Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ভারতের যে ১০ স্টেডিয়ামে হবে ওডিআই বিশ্বকাপের ১৩তম আসর

আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম এবং লাখনৌয়ের ইকানা স্টেডিয়ামের মতো নতুন সংযোজনগুলো দর্শকদের বেশ নজর কাড়বে

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৩, ০২:৩৫ পিএম

শুরু হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত আইসিসি বিশ্বকাপ ২০২৩-এর ১৩তম আসর। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) আয়োজিত এক দিনের আন্তর্জাতিক (ওডিআই) ক্রিকেট টুর্নামেন্টটির পর্দা উঠতে যাচ্ছে আগামী ৫ অক্টোবর, চলবে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত। গতবারের মতো এবারও ক্রিকেট যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে চলেছে ১০টি দেশ।

এবারই প্রথমবারের মতো এককভাবে পুরো বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে ভারত। দেশটির ১০টি ভিন্ন শহরের ১০টি স্টেডিয়ামে সব মিলিয়ে মোট ৪৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। আহমেদাবাদ, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, দিল্লি, ধর্মশালা, হায়দ্রাবাদ, কলকাতা, লাখনৌ, মুম্বাই এবং পুনের স্টেডিয়ামগুলো এখন প্রস্তুতির চূড়ান্ত মূহুর্তে।

নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম, আহমেদাবাদ

ভারতের গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদের সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল স্পোর্টস কমপ্লেক্সে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামটি পূর্বে পরিচিত ছিল মোটেরা স্টেডিয়াম নামে। এটি বিশ্বের বৃহত্তম স্টেডিয়াম, যেখানে ১ লাখ ৩২ হাজার দর্শকের বসার ক্ষমতা রয়েছে। স্টেডিয়ামটি গুজরাট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের মালিকানাধীন। ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি এর নাম পরিবর্তন করে ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামানুসারে নামকরণ করা হয়।

স্টেডিয়ামটি নির্মিত হয়েছিল ১৯৮৩ সালে। প্রথম সংস্কার হয় ২০০৬ সালে। নতুন নকশায় স্টেডিয়ামটির জায়গা ৬৩ একর। এখানে প্রবেশপথ রয়েছে তিনটি। যেগুলোর একটির সঙ্গে একটি মেট্রো লাইন সংযুক্ত। স্টেডিয়ামের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো ক্রিকেট মাঠে সাধারণ ফ্লাডলাইটের পরিবর্তে ছাদে এলইডি লাইট। ছাদটির নকশা করা হয়েছে বিশেষভাবে হালকা এবং বসার সারি থেকে আলাদা করে। যাতে এটি মোটামুটি ভূমিকম্প-প্রতিরোধী হয়। কাঠামোতে কোনো স্তম্ভ না থাকায় স্টেডিয়ামের যেকোনো স্থান থেকে দর্শকদের পুরো মাঠ দেখতে কোনো সমস্যা হয় না।

আইসিসি বিশ্বকাপ ২০২৩ আসরের ফাইনাল ম্যাচসহ মোট পাঁচটি খেলা এখানে অনুষ্ঠিত হবে।

এম. এ. চিদাম্বারাম স্টেডিয়াম, চেন্নাই

মুথিয়া আন্নামালাই বা এম. এ. চিদাম্বারাম স্টেডিয়াম ভারতের চেন্নাইয়ের তামিলনাড়ুতে অবস্থিত। যার আরেক নাম চেপাউক স্টেডিয়াম। বঙ্গোপসাগরের ধারে মেরিনা বিচ থেকে কয়েকশ মিটার দূরে চেপাউকে এর অবস্থান। স্টেডিয়ামের উত্তরের গা ঘেঁষে চলে গেছে ব্যাকিংহাম খাল।

