Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মেজর লিগ সকারের যত খুঁটিনাটি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সারির এ প্রতিযোগিতার ফরম্যাট অধিকাংশ ঘরোয়া লিগের চেয়ে আলাদা

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৩, ০৫:০১ এএম

জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মিয়ামির সঙ্গে আড়াই বছরের আনুষ্ঠানিক চুক্তি করেন লিওনেল মেসি। চুক্তির মেয়াদ ২০২৫ সাল পর্যন্ত হলেও মেসির সামনে সেটি ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

গত ১৬ জুলাই ঘরের মাঠ ডিআরভি পিএনকে (ড্রাইভ পিংক) স্টেডিয়ামে মেসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের খেলোয়াড় হিসেবে উপস্থাপন করে ইন্টার মিয়ামি। ঝড়, বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে সেই আয়োজন নির্ধারিত সময় থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা পিছিয়ে যায়। ফ্লোরিডার চিরচেনা গ্রীষ্মকালীন দৃশ্যের কারণে মেসিকে বরণ করতে দেরি হলেও আয়োজনে ভাটা পড়েনি।

মেসিকে বরণ করে নিতে ইন্টার মিয়ামির ঘরের মাঠ ছিল কানায় কানায় পরিপূর্ণ। ২০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার ফোর্ট লডারডেলে অবস্থিত ডিআরভি পিএনকে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে খালি ছিল না তিল ধারণের জায়গাও। কারণ আগেভাগেই সাতবারের ব্যালন ডি অর জয়ী ফুটবলারের পরিচিতি পর্বের অনুষ্ঠানে দর্শকদের জন্য ছাড়া ২০ হাজার টিকেট বিক্রি হয়ে যায়।

ইতোমধ্যে ইন্টার মিয়ামির জার্সিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে মেসির অভিষেক হয়েছে। গত ২১ জুলাই লিগস কাপের ম্যাচে ক্রুজ আজুলের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে অন্তিম সময়ে ফ্রি-কিক থেকে দলের পক্ষে জয়সূচক গোল করে মার্কিন মুলুকে নিজের অভিষেকটা স্মরণীয় করে রাখেন ৩৬ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। এর মাধ্যমে ইন্টার মিয়ামির টানা দেড় মাসের জয়খরা কাটে। আটলান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষে পরের ম্যাচেও মার্কিন ক্লাবটির ৪-০ ব্যবধানে পাওয়া জয়ে শুরু থেকে মেসি নিজে জোড়া গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে একটি গোল করান।

লিওনেল মেসি এখন ইন্টার মিয়ামির জার্সিতে মেজর লিগ সকারে অভিষেকের অপেক্ষায় আছেন। আগামী ২০ আগস্ট শারলটের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো এমএলএস প্রতিযোগিতায় আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের মাঠে নামার কথা রয়েছে। মেসির নতুন গন্তব্য মার্কিন মুলুক হওয়ার পরই এই এমএলএস নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ বেড়েছে, অন্তত মেসি ভক্তদের তো বটেই।

ইউরোপিয়ান ফুটবল থেকে শুরু করে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের ঘরোয়া লিগই সাধারণত একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাটে আয়োজিত হয়। নির্দিষ্ট পরিমাণ দল একে অপরের বিপক্ষে হোম-অ্যাওয়ে ভিত্তিতে দুবার ম্যাচ খেলে ও মৌসুম শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দলই লিগ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে স্বীকৃতি পায়। যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার প্রতিযোগিতাটি এদিক থেকে অনেকটাই আলাদা।

এমএলএস প্রতিযোগিতাটি শুধু ঘরোয়া লিগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না, মেজর সকার লিগে তার পাশাপাশি আরও দুটি প্রতিযোগিতা হয়। ১৯৯৩ সালে মেজর সকার লিগের যাত্রা শুরু। মূলত মেজর সকার লিগের ধারণাটা এসেছিল ১৯৮৮ সালে। ১৯৯৪ বিশ্বকাপ আয়োজনের বিনিময়ে তার বছর ছয়েক আগেই খেলাটির অভিভাবক সংস্থা ফিফাকে প্রথম সারির ফুটবল লিগ চালুর প্রতিশ্রুতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

তবে ১০ দলের অংশগ্রহণে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো মেজর লিগ সকার আয়োজিত হয়। ১৯৯৬ সালের ৩ এপ্রিল স্পার্টান স্টেডিয়ামে ৩১ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে সান জোসে ক্ল্যাশ ও ডিসি ইউনাইটেডের মধ্যকার ম্যাচের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতাটি আলোর মুখ থেকে। ১০ দল নিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে এমএলএসে মোট ২৯টি দল খেলে। এর মধ্যে ২৬টি দল যুক্তরাষ্ট্রের ও তিনটি কানাডার।

লিগ পর্বে ২৯টি দল দুই কনফারেন্সে বিভক্ত হয়ে খেলে; যার একটি ইস্টার্ন কনফারেন্স ও ওয়েস্টার্ন কনফারেন্স। মেজর সকার লিগের চলমান মৌসুমে ইস্টার্ন কনফারেন্সে ১৫টি দল অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলের ১৩টি ও কানাডার দুটি ক্লাব রয়েছে। মেসির ইন্টার মিয়ামি ইস্টার্ন কনফারেন্সের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, ওয়েস্টার্ন কনফারেন্সের দল সংখ্যা ১৪টি। মেজর লিগ সকারের ২৯টি দল হোম-অ্যাওয়ে ভিত্তিতে একে অপরের বিপক্ষে মোট ৩৪টি করে ম্যাচ খেলে।

