জয় নিয়ে আর কোনো সন্দেহ থাকে না। আউট হওয়ার আগে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪০ বলে ২০ রান আসে দীপ্তির ব্যাট থেকে।

ভারতের লোয়ার অর্ডারের ব্যাটাররা চেষ্টা করলেও সেটা কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ৩৫.৫ ওভারে ১১৩ রানে গুটিয়ে যায় প্রতিবেশীরা। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন মারুফা। ৭ ওভারে ২৪ রানের বিনিময়ে এই পেসার ৪ উইকেট নেন। লেগ স্পিনার রাবেয়া খাতুন ২৩ রানের খরচায় নেন তিনটি উইকেট। এছাড়া, নাহিদা আক্তার ও সুলতানা খাতুন একটি করে উইকেট শিকার করেন।

About

Popular Links