১৯১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত স্টেডিয়ামটি সর্বপ্রথম পরিচিত ছিল মাদ্রাজ ক্রিকেট ক্লাব গ্রাউন্ড নামে। পরবর্তীতে এটি মুথিয়া আন্নামালাই চিদাম্বারাম চেত্তিয়ার নামে নামকরণ করা হয়। তিনি ছিলেন বিসিসিআই-এর প্রাক্তন সভাপতি এবং তামিলনাড়ু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (টিএনসিএ) প্রধান। এই স্টেডিয়াম তামিলনাড়ু ক্রিকেট দল এবং আইপিএল দল চেন্নাই সুপার কিংসের হোম গ্রাউন্ড।

এর ব্যাপক সংস্কার ঘটে ২০১১ সালে। প্রথমে এর স্তম্ভসহ পুরনো ছাদ পুরনো স্টেডিয়ামের দৃশ্যকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। সংস্কারের পর তা তারের দ্বারা একত্রে রাখা হালকা চতুর্ভুজ শঙ্কাযুক্ত ছাদ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। ফলে পুরো স্টেডিয়াম দেখতে এখন আর কোনো বাধা নেই।

স্টেডিয়ামে বর্তমানে ৫০ হাজার দর্শক বসতে পারে। এই ভেন্যুতে এবারের বিশ্বকাপের মোট পাঁচটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

ইডেন গার্ডেন, কলকাতা

“ক্রিকেটের কলোসিয়াম” “ভারতীয় ক্রিকেটের আতুর ঘর”, অথবা “ভারতীয় ক্রিকেটের মক্কা”। এ সবগুলো বিশেষণেই ব্যাপকভাবে স্বীকৃত পশ্চিমবঙ্গের এই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামটি। ভারতের প্রাচীনতম এই ক্রিকেট ভেন্যুটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৬৪ সালে। গোটা ভারতে দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং সারা বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম এই ক্রিকেট স্টেডিয়ামটির বর্তমান ধারণক্ষমতা ৬৬ হাজার দর্শক।

ইডেন গার্ডেন ওডিআই বিশ্বকাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং এশিয়া কাপসহ বড় বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ম্যাচ আয়োজন করেছে। এছাড়াও স্টেডিয়ামটি বেঙ্গল ক্রিকেট দল এবং কলকাতা নাইট রাইডার্স ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ফ্র্যাঞ্চাইজি হোস্ট করে।

ইডেন গার্ডেন তার বিশাল এবং উৎসুক দর্শকদের ভিড়ের জন্য বিখ্যাত। ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা সেমিফাইনালে ১ লাখ ১০ হাজার ৫৬৪ জন দর্শকের ভিড়ের রেকর্ড গড়ে। ২০১৬ সাল থেকে খেলার শুরুতে স্টেডিয়ামে একটি ঘণ্টা বাজানোর প্রথা চালু হয়।

এবারের টুর্নামেন্টে সেমিফাইনালসহ মোট পাঁচটি ম্যাচের জন্য নির্ধারিত হয়েছে ইডেন গার্ডেন।

অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম, দিল্লি

কলকাতার ইডেন গার্ডেনের পর ভারতের দ্বিতীয় প্রাচীনতম ক্রিকেট ভেন্যু দিল্লির এই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম। দিল্লি ও জেলা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (ডিডিসিএ) মালিকানায় পরিচালিত এই স্টেডিয়ামটির অবস্থান নয়া দিল্লির বাহাদুর শাহ জাফর মার্গ-এ। ১৮৮৩ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়াম নামে, যার নামকরণ হয়েছিল নিকটবর্তী দুর্গ কোটলার নামে। ২০১৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর প্রাক্তন ডিডিসিএ সভাপতি ও অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির নামানুসারে স্টেডিয়ামটির নামকরণ করা হয়। বর্তমানে স্টেডিয়ামটির দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৪১,৮৪২।