ইস্টার্ন কনফারেন্সের দলগুলো নিজেদের মধ্যে দুবার করে ও অন্য কনফারেন্সের ছয়টি দলের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলে। পক্ষান্তরে, ওয়েস্টার্ন কনফারেন্সের দলগুলোর ক্ষেত্রেও নিজেদের মধ্যে দুবার করে খেলতে হবে। পাশাপাশি নিজ কনফারেন্সের দলের সঙ্গে একটি বা দুটি বাড়তি ম্যাচও খেলতে হবে। অন্য কনফারেন্সের ৬টি বা ৭টি দলের সঙ্গে একটি করে ম্যাচ খেলে ওয়েস্টার্ন কনফারেন্সের দলগুলো। তবে ২০২০ সালটাই এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম মৌসুম, যেখানে দলগুলো লিগের অন্য প্রতিটি দলের বিপক্ষে খেলেনি।

ইস্টার্ন ও ওয়েস্টার্ন- দুই কনফারেন্সের জন্য পৃথক পয়েন্ট তালিকা যেমন আছে, তেমনি দুই কনফারেন্সের সম্মিলিত একটি পয়েন্ট তালিকাও আছে। ইস্টার্ন ও ওয়েস্টার্ন কনফারেন্সের নিজ নিজ অংশের প্রথম ৯টি করে দল প্লে-অফ পর্বে পা রাখবে। অন্যদিকে, দুই কনফারেন্সের সম্মিলিত পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দল সাপোটার্স শিল্ড পাবে। অর্থাৎ তারা পুরো প্লে-অফ পর্বে নিজেদের ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা পাবে। তবে এই সাপোর্টার্স শিল্ডই এমএলএসের শিরোপার শেষ কথা নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সকার লিগের মতো মেজর লিগ সকারের শিরোপা নির্ধারণের জন্য মৌসুম শেষে একটি নকআউট টুর্নামেন্ট আয়োজিত হয়, যার নাম এমএলএস কাপ। এখানেই মেজর লিগ সকারের সঙ্গে পৃথিবীর অন্যান্য বড় ঘরোয়া লিগের পার্থক্য। অন্যান্য দেশের ঘরোয়া লিগে যেখানে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকলেই মিলবে, সেখানে মেজর লিগ সকারের চ্যাম্পিয়ন হতে চাইলে পেরিয়ে আসতে হবে এমএলএস কাপ প্লে-অফ আর এমএলএস কাপ বাধাও।

২০২৩ সালের ফরম্যাট অনুযায়ী, ইস্টার্ন ও ওয়েস্টার্ন কনফারেন্সের নিজ নিজ অংশের অষ্টম ও নবম দলগুলো ওয়াইল্ড কার্ড ম্যাচ খেলবে। জয়ী দুই দল যার যার অংশের শীর্ষ সাত দলের সঙ্গে যোগ দেবে। এভাবেই এমএলএস কাপ প্লে-অফের ১৮টি দল নির্ধারণ হবে। দুই অংশেই আটটি দল প্লে-অফের প্রথম রাউন্ডে বেস্ট অব থ্রি নকআউট ম্যাচে অংশ নেবে।

এরপর নিজ নিজ কনফারেন্সের সেমিফাইনাল ও ফাইনাল শেষে দুই অংশ থেকে দুই দল এমএলএস কাপ ফাইনালে উঠবে। সেই ফাইনাল শেষেই নির্ধারিত হবে মেজর লিগ সকারের মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন। সাধারণত এমএলএস কাপ প্লে-অফ অক্টোবর-নভেম্বর এবং এমএলএস কাপের ফাইনাল ডিসেম্বরের শুরুতে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত সর্বমোট ১৫টি ক্লাব মেজর লিগ সকারে শিরোপা জিতেছে। এর মধ্যে ৭টি ক্লাব একাধিকবার শিরোপা জেতার স্বাদ পেয়েছে। সর্বোচ্চ ৫টি শিরোপা জিতে মেজর লিগ সকারের সবচেয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সি। দুই কনফারেন্স মিলিয়ে পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে থাকা দলকে দেওয়া সাপোর্টার্স শিল্ডস পুরস্কারও সবচেয়ে বেশিবার জিতেছে তারাই। তবে সমান চারবার সাপোর্টার্স শিল্ডস পুরস্কার জিতে এখানে তাদের অংশীদার ডিসি ইউনাইটেড।

সাপোটার্স শিল্ড নিঃসন্দেহে কোনো দলের শিরোপা জয়ের পথে বড় পদক্ষেপ। তবে সাপোটার্স শিল্ড ছাড়াও ছয়টি ক্লাব মেজর লিগ সকারের শিরোপা জিততে সমর্থ হয়েছে। তারা হলো- হস্টন ডায়নামো এফসি, রিয়েল সল্ট লেক, কলরাডো র‍্যাপিডস, পোর্টল্যান্ড টিম্বার্স, আটলান্টা ইউনাইটেড এফসি ও নিউইয়র্ক সিটি এফসি। এর মধ্যে হস্টন ডায়নামো এফসি দুবার সাপোটার্স শিল্ড ছাড়াইমেজর লিগ সকারের চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছে। 

মেজর লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি। ২০২২ সালের ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় এমএলএস কাপের সর্বশেষ ফাইনালে আয়োজক দল ছিল লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্লাবটিই। তাদের ঘরের মাঠ বাংক অব ক্যালিফোর্নিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি ও ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের মধ্যকার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনালটি নির্ধারিত নব্বই মিনিট শেষে ২-২ গোলে অমিমাংসিত থাকে। অতিরিক্ত সময়েও দুই দল একটি করে গোল করলেও শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচটি গড়ায় টাইব্রেকার নামের লটারিতে। সেখানে ফিলাডেলফিয়াকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি।

About

Popular Links