Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রেকর্ডের পাতায় এশিয়া কাপ

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যেমন এশিয়া কাপের ব্যাপ্তি বেড়েছে, বেড়েছে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যাও

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৩, ০৯:২৫ এএম

সত্তরের দশক পর্যন্ত ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ ভার ছিল যুক্তরাজ্যের হাতে। আশির দশকের প্রথমভাগে ব্রিটিশদের হাত থেকে খেলাটিকে বের করে আনতে জোটবদ্ধ হয় তিন টেস্ট খেলুড়ে দেশ ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। সেই সূত্র ধরেই গড়ে ওঠে এশিয়ান ক্রিকেট কনফারেন্স; যা বর্তমানে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) নামে পরিচিত।

এসিসি গঠনের পরের বছরই অর্থাৎ ১৯৮৪ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয় এশিয়া কাপ। প্রথম আসরে শুধুমাত্র ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা অংশ নিয়েছিল। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যেমন এশিয়া কাপ প্রতিযোগিতার ব্যাপ্তি বেড়েছে, বেড়েছে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যাও।

শুরুতে শুধু ওয়ানডে সংস্করণে আয়োজিত হলেও ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এশিয়া কাপ আয়োজিত হয়। তখন থেকে সিদ্ধান্ত হয়, যে বছর যে সংস্করণের বিশ্বকাপ হবে, তার আগের এশিয়া কাপ হয় সেই সংস্করণে। যেহেতু ২০২৩ সালে একদিনের ক্রিকেটের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে, তাই স্বাভাবিকভাবেই এবারের এশিয়া কাপ আয়োজিত হবে ওয়ানডে ফরম্যাটে।

আগামী ৩০ আগস্ট থেকে শুরু হবে ২০২৩ সালের এশিয়া কাপ। ছয় দলের অংশগ্রহণে এবারের এশিয়া কাপে মোট ১৩টি ম্যাচ হবে। এশিয়া কাপ শুরু হওয়ার আর এক সপ্তাহও বাকি নেই। বিশ্বকাপের আয়োজন উপমহাদেশে হওয়ায় এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই পাচ্ছে বাড়তি গুরুত্ব। চলুন এশিয়া কাপের আসর মাঠে গড়ানোর আগে টুর্নামেন্টের রেকর্ডের পাতা থেকে একটু চোখ বুলিয়ে আসি-

সর্বোচ্চ অংশগ্রহণ

এশিয়া কাপের আয়োজিত ১৫টি আসরের সবগুলোতেই অংশ নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। লঙ্কানরা ব্যতিত আর কোনো দলেরই এই কীর্তি নেই। এছাড়া ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ তিন দলই ১৪টি আসরে অংশ নিয়েছে।

সফলতম দল

এখন পর্যন্ত আয়োজিত এশিয়া কাপের ১৫টি আসরের মধ্যে ৭ বার শিরোপা জিতেছে ভারত, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ১৯৮৪, ১৯৮৮, ১৯৯১, ১৯৯৫, ২০১০, ২০১৬ ও ২০১৮ সালে এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন হয় ভারতীয়রা।

সর্বোচ্চ আয়োজন

সবচেয়ে বেশিবার এশিয়া কাপ আয়োজনের রেকর্ডটা বাংলাদেশের দখলে। এখন পর্যন্ত পাঁচবার বাংলাদেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এশিয়ার ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠত্বের আসর। এ পর্যন্ত ১৯৮৮, ২০০০, ২০১২, ২০১৪ ও ২০১৬ সালে এশিয়া কাপের স্বাগতিক ছিল বাংলাদেশ।

সর্বোচ্চ ম্যাচ জয়

শিরোপা জয়ের নিরিখে এশিয়া কাপের সফলতম দল হলেও টুর্নামেন্টের ওয়ানডে ফরম্যাটে সর্বোচ্চ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড শ্রীলঙ্কার। এখন পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতায় ৩৪টি ম্যাচ জিতেছে দ্বীপরাষ্ট্রটি। এছাড়া, ভারত ৩১টি ও পাকিস্তান ২৬টি ম্যাচ জিতেছে।

সর্বোচ্চ ম্যাচ

এশিয়া কাপের ওয়ানডে ফরম্যাটে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ডের মালিক শ্রীলঙ্কার মাহেলা জয়াবর্ধনে। ২০০০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এশিয়ার ক্রিকেট শ্রেষ্ঠত্বের আসরে ২৮টি ম্যাচে মাঠে নেমেছেন সাবেক এই লঙ্কান অধিনায়ক ও ব্যাটার।  

সফলতম ব্যাটার

ওয়ানডে ফরম্যাটে আয়োজিত এশিয়া কাপে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি রয়েছে শ্রীলঙ্কার সাবেক ওপেনার সনাৎ জয়াসুরিয়ার দখলে। এই টুর্নামেন্টে ২৫ ম্যাচ খেলে ২৪ ইনিংসে ব্যাট হাতে নেমে ৫৩.০৪ গড়ে ১,২২০ রান করেছেন মাতারা হারিকেন খ্যাত এই বাঁহাতি ব্যাটার।

সফলতম বোলার

এশিয়া কাপের ওয়ানডে ফরম্যাটে বল হাতে সবচেয়ে সফল বোলারের নাম মুত্তিয়া মুরালিধরন। কিংবদন্তি এই লঙ্কান অফ স্পিনার নিজের ঘূর্ণি জাদুতে ২৪ ম্যাচ খেলে ৩.৭৫ ইকোনমি রেটে ৩০ উইকেট শিকার করেছেন।

সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি

ওয়ানডে ফরম্যাটে আয়োজিত এশিয়া কাপে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি এসেছে শ্রীলঙ্কার সনাৎ জয়াসুরিয়ার ব্যাট থেকে। মহাদেশীয় এই প্রতিযোগিতায় ৬টি শতক হাঁকিয়েছেন বিধ্বংসী সাবেক এই বাঁহাতি লঙ্কান ওপেনার।

সর্বোচ্চ ফাইফার

এশিয়া কাপের ওয়ানডে ফরম্যাটে সর্বোচ্চ ফাইফার অর্থাৎ ইনিংসে পাঁচ উইকেটে নেওয়ার কৃতিত্ব শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গার। বাহারি রঙের ঝাঁকড়া চুলের জন্য বিখ্যাত সাবেক এই লঙ্কান পেসার টুর্নামেন্টে তিনবার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন।

সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ

ওয়ানডে ফরম্যাটের এশিয়া কাপের মঞ্চে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ডটি দুবারের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানের। ২০১০ সালে ভারতে আয়োজিত আসরে বাংলাদেশের বিপক্ষে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩৮৫ রান করে এই রেকর্ড গড়েছিল পাকিস্তান।

সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ

এশিয়া কাপের ওয়ানডে সংস্করণের মতো সর্বনিম্ন সংগ্রহেও জড়িয়ে আছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নাম। তবে এক্ষেত্রে লজ্জাজনক রেকর্ডটা রয়েছে টাইগারদের দখলে। ২০০০ সালে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠেয় সেই আসরে পাকিস্তানের ছুঁড়ে দেওয়া ৩২১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৮৭ রানেই অলআউট হয় বাংলাদেশ।

সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর

ওয়ানডে ফরম্যাটের এশিয়া কাপে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোরের রেকর্ড ভারতের ভিরাট কোহলির। ২০১২ সালে বাংলাদেশে আয়োজিত সেই আসরে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে হাইস্কোরিং ম্যাচে ১৪৮ বলে ২২ চার ও এক ছক্কায় ১৮৩ রান করেন কোহলি। ডানহাতি এ ব্যাটারের শতকের সুবাদে ১৩ বল হাতে রেখেই পাকিস্তানের ছুঁড়ে দেওয়া ৩৩০ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ভারতীয়রা।

সেরা বোলিং ফিগার

এশিয়া কাপের মঞ্চে সেরা বোলিং ফিগারের মালিক শ্রীলঙ্কার অজন্তা মেন্ডিস। ২০০৮ সালে পাকিস্তানে আয়োজিত সেই আসরের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে মাত্র ১৩ রানের বিনিময়ে ৬ উইকেট শিকার করেছিলেন এই অফ স্পিনার। বল হাতে ফাইনালে ম্যাচসেরা মেন্ডিসের অসামান্য এই নৈপুণ্যে সেই আসরের শিরোপা জেতে লঙ্কানরা।

সর্বোচ্চ ডিসমিসাল

উইকেটরক্ষকদের মধ্যে এশিয়া কাপে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ডটি ভাগাভাগি করছেন ভারতের মহেন্দ্র সিং ধোনি ও শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারা। এই প্রতিযোগিতায় দুই কিংবদন্তি উইকেটরক্ষকের ডিসমিসাল সংখ্যা ৩৬। এর মধ্যে ধোনি ২৫টি ক্যাচ গ্লাভসবন্দি করার সঙ্গে ১১টি স্টাম্পিং করেছেন। অন্যদিকে, সাঙ্গাকারা ২৭টি ক্যাচ লুফে নেওয়ার পাশাপাশি করেছেন ৯টি স্টাম্পিং।

সর্বোচ্চ ক্যাচ

ফিল্ডারদের মধ্যে এশিয়া কাপের সর্বোচ্চ রেকর্ডটি রয়েছে শ্রীলঙ্কার মাহেলা জয়াবর্ধনের দখলে। এশিয়ান ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠত্বের এই আসরে ১৫টি ক্যাচ তালুবন্দি করেছেন এই লঙ্কান কিংবদন্তি।

এক আসরে সর্বোচ্চ রান

সর্বোচ্চ রান ও সেঞ্চুরির মতো এশিয়া কাপের এক আসরে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ডও রয়েছে সনাৎ জয়াসুরিয়ার দখলে। পাকিস্তানে আয়োজিত ২০০৮ সালের এশিয়া কাপে এই বাহাঁতি লঙ্কান ওপেনারের ব্যাট থেকে ৪৪টি বাউন্ডারি ও ১৬টি ছক্কার মাধ্যমে ৭৫.৬০ গড়ে এসেছিল ৩৭৮ রান, যার মধ্যে ছিল দুটি শতক আর একটি অর্ধশতক।

এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেট

এশিয়া কাপের এক আসরে সবচেয়ে বেশি উইকেটের রেকর্ডটাও শ্রীলঙ্কার এক বোলারের দখলে। ২০০৮ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় এশিয়া কাপে ১৭টি উইকেট নিয়ে এই রেকর্ডের মালিক হন অজন্তা মেন্ডিস। সেই আসরে গ্রুপপর্বে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ৫টি, সুপার ফোরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪টি ও ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ৬টি উইকেট নেন এই লঙ্কান স্পিনার।

সর্বোচ্চ রানের জুটি

এশিয়া কাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের জুটিটি গড়েছেন পাকিস্তানের মোহাম্মদ হাফিজ ও নাসির জামশেদ। বাংলাদেশে ২০১২ সালে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে উদ্বোধনী জুটিতে ২২৪ রান করেন দুই পাকিস্তানি ওপেনার। ওই ম্যাচে হাফিজ ও জামশেদ দুজনের ব্যাট থেকেই সেঞ্চুরি এসেছিল।

About

Popular Links