২০১৭ সাল পর্যন্ত ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দল এই মাঠে টেস্ট ম্যাচে ২৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে এবং ওয়ানডে ম্যাচে ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অপরাজিত ছিল। তবে ২০০৯ সালে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে একটি ওডিআই ম্যাচটি বাতিল হয়েছিল পিচের প্রতিকূল অবস্থার কারণে। এছাড়া ২০১৭-১৮ সালে ভারতে শ্রীলঙ্কার তৃতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনের ম্যাচটি বাতিল হওয়ার পেছনে কারণ ছিল এলাকার বৈরী পরিবেশ। সে সময় ধোঁয়াশার ফলে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের খেলা বন্ধ করে দূষণ বিরোধী মুখোশ পরতে হয়েছিল। ক্রিকেট ইতিহাসে এই বিরল দৃষ্টান্তের ফলে ভেন্যুটির নামের সঙ্গে কুখ্যাতি জড়িয়ে পড়ে।

এবারের বিশ্বকাপের মোট পাঁচটি খেলার জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে এই মাঠটি।

এম. চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম, ব্যাঙ্গালুরু

কর্ণাটক সরকারের উদার পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯৬৯ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় মঙ্গলম বা এম. চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের। এটি আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের হোম গ্রাউন্ড। পাঁচ দশকেরও বেশি পুরনো এই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামটির অবস্থান ভারতের কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে। মনোরম কাবন পার্ক, কুইন্স রোড, কুবন এবং আপটাউন এমজি রোডকে পাশে নিয়ে শহরের একদম কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ক্রিকেট ভেন্যুটি। এটির দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৪০ হাজার। ওডিআই, আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টির পাশাপাশি এখানে নিয়মিত আয়োজন চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও।

পূর্বে স্টেডিয়ামটি কর্ণাটক স্টেট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়াম নামে পরিচিত ছিল। পরে মঙ্গলম চিন্নাস্বামী মুদালিয়ারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এর নতুন নামকরণ করা হয়। মান্ডিয়ার মানুষ চিন্নাস্বামী পেশায় ছিলেন একজন আইনজীবী। এছাড়া তিনি ১৯৭৭ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত বিসিসিআই-এর সভাপতি ছিলেন।

চিন্নাস্বামী বিশ্বের প্রথম ক্রিকেট স্টেডিয়াম, যেখানে সোলার প্যানেল ব্যবহার করা হয়। প্যানেলগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিলো কর্ণাটক স্টেট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (কেএসসিএ) “গো গ্রিন” উদ্যোগের মাধ্যমে।

আইসিসি বিশ্বকাপ ২০২৩-এর মোট পাঁচটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে এই মাঠে।

এইচপিসিএ স্টেডিয়াম, ধর্মশালা

হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়াম, সংক্ষেপে এইচপিসিএ স্টেডিয়ামের অবস্থান ভারতের হিমাচল প্রদেশের কাংড়া জেলার ধর্মশালা শহরে। এইপিসিএর মালিকানায় স্টেডিয়ামটির প্রতিষ্ঠা হয় ২০০৩ সালে। ধর্মশালা শহরটি আন্তর্জাতিকভাবে তিব্বতি বৌদ্ধ ধর্মের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার বাড়ি হিসেবে সুপরিচিত। তাই এই মনোরম ক্রিকেট ভেন্যুটি পর্যটকদের জন্যও পছন্দের জায়গা।

বিশ্বের অন্যতম সুন্দর এই ক্রিকেট মাঠটির দর্শক ধারণ ক্ষমতা ২৩ হাজার। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১,৪৫৭ মিটার উচ্চতায় ডিম্বাকৃতির জায়গাটিকে ঘিরে আছে তুষারাবৃত হিমালয় পর্বত।

ভেন্যুটি বিশেষত আইপিএল ম্যাচের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। উচ্চতার কারণে ব্যাটসম্যানদের বড় বড় ছক্কা মারার জন্য এর বেশ সুখ্যাতিও আছে। তবে পার্বত্য অঞ্চল এবং কনকনে শীত খেলার জন্য প্রতিকূলতা সৃষ্টি করে। বিশেষ করে বৃষ্টি এবং তুষারপাতের সময়গুলোতে প্রায়ই ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়।

এবারের বিশ্বকাপে এই ভেন্যুটি মোট পাঁচটি ম্যাচের জন্য নির্ধারিত হয়েছে।

রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, হায়দ্রাবাদ

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দ্রাবাদের এই ক্রিকেট স্টেডিয়ামটি হায়দ্রাবাদ ক্রিকেট স্টেডিয়াম নামেও পরিচিত। উৎপলের পূর্ব উপশহরে ১৫ একর জমি জুড়ে বিস্তৃত এই স্টেডিয়ামে সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার জন দর্শক বসতে পারে। এটি হায়দ্রাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (এইচসিএ) এবং আইপিএল দল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হোম গ্রাউন্ড। ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামটির নামকরণ করা হয় ভারতের জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর নামে।

২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর বাংলাদেশ এই ভেন্যুতে তাদের প্রথম টেস্ট খেলে। সমতল ট্র্যাকের উইকেটের এই মাঠ ব্যাটসম্যান-বান্ধব এবং উচ্চ-স্কোরিং পিচ হিসাবে বিখ্যাত। এর প্যাভিলিয়ন প্রান্ত এবং উত্তর প্রান্ত নামে দু'টি প্রধান সীমানা রয়েছে। কিংবদন্তির তারকা ব্যাটসম্যান ভিভিএস লক্ষ্মণের অবসরের পর, এইচসিএ তার নামে উত্তর প্রান্তের নামকরণ করে। আর প্যাভিলিয়ন প্রান্তের নামকরণ করা হয়েছে শিব লাল যাদবের নামানুসারে।

এবারই প্রথম এই মাঠটি আইসিসি বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন করবে। মোট তিনটি ম্যাচ নির্দিষ্ট করা হয়েছে এই মাঠে খেলার জন্য।

ওয়াংখেড় স্টেডিয়াম, মুম্বাই

মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের মালিকানায় পরিচালিত এই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামটি আইপিএলের মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হোম গ্রাউন্ড। মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন ছাড়াও এখানে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) এবং আইপিএলের সদর দপ্তর রয়েছে। চার্চগেট পাড়ার মেরিন ড্রাইভের কাছে অবস্থিত এই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছিল শচীন টেন্ডুলকারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি।

পুরো মাঠটি স্থানীয় লাল মাটিতে পরিপূর্ণ, যার ফলে এর বাউন্সিং পিচ হিসেবে খ্যাতি আছে। অতিরিক্ত বাউন্স ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ সুবিধাজনক হওয়ায়, বছরের পর বছর ধরে পিচটি বোলারদের চেয়ে ব্যাটসম্যানদের কাছে বেশি পছন্দের। অবশ্য স্টেডিয়াম বরাবর সামুদ্রিক হাওয়া প্রবাহের কারণে পেস বোলাররা এখানে কিছুটা সুবিধা পান।

স্টেডিয়ামের অন্যতম আকর্ষণ হলো সামনের দিকে প্রসারিত ছায়াদানকারি দীর্ঘ ছাদ। টেফলন ফ্যাব্রিকের ছাদ ওজনে তুলনামূলক হালকা এবং তাপ প্রতিরোধী। ছাদের জন্য কোনো বীম সাপোর্ট নেই। ফলে দর্শকদের খেলা দেখায় কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় না। এছাড়া রয়েছে এক্সস্ট ফ্যানের ব্যবস্থা, যেগুলো গরম বাতাস শুষে নেয় এবং পশ্চিমের বাতাসকে ভেতরে আসতে দেয়।

স্টেডিয়ামটির দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৩২,০০০। এবারের টুর্নামেন্টে এখানে সেমিফাইনালসহ মোট পাঁচটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

বিআরএসএবিভি ইকানা ক্রিকেট স্টেডিয়াম, লাখনৌ

বিআরএসএবিভি বা ভারতরত্ন শ্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী ইকানা ক্রিকেট স্টেডিয়াম সাধারণত ইকানা ক্রিকেট স্টেডিয়াম নামেই সর্বাধিক পরিচিত। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের তত্ত্বাবধানে ২০১২-২০১৭ বছর রাজ্য সরকারের মেয়াদে ইকানা স্পোর্টজ সিটি এবং লাখনৌ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি পাবলিক-প্রাইভেট অংশীদারিত্ব হয়। এই চুক্তির অধীনেই নির্মিত হয় লাখনৌ-এর স্টেডিয়ামটি। প্রথমে “ইকানা ক্রিকেট স্টেডিয়াম” নামটাই ঠিক করা হয়েছিল। পরে ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর নামে এর নামকরণ করা হয়।

২০১৭ সালে খেলার জন্য উন্মুক্ত করা হলেও প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় ২০১৮ সালে। সে বছর ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় ভারত এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে আন্তর্জাতিক টি২০ ম্যাচ। এর মাধ্যমে স্টেডিয়ামটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজন করা ৫২তম ভারতীয় স্টেডিয়াম হওয়ার মর্যাদা লাভ করে।

ভারতের এই পঞ্চম বৃহত্তম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামটিতে ৫০ হাজার দর্শকের বসার ক্ষমতা রয়েছে। ভারতের অন্যান্য স্টেডিয়ামগুলোর তুলনায় এই স্টেডিয়ামটির সবচেয়ে দীর্ঘ সীমানা। ভেন্যুটি উত্তরপ্রদেশ ক্রিকেট দল এবং আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি লাখনৌ সুপার জায়ান্টসের হোম ভেন্যু।

এবারের বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামটি মোট পাঁচটি ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করবে।

মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়াম, পুনে

মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (এমসিএ) মালিকানায় পরিচালিত এই স্টেডিয়ামটি ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনেতে অবস্থিত। শহরের সীমানার উপকণ্ঠে গাহুঞ্জে গ্রামে পুনে-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়ের ঠিক পাশেই স্টেডিয়ামটির অবস্থান। ২০১২ সালে আনুষ্ঠানিক উন্মোচনের পর প্রথম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচটি খেলা হয়েছিল ২০১২ সালের ডিসেম্বরে ভারত এবং ইংল্যান্ডের মধ্যে।

স্টেডিয়ামটি নকশা করেছেন ব্রিটিশ স্থপতি স্যার মাইকেল হপকিন্স। ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটনের লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডের মাউন্ট স্ট্যান্ড এবং এজেস বোল স্টেডিয়ামের নকশার জন্য তার জগত জোড়া খ্যাতি রয়েছে।

এই স্টেডিয়ামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। এর বালি-ভিত্তিক আউটফিল্ড উন্নত প্রযুক্তির কারণে অতি ভারী বর্ষণেও, আউটফিল্ডের পানি দ্রুত বেরিয়ে যায়। ফলে মাঠ কয়েক মিনিটের মধ্যে আবার খেলার জন্য উপযোগী হয়ে যায়।

এই মাঠের দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৩৭,৪০৬ জন। এবারের ক্রিকেট বিশ্বকাপের মোট পাঁচটি খেলার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে এই স্টেডিয়ামটি।

আইসিসি বিশ্বকাপ ২০২৩-এর ভেন্যুগুলো আপগ্রেড করার জন্য ইতোমধ্যেই তহবিল দেওয়া হয়েছে আয়োজক সংস্থাগুলোকে। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম এবং লাখনৌয়ের ইকানা স্টেডিয়ামের মতো নতুন সংযোজনগুলো দর্শকদের বেশ নজর কাড়বে। তবে পিছিয়ে থাকবে না দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম ও কলকাতার ইডেন গার্ডেনের মতো পুরনোগুলোও। প্রস্তুতি ম্যাচগুলোর ভেন্যু ঠিক করা হয়েছে হায়দ্রাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, গোয়াহাটির আসাম ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়াম এবং তিরুবানান্তপুরামের গ্রিনফিল্ড আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে।

About

Popular Links